জার্মানিতে উচ্চশিক্ষা ও পিএইচডি গবেষণার পাশাপাশি মাসে প্রায় ৩ লাখ টাকা (২ হাজার ৫২ ইউরো) পাওয়ার এক দারুণ সুযোগ তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী, পিএইচডি গবেষক ও সাংবাদিকতায় আগ্রহীদের জন্য ২০২৭ সালের স্কলারশিপ কর্মসূচিতে আবেদনের আহ্বান জানিয়েছে জার্মানির হান্স সাইডেল ফাউন্ডেশন। এই বৃত্তির আওতায় পিএইচডি গবেষকেরা প্রতি মাসে মূল ভাতার পাশাপাশি স্টাডি অ্যালাউন্স ও স্বাস্থ্যবিমার বড় অঙ্কের আর্থিক সুবিধা পাবেন। একই সঙ্গে মাস্টার্স পর্যায়ের শিক্ষার্থীরাও এই কর্মসূচিতে আবেদনের সুযোগ পাবেন।
বৃত্তির সুযোগ ও আর্থিক সুবিধাসমূহ
হান্স সাইডেল ফাউন্ডেশন এই বৃত্তির আওতায় পিএইচডি গবেষকদের জন্য প্রতি মাসে ১ হাজার ৬৫০ ইউরো (প্রায় ২ লাখ ৩২ হাজার টাকা) ভাতা দেবে। এর পাশাপাশি খরচ বাবদ প্রতি মাসে ৩০০ ইউরো (প্রায় ৪২ হাজার টাকা) স্টাডি অ্যালাউন্স মিলবে। স্বাস্থ্যবিমার জন্য প্রার্থীরা সর্বোচ্চ ১০২ ইউরো (প্রায় ১৪ হাজার ৪০০ টাকা) পর্যন্ত ভর্তুকি পাবেন। সব মিলিয়ে একজন পিএইচডি গবেষক প্রতি মাসে প্রায় ২ লাখ ৮৮ হাজার ৪০০ টাকা (৩ লাখ টাকার কাছাকাছি) আর্থিক সুবিধা পাবেন। অন্যদিকে, স্নাতকোত্তর বা মাস্টার্স পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা মাসে সর্বোচ্চ ৯৯২ ইউরো (প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা) পর্যন্ত ভাতা পাবেন।
যোগ্যতার মাপকাঠি ও আবেদন প্রক্রিয়া
জার্মানিতে উচ্চশিক্ষা বা পিএইচডি গবেষণায় আগ্রহী আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা এই বৃত্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন। ভালো একাডেমিক ফল ও সুস্পষ্ট ক্যারিয়ার পরিকল্পনার পাশাপাশি প্রার্থীর সামাজিক দায়বদ্ধতা, স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজ, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং সহনশীলতা মূল্যায়ন করবে কর্তৃপক্ষ। পিএইচডি গবেষকদের অবশ্যই তাদের গবেষণা-প্রস্তাব, একাডেমিক সুপারিশপত্র এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার প্রমাণ দেখাতে হবে।
আরও পড়ুনঃ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য সুইডেনের ১০ স্কলারশিপ
সাংবাদিকতায় আগ্রহী প্রার্থীরাও এই কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে প্রার্থীরা সংবাদ, টেলিভিশন, রেডিও বা মাল্টিমিডিয়া প্রতিবেদনের সর্বোচ্চ পাঁচটি কাজের নমুনা বা লিংক জমা দিতে পারবেন। গণমাধ্যম, জনসংযোগ, প্রতিবেদন বা নাগরিক সাংবাদিকতার সঙ্গে একাডেমিক পড়াশোনার সমন্বয় রয়েছে—এমন শিক্ষার্থীদের জন্যও এই স্কলারশিপ বিশেষভাবে উপযোগী।
ভাষাগত যোগ্যতা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
আন্তর্জাতিক আবেদনকারীদের জন্য জার্মান ভাষায় অন্তত ‘B2’ স্তরের দক্ষতার প্রমাণ জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। ভাষাগত যোগ্যতার সনদ ছাড়া কর্তৃপক্ষ কোনো আবেদন গ্রহণ করবে না। এর পাশাপাশি জনকল্যাণমূলক স্বেচ্ছাসেবামূলক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় অংশগ্রহণের প্রমাণও দেখাতে হবে। আবেদনের জন্য আবেদনপত্র, শিক্ষাগত সনদ, একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট, বৈধ পাসপোর্ট, হালনাগাদ সিভি বা রেজুমে ও পার্সোনাল স্টেটমেন্টসহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য সহায়ক নথি জমা দিতে হবে।
ডেডলাইন ও কর্তৃপক্ষের পরামর্শ
আগ্রহী প্রার্থীদের অনলাইনে আবেদন করতে হবে। আবেদনপত্র জমা দেওয়ার আগেই একাডেমিক সুপারিশপত্রের ব্যবস্থা সম্পন্ন করা জরুরি, কারণ অসম্পূর্ণ আবেদন বিবেচনা করা হবে না। একই সঙ্গে স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজের তথ্য উল্লেখ না থাকলে সেটিও মূল্যায়নে গুরুত্ব পাবে না।
যাঁরা প্রথম দফায় আবেদন করতে পারবেন না, তাঁরা ১৫ ডিসেম্বর ২০২৬ থেকে ১৫ জানুয়ারি ২০২৭ পর্যন্ত দ্বিতীয় দফায় আবেদন করতে পারবেন। তবে শেষ মুহূর্তের জন্য অপেক্ষা না করে প্রয়োজনীয় নথিপত্র আগেই প্রস্তুত রাখার পরামর্শ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। কর্তৃপক্ষ জানায়, ‘শেষ মুহূর্তের জন্য অপেক্ষা না করে প্রয়োজনীয় একাডেমিক, ব্যক্তিগত ও স্বেচ্ছাসেবামূলক নথিপত্র আগেই প্রস্তুত রাখা বুদ্ধিমত্তার কাজ হবে।’

