আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য ফেলেশিপের সুযোগ দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয় স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটি। ফুল ফান্ডেড এই ফেলোশিপের অধীনে বছরে প্রায় ১ কোটি ২১ লাখ টাকা স্টাইপেন্ড, গবেষণা ও পেশাগত উন্নয়নে আরও অর্থ এবং স্থানান্তর ব্যয়ের জন্য আলাদা সহায়তা প্রদান করবে প্রতিষ্ঠানটি। প্রাকৃতিক বিজ্ঞানে মৌলিক গবেষণায় আগ্রহী ক্যারিয়ারের শুরুর পর্যায়ের বিজ্ঞানীদের জন্য এই সুযোগ দিচ্ছে স্ট্যানফোর্ড সায়েন্স ফেলোশিপ। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নাগরিকেরা এই ফেলোশিপে আবেদন করতে পারবেন।
যেসব বিষয়ে গবেষণার সুযোগ
স্ট্যানফোর্ড সায়েন্স ফেলোশিপের আওতায় প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় মৌলিক পরীক্ষামূলক ও তাত্ত্বিক গবেষণা করা যাবে। এর মধ্যে রয়েছে জ্যোতির্বিজ্ঞান ও অ্যাস্ট্রোফিজিকস, জীববিজ্ঞান, পরীক্ষামূলক রসায়ন, পৃথিবী ও মহাসাগরবিজ্ঞান, গণিত ও পরিসংখ্যান, পরীক্ষামূলক পদার্থবিজ্ঞান এবং থিওরি ও সিমুলেশন।
ফেলোরা স্ট্যানফোর্ডের বিভিন্ন স্কুলের ফ্যাকাল্টি গবেষণা দলের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পাবেন। গবেষণার ধরন অনুযায়ী স্ট্যানফোর্ডের হিউম্যানিটিজ অ্যান্ড সায়েন্সেস, ইঞ্জিনিয়ারিং, মেডিসিন ও ডোয়ের স্কুল অব সাসটেইনেবিলিটির বিভিন্ন গবেষণা সুবিধা ব্যবহারের সুযোগও থাকবে।
ফেলোশিপে যেসব সুবিধা
নির্বাচিত ফেলোরা বছরে ৯৮ হাজার ডলার স্টাইপেন্ড পাবেন। বর্তমান হিসাবে বাংলাদেশি মুদ্রায় এটি প্রায় ১ কোটি ২১ লাখ টাকা। এর বাইরে স্ট্যানফোর্ড বছরে সর্বোচ্চ ১০ হাজার ডলার (১২ লাখ ৩৯ হাজার) গবেষণা ও পেশাগত উন্নয়নের জন্য দেবে। এককালীন স্থানান্তর ব্যয়ের জন্য পাওয়া যাবে সর্বোচ্চ ২ হাজার ৫০০ ডলার (৩ লাখ ৯ হাজার )।
যোগ্য ফেলোদের জন্য অতিরিক্ত শিশু যত্ন সহায়তা এবং ভিসা-সংক্রান্ত ব্যয়ের সহায়তাও দেওয়া হবে। এর সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সুবিধাও পাবেন ফেলোরা।
তিন বছরের পুরো মেয়াদে শুধু মূল স্টাইপেন্ড হিসাব করলেও একজন ফেলো ২ লাখ ৯৪ হাজার ডলার পাবেন। গবেষণা ও পেশাগত উন্নয়নের সর্বোচ্চ সহায়তা এবং স্থানান্তর ব্যয় যোগ করলে মোট আর্থিক সুবিধার পরিমাণ আরও বাড়বে।
আরও পড়ুনঃ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য সুইডেনের ১০ স্কলারশিপ
আবেদন করতে পারবেন যারা
এই ফেলোশিপ মূলত ক্যারিয়ারের শুরুর পর্যায়ের মেধাবী বিজ্ঞানীদের জন্য। ফেলোশিপ শুরুর সময় আবেদনকারীর পিএইচডি ডিগ্রি অর্জনের পর তিন বছরের বেশি সময় পার হওয়া যাবে না। পাশাপাশি অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানে সর্বোচ্চ দুই বছরের পোস্টডক্টরাল গবেষণার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।
আবেদনকারীকে প্রাকৃতিক বিজ্ঞানে মৌলিক পরীক্ষামূলক বা তাত্ত্বিক গবেষণার জন্য শক্তিশালী গবেষণা রেকর্ড এবং নতুন বৈজ্ঞানিক ধারণা নিয়ে কাজ করার আগ্রহ দেখাতে হবে। সামাজিক বিজ্ঞানের বিষয়কে প্রধান করে গবেষণা প্রস্তাব দিলে এই ফেলোশিপের জন্য আবেদন করা যাবে না। আন্তর্জাতিক গবেষকেরাও আবেদন করতে পারবেন।
তবে বর্তমানে স্ট্যানফোর্ডের গ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থী বা পোস্টডক্টরাল গবেষকেরা আবেদন করতে পারবেন না। একইভাবে, যারা ১ মার্চ ২০২৭-এর আগে স্ট্যানফোর্ডে পোস্টডক্টরাল পদে যোগ দেবেন, তারাও এই ফেলোশিপের জন্য যোগ্য হবেন না।
যেভাবে আবেদন করতে হবে
আবেদন করতে হবে Academic Jobs Online প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে। আবেদন করার আগে সম্ভাব্য স্ট্যানফোর্ড ফ্যাকাল্টি সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিজের গবেষণার বিষয়, সহযোগিতার সম্ভাবনা এবং হোস্টিং নিয়ে আলোচনা করতে হবে। ফেলোশিপ পাওয়ার আগে অন্তত একজন স্ট্যানফোর্ড ফ্যাকাল্টি সদস্যকে আবেদনকারীকে হোস্ট করতে সম্মত হতে হবে।
আবেদন জমা দেওয়ার পর প্রাথমিক বাছাইয়ে নির্বাচিত প্রার্থীদের ফ্যাকাল্টি সদস্যদের একটি প্যানেলের সঙ্গে জুম সাক্ষাৎকারে অংশ নিতে হতে পারে।
যেসব কাগজপত্র লাগবে
আবেদনের সঙ্গে কারিকুলাম ভিটা, কভার লেটার, গবেষণা স্টেটমেন্ট, ক্যারিয়ার স্টেটমেন্ট এবং তিন থেকে চারজন রেফারেন্সের তথ্য দিতে হবে। আবেদনকারীর দেওয়া রেফারিদের কাছে সুপারিশপত্র জমা দেওয়ার জন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে অনুরোধ পাঠাবে।
ক্যারিয়ার স্টেটমেন্টে আবেদনকারীর পেশাগত লক্ষ্য, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং নিজের গবেষণা ক্যারিয়ার কীভাবে এগিয়ে নিতে চান, তা তুলে ধরতে হবে। গবেষণা স্টেটমেন্টে প্রস্তাবিত গবেষণার বিষয়, গবেষণার গুরুত্ব এবং ভবিষ্যতে কী ধরনের বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি সম্ভব, তা স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করতে হবে।
গবেষণা প্রস্তাবে আগামী তিন থেকে পাঁচ বছরে কী অর্জন করা সম্ভব এবং স্ট্যানফোর্ডের গবেষণা পরিবেশ কীভাবে সেই লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করতে পারে, সেটিও তুলে ধরা গুরুত্বপূর্ণ।
ফেলোশিপের মেয়াদ ও সময়
স্ট্যানফোর্ড সায়েন্স ফেলোশিপের মেয়াদ তিন বছর। ২০২৭ সালের নির্বাচিত ফেলোদের সাধারণত ১ সেপ্টেম্বর ২০২৭ থেকে ৩১ আগস্ট ২০৩০ পর্যন্ত ফেলোশিপ চলবে। তবে ১ জুলাই বা ১ আগস্ট থেকেও যোগদানের সুযোগ থাকতে পারে। কোনো অবস্থাতেই ১ সেপ্টেম্বরের পরে ফেলোশিপ শুরু করা যাবে না।
আবেদনের শেষ সময়
২০২৭ সালের সায়েন্স ফেলোশিপের আবেদন জমা দেওয়ার শেষ সময় ১৬ অক্টোবর ২০২৬ রাত ১১টা ৫৯ মিনিট (EDT)। নির্ধারিত সময়ের পর কোনো আবেদন গ্রহণ করা হবে না। তাই শেষ মুহূর্তের জটিলতা এড়াতে আগে থেকেই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও সুপারিশপত্র প্রস্তুত করে আবেদন জমা দেওয়া ভালো।
আবেদন ও বিস্তারিত তথ্যের জন্য স্ট্যানফোর্ড সায়েন্স ফেলোশিপের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে ভিজিট করুন।

