২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে আজ বাঁচা-মরার লড়াইয়ে মুখোমুখি হচ্ছে আর্লিং হালান্ডের নরওয়ে ও আফ্রিকার শক্তিশালী দল আইভরি কোস্ট। জিতলেই শেষ ষোলো, হারলেই বিদায়—এমন সমীকরণের ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে যুক্তরাষ্ট্রের ডালাস স্টেডিয়ামে। বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় শুরু হওয়া এই ম্যাচকে ঘিরে দুই দলের সমর্থকদের মধ্যে তুমুল উত্তেজনা বিরাজ করছে। গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে নিজেদের সেরা একাদশই মাঠে নামাচ্ছে দুই দল।
১৯৯৮ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে খেলতে এসে দুর্দান্ত সূচনা করেছিল নরওয়ে। গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে ইরাককে ৪-১ গোলে এবং দ্বিতীয় ম্যাচে সেনেগালকে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়ে নকআউটের পথে অনেকটাই এগিয়ে যায় তারা। তবে শেষ ম্যাচে ফ্রান্সের কাছে ৪-১ গোলে হেরে গেলেও গ্রুপ ‘আই’-এর রানার্সআপ হিসেবে শেষ ৩২ নিশ্চিত করে ইউরোপের দলটি।
আরও পড়ুনঃ নাটকীয় ম্যাচে পেনাল্টিতে জয়সূচক গোল করে মায়ের বুকে সাইবারি
এবার তাদের সামনে আরও কঠিন চ্যালেঞ্জ। আফ্রিকার অন্যতম সেরা দল আইভরি কোস্টকে হারিয়ে ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় জায়গা করে নেওয়ার লক্ষ্য নরওয়ের। এর আগে মাত্র একবারই নকআউট পর্বে খেলেছিল তারা। এবার আর্লিং হালান্ডকে সামনে রেখে আরও বড় স্বপ্ন দেখছে নরওয়েজিয়ানরা।
অন্যদিকে, ২০০৬ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত টানা তিনটি বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেওয়া আইভরি কোস্ট এবার সেই আক্ষেপ ঘুচিয়েছে। গ্রুপ ‘ই’-তে প্রথম ম্যাচে ইকুয়েডরকে ১-০ গোলে হারানোর পর দ্বিতীয় ম্যাচে জার্মানির কাছে ২-১ ব্যবধানে হারে তারা। তবে শেষ ম্যাচে কুরাসাওকে ২-০ গোলে হারিয়ে ৬ পয়েন্ট নিয়ে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করে আফ্রিকার প্রতিনিধিরা।
পুরো গ্রুপ পর্বে মাত্র ৩ মিনিট ২৯ সেকেন্ড পিছিয়ে ছিল আইভরি কোস্ট, সেটিও জার্মানির বিপক্ষে ম্যাচের শেষদিকে গোল হজম করার কারণে। তাই আত্মবিশ্বাস নিয়েই নরওয়ের বিপক্ষে মাঠে নামছে তারা।
এবারের বিশ্বকাপে রেকর্ড ৯টি আফ্রিকান দেশ শেষ ৩২-এ জায়গা করে নিয়েছে। সেই সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রেখে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাওয়াই আইভরি কোস্টের লক্ষ্য।
তবে কাগজে-কলমে কিছুটা এগিয়ে নরওয়ে। ফিফা র্যাঙ্কিংয়েও আফ্রিকার দলটির চেয়ে এগিয়ে রয়েছে ইউরোপের প্রতিনিধিরা। লাইভ র্যাঙ্কিংয়ে নরওয়ের অবস্থান ২৩তম, আর আইভরি কোস্ট রয়েছে ৩১ নম্বরে।
নরওয়ের সবচেয়ে বড় ভরসা আর্লিং হালান্ড। গ্রুপ পর্বের প্রথম দুই ম্যাচে চার গোল করে তিনি গোল্ডেন বুটের দৌড়ে অন্যতম শীর্ষ দাবিদার হয়ে উঠেছেন। অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ডও দুটি অ্যাসিস্ট করে মাঝমাঠে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। ফলে নরওয়ের আক্রমণভাগের সবচেয়ে বড় শক্তি হালান্ডকে আটকানোই হবে আইভরি কোস্টের প্রধান লক্ষ্য।
আরও পড়ুনঃ কেপ ভার্দের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার সম্ভাব্য একাদশে থাকছেন যারা
আইভরি কোস্টের আক্রমণভাগেও রয়েছে একাধিক নির্ভরযোগ্য ফুটবলার। নিকোলাস পেপে দুটি গোল করেছেন। আমাদ দিওলো ও ফ্রাঙ্ক কেসিয়ে একটি করে গোল করে নিজেদের কার্যকারিতা দেখিয়েছেন। এছাড়া ১৯ বছর বয়সী তরুণ মিডফিল্ডার ইয়ান দিওমান্দে পুরো টুর্নামেন্টে নজর কেড়েছেন। মাঝমাঠ থেকে তার সৃজনশীল ফুটবল ইতোমধ্যেই ইউরোপের বড় ক্লাবগুলোর আগ্রহ তৈরি করেছে।
ম্যাচের আগে আইভরি কোস্টের কোচ এমার্স ফায়ে বলেন, ‘আমাদের শক্তির মূল জায়গা হলো, দলের যেকোনো খেলোয়াড় গোল করতে পারে। এটি প্রতিপক্ষকে বিভ্রান্ত করার জন্য দারুণ কার্যকর। বেঞ্চ থেকে আসা খেলোয়াড়রাও ম্যাচে বড় ভূমিকা রাখতে পারছে।‘
প্রতিপক্ষ সম্পর্কে তিনি আরও বলেন, ‘ওরা খুবই গোছানো দল, ব্যক্তিগতভাবে সবাই দারুণ এবং সুযোগ পেলেই গোল করতে পারে। তবে আমাদেরও শারীরিক শক্তি আছে। আমরা ম্যাচের গতি নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করব।‘
অন্যদিকে ম্যাচের আগে নরওয়ের কোচ স্তলে সুলবাকেন বলেন, ‘আমাদের ওদের শারীরিক শক্তির সঙ্গে টেক্কা দিতে হবে। কারণ ওরা টুর্নামেন্টের অন্যতম শক্তিশালী দল। ম্যাচটি খুব হাড্ডাহাড্ডি হবে, যে দল একটু ভাগ্যের সহায়তা পাবে তারাই জিতবে।‘
সবশেষ ফ্রান্সের বিপক্ষে ম্যাচে কয়েকজন মূল খেলোয়াড়কে বিশ্রাম দিয়েছিলেন সুলবাকেন। তবে আজকের নকআউট লড়াইয়ে হালান্ড, ওডেগার্ডসহ গুরুত্বপূর্ণ সব ফুটবলারকে আবারও শুরুর একাদশে ফিরিয়েছেন তিনি।
আন্তর্জাতিক ফুটবলে এই প্রথমবার মুখোমুখি হচ্ছে নরওয়ে ও আইভরি কোস্ট। পরিসংখ্যানও নরওয়ের পক্ষেই কথা বলছে। আফ্রিকার দেশগুলোর বিপক্ষে ১৯ ম্যাচে মাত্র দুইবার হেরেছে নরওয়ে। বিপরীতে ইউরোপীয় দলের বিপক্ষে বিশ্বকাপের শেষ পাঁচ ম্যাচের মধ্যে মাত্র একটিতে জয় পেয়েছে আইভরি কোস্ট।
এই ম্যাচের বিজয়ী দল শেষ ষোলোর লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের। সোমবার রাতে জাপানকে ২-১ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে সেলেসাওরা।
দুই দলের সম্ভাব্য একাদশ:
নরওয়ে: অরিয়ান হাস্কিয়োল্ড নাইল্যান্ড; মার্কুস হোমগ্রেন পেদারসেন, ক্রিস্টোফার ভাসবাক আয়ের, তোরবিয়র্ন হেগগেম, ডেভিড মোলার উলফ; মার্টিন ওডেগার্ড, প্যাট্রিক বার্গ, ফ্রেডরিক আউরেসনেস; আলেকসান্ডার সরলথ, আর্লিং হালান্ড, আন্তোনিও নুসা।
আইভরি কোস্ট: ইয়াহিয়া ফোফানা; গ্যুয়েলা দোয়ে, ওডিলন কসুনু, ওসমান দিওমান্দে, ঘিসলাঁ কোনান; ইব্রাহিম সাঙ্গারে; আমাদ দিওলো, ফ্রাঙ্ক কেসিয়ে, ক্রিস্ট ইনাওয়া ওলাই, ইয়ান দিওমান্দে; নিকোলাস পেপে।

