মৌসুমের শুরুতেই দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছে বার্সেলোনা। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা ১০ ম্যাচে জয় তুলে নিয়ে ১০২ বছরের পুরোনো রেকর্ড ভেঙেছে স্প্যানিশ ক্লাবটি। এই ১০ ম্যাচে প্রতিপক্ষের জালে ৪৩ গোল করার বিপরীতে মাত্র ৯ গোল হজম করেছে হান্সি ফ্লিকের দল।
চ্যাম্পিয়নস লিগে গতকাল রাতে তুরস্কের ক্লাব গালাতাসারাইয়ের মাঠে ৪-১ গোলে জয় পেয়েছে বার্সেলোনা। ম্যাচের ২৮ মিনিটে পিছিয়ে পড়লেও দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়ায় কাতালানরা। পেটের ব্যথার কারণে ৭৩ মিনিটে মাঠ ছাড়তে হয় পেদ্রিকে। তবে ম্যাচ শেষে দলের গোল করার সামর্থ্য নিয়ে আত্মবিশ্বাসের কথা জানিয়েছেন এই স্প্যানিশ মিডফিল্ডার।
পেদ্রি বলেন, ‘আমরা গোল পাব কি না, তা নিয়ে (মৌসুমের শুরুতে) বেশ কথা হয়েছে। সে সামর্থ্য দলের যে আছে, আমরা তা দেখিয়ে দিচ্ছি।’
স্প্যানিশ ফুটবলবিষয়ক পরিসংখ্যানভিত্তিক এক্স হ্যান্ডল ‘মিস্টার চিপ’-এর তথ্য অনুযায়ী, সব অফিশিয়াল প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ১০২ বছর পর মৌসুমের প্রথম ১০ ম্যাচেই জয়ের নজির গড়ল বার্সেলোনা। লা লিগায় আটটি এবং চ্যাম্পিয়নস লিগে দুটি জয় পেয়েছে দলটি। ইউরোপের শীর্ষ ক্লাব প্রতিযোগিতায় প্রথম দুই ম্যাচেই প্রতিপক্ষের জালে ৯ গোল করেছে ফ্লিকের শিষ্যরা।
চোটের কারণে দলে নেই রাফিনিয়া। তবে তাঁর অনুপস্থিতিতে আক্রমণভাগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন লামিনে ইয়ামাল। গালাতাসারাইয়ের বিপক্ষে দুটি গোলে অবদান রেখেছেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। চলতি মৌসুমে বার্সেলোনার হয়ে ১০ ম্যাচে আটটি গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে আরও নয়টি গোল করিয়েছেন তিনি।
মৌসুমের শুরুতে রবার্ট লেভানডফস্কি ও ফেরান তোরেসের বিদায়ের পর বার্সেলোনার গোল করার সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। তবে এখন পর্যন্ত ১০ জন খেলোয়াড় গোল করেছেন। এতে বোঝা যাচ্ছে, দলের আক্রমণভাগে একাধিক খেলোয়াড়ই গোল করার সামর্থ্য রাখেন।
আরও পড়ুনঃ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির জন্য হকির ২৬ সদস্যের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
তবে দারুণ শুরুর পরও শিরোপা জয়ের বিষয়ে সতর্ক বার্সা কোচ হান্সি ফ্লিক। তিনি বলেন, ‘ফুটবল খুব দ্রুত পাল্টে যেতে পারে। বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আমরা খুশি। কিন্তু আমাদের লক্ষ্য হলো শিরোপা জয়। এখনো কিছুই জিতিনি। মে–জুনে বড় শিরোপা জেতা সম্ভব। সেই লক্ষ্যেই আমরা কাজ করছি।’
গালাতাসারাইয়ের বিপক্ষে দলের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে ফ্লিক আরও বলেন, ‘আমি আমার দলকে জানি। যেভাবে তারা ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করে সেটা দুর্দান্ত। প্রতিযোগিতাটা চ্যাম্পিয়নস লিগ, সেখানে পারফরম্যান্সটা উঁচু দরের ছিল আমাদের।’
চ্যাম্পিয়নস লিগে ফ্লিকের অধীনে বার্সেলোনার গোল করার ধারও বেশ উল্লেখযোগ্য। জার্মান এই কোচ দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রতিযোগিতাটিতে ২৭ ম্যাচে ৮০ গোল করেছে দলটি। অর্থাৎ ম্যাচপ্রতি গোলের গড় ২.৯৬। ১৯৯২-৯৩ মৌসুম থেকে হিসাব করলে, কোনো কোচের অধীনে অন্তত ২০ ম্যাচ খেলা দলের মধ্যে এটিই সর্বোচ্চ গোলের গড়।
গালাতাসারাইয়ের বিপক্ষে নিজে গোল না পেলেও ইয়ামালের পারফরম্যান্স নজর কেড়েছে। ম্যাচে দুটি গোলে অবদান রাখেন তিনি। তাঁর প্রশংসা করে ফ্লিক বলেন, ‘এই পর্যায়ে তার মতো খেলোয়াড় পাওয়াটা অসাধারণ ব্যাপার। সে ম্যাচটা ঘুরিয়ে দিয়েছে এবং অসাধারণ খেলেছে।’
টানা ১০ জয়ে মৌসুম শুরু করে বার্সেলোনা এখন দুর্দান্ত ছন্দে। তবে ফ্লিকের লক্ষ্য শুধু রেকর্ড গড়া নয়, মৌসুম শেষে বড় শিরোপা জেতা। সেই লক্ষ্যেই এগিয়ে যাচ্ছে কাতালান ক্লাবটি।

