ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধ ও জ্বালানি সংকটের জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকেই দায়ী করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও সিআইএ পরিচালক লিওন প্যানেটা।
এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু করার সময় হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট বন্ধ হয়ে যেতে পারে—এই ঝুঁকির বিষয়টি মার্কিন প্রশাসন যথাযথভাবে বিবেচনায় নেয়নি। এখন সেই সিদ্ধান্তের ফল ভোগ করতে হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রকে।
প্যানেটার মতে, ‘ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে গেলে হরমুজ প্রণালি বড় দুর্বলতা হয়ে দাঁড়াতে পারে—এটা নতুন কিছু নয়। কিন্তু বর্তমান প্রশাসন হয় বিষয়টি গুরুত্ব দেয়নি, নয়তো ভেবেছিল যুদ্ধ দ্রুত শেষ হবে।’
আরও পড়ুন: ‘শত্রুরাষ্ট্র’ ছাড়া হরমুজ সবার জন্য খোলা, ফের জানাল ইরান
তিনি বলেন, যুদ্ধ শুরুর পর পরিস্থিতি উল্টো আরও জটিল হয়েছে। ইরান পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে, যার ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
প্যানেটা আরও বলেন, ট্রাম্প এখন ‘কঠিন এক অবস্থায়’ রয়েছেন—একদিকে যুদ্ধ আরও বিস্তৃত করার ঝুঁকি, অন্যদিকে যুদ্ধ থেকে সরে এলে ব্যর্থতার দায় স্বীকার করতে হবে।
তাঁর মতে, এই সংকটের সমাধান সহজ নয়। হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে সামরিক পদক্ষেপ নিলে যুদ্ধ আরও বিস্তৃত হতে পারে, আবার কোনো পদক্ষেপ না নিলে অর্থনৈতিক ক্ষতি বাড়তেই থাকবে।
আরও পড়ুন: হরমুজ প্রণালি পারাপারে ইরান জাহাজপ্রতি নিচ্ছে ২০ লাখ ডলার
সাবেক এই মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, ‘এ অবস্থার জন্য অন্য কেউ দায়ী নয়—এটি ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্তের ফল।’
তিনি আরও অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের সঙ্গে যথাযথ সমন্বয় না করেই এই যুদ্ধ শুরু করা হয়েছে, যা এখন ওয়াশিংটনের জন্য কূটনৈতিকভাবে সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত শুধু সামরিক নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতি, জ্বালানি বাজার এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।

