কলকাতার নিউমার্কেট এলাকায় দীর্ঘ প্রায় ২২ মাস বাংলাদেশিদের ট্যুরিস্ট ভিসা বন্ধ থাকায় স্থানীয় ব্যবসায় দেখা দেয় বড় ধরনের মন্দা। ধাপে ধাপে মেডিকেল, শিক্ষার্থী, ব্যবসা ও এন্ট্রি ভিসা চালু হলেও ট্যুরিস্ট ভিসা বন্ধ থাকায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় পর্যটননির্ভর এই বাণিজ্যিক এলাকা।
করোনা পরবর্তী সময় এবং ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর ভারত–বাংলাদেশ কূটনৈতিক সম্পর্কে টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সম্পর্ক আরও জটিল হলে নিউমার্কেটের ব্যবসায়িক কার্যক্রমে ধস নামে। একে একে বন্ধ হয়ে যায় মানি এক্সচেঞ্জ কাউন্টার, আবাসিক হোটেল, রেস্তোরাঁ ও যাত্রীবাহী বাস সার্ভিস।
আরও পড়ুন: মমতাকে সরিয়ে তৃণমূলের নতুন চেয়ারম্যান অরূপ রায়
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একসময় নিউমার্কেট এলাকায় সেন্টমার্টিন পরিবহনের বাস কাউন্টার বন্ধ হয়ে সেখানে কাপড়ের ব্যবসা শুরু হলেও সেটিও এখন বন্ধ হয়ে গেছে। প্রায় ২০০টি আবাসিক হোটেলের মধ্যে অন্তত ৩৯টি ইতোমধ্যে বন্ধ, বাকি হোটেলগুলোও লোকসানে চলছিল। একইভাবে অন্তত ১০টি মানি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠান কার্যক্রম গুটিয়ে নেয়।
পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি ঘটে সাম্প্রতিক সময়ে মেডিকেল ভিসা পুরোপুরি চালু হওয়ায়। তবে ট্যুরিস্ট ভিসা বন্ধ থাকায় নিউমার্কেটের আগের চাঞ্চল্য আর ফিরে আসেনি।
এ অবস্থার মধ্যেই বৃহস্পতিবার বাংলাদেশিদের জন্য ট্যুরিস্ট ভিসা চালুর ঘোষণা দেয় ভারতীয় হাইকমিশন। এতে ‘মিনি বাংলাদেশ’ নামে পরিচিত নিউমার্কেট এলাকায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে স্বস্তি ও আশার সঞ্চার হয়েছে।
আরও পড়ুন: ভারতে কোচিং সেন্টারে ভয়াবহ আগুন, শিক্ষার্থীসহ নিহত ১৫
নিউমার্কেট থেকে পেট্রাপোল সীমান্ত পর্যন্ত পরিচালিত আটটি পরিবহন সংস্থার মধ্যে একসময় যাত্রীসংকটে বাস চলাচল প্রায় অচল হয়ে পড়ে। কোনো কোনো রুটে আট দিন পরপর একটি বাস চলার মতো পরিস্থিতিও তৈরি হয়। গ্রিন লাইন পরিবহনের কর্তৃপক্ষ জানান, কর্মীসংকট ও লোকসানের কারণে কর্মী সংখ্যা অর্ধেকে নেমে আসে। তবে ট্যুরিস্ট ভিসা চালু হলে ব্যবসা পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি আগের কর্মীদেরও ফিরিয়ে আনার আশা করছেন তিনি।
ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, নতুন সিদ্ধান্ত কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে নিউমার্কেট এলাকায় পর্যটনভিত্তিক বাণিজ্য আবারও প্রাণ ফিরে পেতে পারে।

