ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে অনিয়মিতভাবে যুক্তরাজ্যে যাওয়ার চেষ্টার সময় একটি নৌকায় আগুন লাগার পর ১৭৩ জন অভিবাসীকে উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার ফ্রান্সের উপকূলের কাছে এ উদ্ধার অভিযান চালানো হয়।
ফরাসি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই নৌকাটি ফরাসি ও ব্রিটিশ জলসীমার মাঝামাঝি পৌঁছালে এর ইঞ্জিনে আগুন ধরে যায়। এতে নৌকায় থাকা অনেকেই পানিতে ঝাঁপ দিতে বাধ্য হন।
এরপর বড় ধরনের উদ্ধার অভিযানে ব্রিটিশ নৌযানসহ কয়েকটি জাহাজ অংশ নেয়। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের বুলন-সুর-মের বন্দরে নেওয়া হয়। সেখানে লাল কম্বল দিয়ে তাদের প্রাথমিক সহায়তা দেওয়া হয় এবং পরে বাসে করে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়।
আরও পড়ুন: গুমের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড, আইনের খসড়া অনুমোদন
ফরাসি কর্তৃপক্ষ জানায়, নৌকাটি সোমবার রাতে উত্তর ফ্রান্সের উপকূল থেকে যাত্রা শুরু করেছিল। প্রথমে পাঁচজন যাত্রীকে উদ্ধার করে বন্দরে নেওয়া হলেও অন্যরা শুরুতে উদ্ধারকারীদের সহায়তা নিতে অস্বীকৃতি জানান।
অভিবাসীদের সহায়তাকারী সংগঠন ইতুপিয়া ৫৬ জানিয়েছে, নৌকাটিতে থাকা প্রায় ৫০ জন নারী ও শিশু পরে উত্তর ফ্রান্সের কালে শহরে পৌঁছেছেন। তবে তাদের জন্য জরুরি আবাসনের ব্যবস্থা ছিল না।
২০১৮ সালে ছোট নৌকায় ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দেওয়ার প্রবণতা শুরু হওয়ার পর এটি অন্যতম বড় সমুদ্র উদ্ধার অভিযান। গত ২৩ জুলাই প্রথমবারের মতো ১৫০ জনের বেশি যাত্রী নিয়ে একটি নৌকা ব্রিটিশ জলসীমায় পৌঁছেছিল।
ব্রিটিশ বিচারমন্ত্রী অ্যালেক্স নরিস বলেন, এই ঘটনা অনিয়মিত চ্যানেল পারাপার কতটা ঝুঁকিপূর্ণ এবং মানবপাচারকারীরা মানুষের জীবন নিয়ে কতটা উদাসীন, তা আবারও প্রমাণ করেছে।
আরও পড়ুন: ঢাবির আন্ডারগ্র্যাজুয়েট ভর্তি আবেদন শুরু ১১ নভেম্বর
চলতি বছরের এপ্রিলে অনিয়মিত পারাপার ঠেকাতে ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে নতুন একটি চুক্তি হয়। একই সময়ে ইংলিশ চ্যানেলে আগের তুলনায় বড় আকারের নৌকার ব্যবহার এবং প্রতিটি নৌকায় যাত্রীর সংখ্যা বেড়েছে বলে জানিয়েছে ফরাসি কর্তৃপক্ষ।
এদিকে ব্রিটেনের অভিবাসনবিরোধী দল রিফর্ম ইউকের দাবি, মঙ্গলবারের উদ্ধার অভিযানে ব্রিটিশ নৌযানের অংশগ্রহণ তাদের প্রস্তাবিত পরিকল্পনার কার্যকারিতা প্রমাণ করেছে। দলটি ইংলিশ চ্যানেলে অনিয়মিত পারাপার ঠেকাতে রয়্যাল নেভি মোতায়েনের প্রস্তাব দিয়েছে।

