ছয় দফা দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা

জিটি রিপোর্ট

প্রকাশ:

ঢাবির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ছয় দফা দাবিতে আন্দোলনে নামেন
ঢাবির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ছয় দফা দাবিতে আন্দোলনে নামেন|ছবি: সংগৃহীত

ছয় দফা দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। বুধবার (২৯ এপ্রিল) তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারকে অবরুদ্ধ করে স্মারকলিপি দেন এবং দাবি বাস্তবায়নে আল্টিমেটাম ঘোষণা করেন। দাবি পূরণ না হলে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারিও দেন তারা।

এ কর্মসূচির আয়োজন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের চারটি সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত ‘কর্মচারী ঐক্যপরিষদ’। তাদের প্রধান দাবি হলো, 'আগামী ১৫ মে তারিখের মধ্যে সহকারী রেজিস্ট্রার ও সমমানের পদ থেকে ডেপুটি রেজিস্ট্রার বা সমমানের পদে ১৮৭ কর্মকর্তার পদোন্নতি সম্পন্ন করা।'

আরও পড়ুন: ৬ মাসের মধ্যে সাড়ে ১০ হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফ্রি ওয়াই-ফাই চালু হবে

এছাড়া ২০২৫ সালের পদোন্নতির আবেদন দ্রুত আহ্বান, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরির বয়সসীমা ৬২ বছরে উন্নীত করা, আন্তর্জাতিক শ্রম আইন অনুযায়ী বিদ্যমান সুবিধা বহাল রেখে পদোন্নতি নীতিমালায় নতুন সুবিধা সংযোজন, প্রশাসনিক ভবনের ক্যান্টিন চালু এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ অব্যাহত রাখার দাবিও জানানো হয়।

আন্দোলনরতরা বলেন, 'দাবি বাস্তবায়নে প্রশাসন কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে আগামী ৩ মে পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত বিক্ষোভ সমাবেশ চলবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে সৃষ্ট পরিস্থিতির দায় প্রশাসনকে নিতে হবে বলেও জানান তারা। একই দাবিতে উপাচার্য, উপ-উপাচার্যদ্বয়, কোষাধ্যক্ষ ও প্রক্টরের কাছেও স্মারকলিপি দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।'

আরও পড়ুন: প্রতিমন্ত্রীর বৈঠকে ফল শূন্য, আন্দোলনে অটল প্রাথমিক শিক্ষকরা

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মুনসী শামস উদ্দিন আহম্মদ বলেন, 'প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী সহকারী রেজিস্ট্রার থেকে ডেপুটি রেজিস্ট্রার পদে এক-তৃতীয়াংশ হারে পদোন্নতি দেওয়া হয়। তবে অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন আবেদনকারী ১৮৭ কর্মকর্তার সবাইকে পদোন্নতির দাবি জানিয়ে আসছে।'

বিষয়টি নিয়ে আগের প্রশাসন একটি টেকনিক্যাল কমিটি গঠন করেছিল। কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে সিন্ডিকেট ভাইভা বোর্ডের মাধ্যমে পদোন্নতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় এবং গত ১৬ ফেব্রুয়ারি ভাইভা বোর্ডের তারিখও নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু ১০ ফেব্রুয়ারি সিন্ডিকেট সভার পর তৎকালীন উপাচার্যের পদত্যাগের ঘোষণার কারণে নিয়োগ ও পদোন্নতি বোর্ডের কার্যক্রম স্থগিত হয়ে যায় বলে জানিয়েছেন রেজিস্ট্রার মুনসী শামস উদ্দিন আহম্মদ।

আরও পড়ুন: শিক্ষা খাতে ৪৩টি ক্ষেত্র চিহ্নিত করে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে

বর্তমান উপাচার্যের কাছে অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন পুনরায় আবেদন করেছে উল্লেখ করে রেজিস্ট্রার বলেন, পুরো বিষয়টি বিস্তারিতভাবে উপাচার্যের কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে। উপাচার্য সময় নির্ধারণ করলেই ভাইভা বোর্ড অনুষ্ঠিত হবে। এ ক্ষেত্রে রেজিস্ট্রারের পক্ষ থেকে কোনো অসহযোগিতার সুযোগ নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মন্তব্য (0)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!