সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে একটি অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার পর সাকিব আল হাসানের আর বাংলাদেশ জাতীয় দলে ফেরার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।
বুধবার নয়াদিল্লি থেকে শেখ হাসিনার একটি অনুষ্ঠানে টেলিফোনে যুক্ত হন সাকিব। এরপর জাতীয় দলে তাঁর ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। বর্তমানে শ্রীলঙ্কায় অবস্থানরত সাকিবের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীদের ওপর প্রাণঘাতী দমন-পীড়নের ঘটনায় করা হত্যা মামলার তদন্ত চলছে।
ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জানান, সাকিবের বিষয়ে সরকার আগে তুলনামূলক নমনীয় অবস্থানে ছিল। তবে শেখ হাসিনার সঙ্গে ওই অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার পর সেই অবস্থান ধরে রাখার আর সুযোগ নেই।
আরও পড়ুনঃ বাবাকে হারালেন আর্জেন্টাইন জাদুকর লিওনেল মেসি
আমিনুল হক বলেন, ‘আমরা বিষয়টি যথেষ্ট নমনীয়তা ও সহনশীলতার সঙ্গে বিবেচনা করছিলাম। কিন্তু এরপর আর সেভাবে বিষয়টি দেখার কোনো সুযোগ আছে বলে আমি মনে করি না।’
তিনি আরও বলেন, ‘যে ব্যক্তি স্বৈরাচারের সঙ্গে একই মঞ্চে উঠেছেন, তার আর ফিরে আসার কোনো সুযোগ নেই।’
বুধবারের অনুষ্ঠানে সাকিবের অংশগ্রহণের পর দেশে তাঁকে ঘিরে নতুন করে ক্ষোভ তৈরি হয়। পরে সাকিব দাবি করেন, এ ঘটনার জেরে তাঁর বাড়িতে পেট্রলবোমা হামলা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সাকিব জানান, হত্যা মামলাসহ তাঁর বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগের বিচার মোকাবিলা করতে তিনি শ্রীলঙ্কা থেকে বাংলাদেশে ফিরতে প্রস্তুত। নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হলে দেশে ফিরে বিচারের মুখোমুখি হতেও তিনি রাজি।
একই সঙ্গে ২০২৭ সালের বিশ্বকাপে বাংলাদেশের হয়ে খেলার আশাও প্রকাশ করেছেন সাকিব।
আরও পড়ুনঃ আর কত গোল করলে ১০০০ গোলের মাইলফলকে পৌঁছাবেন মেসি-রোনালদো
বাংলাদেশের সবচেয়ে সফল ক্রিকেটারদের একজন সাকিব জাতীয় দলের হয়ে ৪০০টির বেশি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন এবং পাঁচটি বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছেন।
২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে ভারতের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টের পর তিনি অবসরের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন। পরে অবশ্য অবসরের আগে একটি পূর্ণাঙ্গ সিরিজ খেলার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। চলতি বছরের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডও জানিয়েছিল, সাকিব আবার খেলতে পারবেন।

