হরমুজ সংকটে বৈশ্বিক ত্রাণ কার্যক্রম বিপর্যস্ত, মানবিক করিডরের আহ্বান

জিটি ডেস্ক

প্রকাশ:

মানবিক সহায়তা কার্যক্রম সচল রাখতে হরমুজ প্রণালিতে একটি ‘মানবিক করিডোর’ খোলার দাবি
মানবিক সহায়তা কার্যক্রম সচল রাখতে হরমুজ প্রণালিতে একটি ‘মানবিক করিডোর’ খোলার দাবি|ছবি: সংগৃহীত

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বিশ্বজুড়ে খাদ্য ও চিকিৎসাসামগ্রী সরবরাহে মারাত্মক সংকট দেখা দিয়েছে। তেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় পরিবহন ব্যয় বেড়েছে কয়েকগুণ, যার সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ছে দরিদ্র ও সংকটাপন্ন জনগোষ্ঠীর ওপর।

এই পরিস্থিতিতে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম সচল রাখতে হরমুজ প্রণালিতে একটি ‘মানবিক করিডোর’ খোলার জোর দাবি জানিয়েছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থা।

ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটির (আইআরসি) জরুরি বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট বব কিচেন বলেন, মানবিক করিডোর নিয়ে এখনই জরুরি আলোচনা প্রয়োজন। অন্তত যাতে আটকে থাকা ত্রাণসামগ্রী দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছানো যায়, সে ব্যবস্থা করতে হবে।

আরও পড়ুন: হরমুজ প্রণালিতে ইরানি তেলবাহী জাহাজ জব্দ করল যুক্তরাষ্ট্র

তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে অনেক হাসপাতালের জরুরি কার্যক্রম চালু রাখতে বিদ্যুৎ সরবরাহও বন্ধ করতে হতে পারে।

অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিসহ বিভিন্ন সংস্থা জানিয়েছে, জ্বালানির উচ্চমূল্য তাদের ত্রাণ কার্যক্রমে বড় ধরনের বাধা সৃষ্টি করছে। সংস্থাটির পরিচালক সিসিল তেরাজ বলেন, তেলের দাম বৃদ্ধি মানুষের জীবন ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রম উভয়ের ওপরই নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

চলতি বছরের শুরুতে সংঘাতের পর হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে সীমাবদ্ধতা তৈরি হলে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৬০ ডলার থেকে বেড়ে প্রায় ১২০ ডলারে পৌঁছায়। বর্তমানে তা কিছুটা কমে প্রায় ১১১ ডলারে থাকলেও বিশ্ববাজারে জ্বালানি, খাদ্য, সার ও ওষুধের দাম এখনো ঊর্ধ্বমুখী।

সেভ দ্য চিলড্রেনের গ্লোবাল সাপ্লাই ডিরেক্টর উইলেম জুয়েডমা বলেন, একদিকে ত্রাণ বাজেট কমছে, অন্যদিকে সংঘাতের কারণে প্রতিটি খাদ্য ও ওষুধ সরবরাহের খরচ বেড়ে যাচ্ছে ফলে দ্বিগুণ চাপ তৈরি হয়েছে।

আরও পড়ুন: হরমুজ প্রণালিতে দুই বাণিজ্যিক জাহাজে আইআরজিসির হামলা

ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রামের (ডব্লিউএফপি) তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বে ৩ কোটি ১৮ লাখ মানুষ খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে এবং আরও কয়েক কোটি মানুষ নতুন করে ঝুঁকিতে রয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে আগামী মাসগুলোতে প্রায় ১৫ লাখ মানুষের কাছে সহায়তা পৌঁছানো সম্ভব নাও হতে পারে।

পরিবহন সংকটের কারণে দীর্ঘ ও ঝুঁকিপূর্ণ পথ ব্যবহার করতে হচ্ছে ত্রাণবাহী জাহাজগুলোকে, ফলে সময় ও খরচ—দুটিই বেড়ে গেছে কয়েকগুণ। আফগানিস্তান, ইয়েমেন ও সোমালিয়ার মতো দেশগুলোতে খাদ্য ও ওষুধের দামও ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, বিশ্বের বড় অংশে বীজ ও সার পরিবহন হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় সংকট দীর্ঘ হলে খাদ্য উৎপাদন ও বৈশ্বিক খাদ্য নিরাপত্তা আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।

মন্তব্য (0)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!