পাকিস্তানের ‘হানিট্র্যাপ’: গ্রেপ্তার ভারতীয় বিমানবাহিনীর পাইলট

জিটি ডেস্ক

প্রকাশ:

ভারতীয় বিমানবাহিনীর (আইএএফ) ৪৪ বছর বয়সী এক উইং কমান্ডারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে
ভারতীয় বিমানবাহিনীর (আইএএফ) ৪৪ বছর বয়সী এক উইং কমান্ডারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে|ছবি: সংগৃহীত

পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থার নারী এজেন্টের পাতা ‘হানিট্র্যাপ’ বা প্রেমের ফাঁদে পড়ে সংবেদনশীল তথ্য ফাঁসের অভিযোগে ভারতীয় বিমানবাহিনীর (আইএএফ) ৪৪ বছর বয়সী এক উইং কমান্ডারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দিল্লির বিশেষ পুলিশ ও বিমানবাহিনীর কাউন্টার-ইন্টেলিজেন্স উইংয়ের যৌথ অভিযানে গত ৩০ মে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ঘটনার তদন্ত শেষে গত ৩০ জুলাই দিল্লির একটি আদালতে ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তিনি দিল্লির তিহার কারাগারে বিচার বিভাগীয় হেফাজতে রয়েছেন।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশ জাতীয় দলে সাকিবের আর ফেরার সুযোগ নেই: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে শনিবার (৮ আগস্ট) এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, প্রায় দুই মাস আগে ওই পাইলটকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। তার বিরুদ্ধে অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টের অধীনে অভিযোগ আনা হয়েছে। গ্রেপ্তারের পর তিনি জামিনের জন্য কোনো আবেদন করেননি।

বিমানবাহিনী কর্তৃপক্ষ ওই উইং কমান্ডারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পুলিশকে অবহিত করে। এরপর পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করে। আদালত পরে তাকে তিহার কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

বিমানবাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চাকরিরত ওই পাইলটকে গত ৩০ মে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে বিমানবাহিনী জানতে পারে, তিনি পাকিস্তানি এক নারী গোয়েন্দা এজেন্টের ‘হানিট্র্যাপে’ পড়েছেন।

আরও পড়ুন: শেখ হাসিনাকে অস্থিরতা সৃষ্টির সুযোগ দিয়েছে ভারত: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

তদন্তকারীরা ধারণা করছেন, ওই পাইলট পাকিস্তানের একটি বড় গোয়েন্দা নেটওয়ার্কের কবলে পড়েছিলেন। পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই নারী এজেন্টের সঙ্গে তার যোগাযোগ হয়। সে সময় তিনি মানসিকভাবে কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন। ওই নারীর বার্তায় সাড়া দেওয়ার পর তাদের মধ্যে নিয়মিত মেসেজ আদান-প্রদান এবং ভিডিও কল শুরু হয়। একপর্যায়ে তিনি বিভিন্ন ধরনের গোয়েন্দা তথ্য ফাঁস করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

তবে ঠিক কী ধরনের তথ্য ফাঁস করা হয়েছে, তা প্রকাশ করা হয়নি। তদন্তসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ফাঁস হওয়া তথ্যগুলো কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

এদিকে ভারতীয় তদন্তকারীরা একটি মোবাইল অ্যাপের বিষয়েও তদন্ত করছেন। গ্রেপ্তার ওই পাইলট তার এক সহকর্মীকে অ্যাপটি ইনস্টল করে দিতে বলেছিলেন। তদন্তকারীদের ধারণা, ওই অ্যাপের মাধ্যমে পাকিস্তানি গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক তার মোবাইল ফোনে প্রবেশাধিকার পেয়েছিল।

মন্তব্য (0)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!