২০২৬ বিশ্বকাপ থেকে পর্তুগালের বিদায়ের পর আবেগঘন প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন অধিনায়ক ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। স্পেনের বিপক্ষে শেষ ষোলোতে হারের পর তিনি নিশ্চিত করেছেন, এটিই ছিল তাঁর শেষ বিশ্বকাপ। একই সঙ্গে ২০১৬ সালে জেতা ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপকে নিজের ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ অর্জন উল্লেখ করে বলেছেন, সেই শিরোপার মূল্য তাঁর কাছে বিশ্বকাপ জয়ের সমান।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে রোনালদো বলেন, ‘আমি শান্ত বিবেক নিয়েই মাঠ ছাড়ছি। এটাই ফুটবল, এটাই একজন ফুটবলারের জীবন। এটিই ছিল আমার শেষ বিশ্বকাপ। তবে ক্লাব ফুটবলে আমার ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবার জন্য এখনও সময় আছে। আবেগের বশে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে চাই না।’
আরও পড়ুনঃ স্পেন ম্যাচের আগে বড় দুঃসংবাদ পেল বেলজিয়াম
এরপর ২০১৬ সালের ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপার গুরুত্ব তুলে ধরে পর্তুগিজ মহাতারকা বলেন, ‘পর্তুগালের হয়ে আমি তিনটি শিরোপা জিতেছি। ক্রিস্টিয়ানোর আগে পর্তুগাল কিছুই জেতেনি। জাতীয় দলের হয়ে আমার সবচেয়ে বড় অর্জন ২০১৬ সালের ইউরো। সত্যি বলতে, আমার কাছে সেটির মর্যাদা একটি বিশ্বকাপ জয়ের সমান।’
শেষ ষোলোতে স্পেনের কাছে ১–০ গোলে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয় পর্তুগাল। শেষ বাঁশি বাজার পর নিজের আবেগ আর ধরে রাখতে পারেননি ৪১ বছর বয়সী রোনালদো। চোখে অশ্রু নিয়ে বারবার মুখ ঢেকে ফেলেন তিনি। কিছুক্ষণ একা দাঁড়িয়ে স্টেডিয়ামের চারপাশে তাকিয়ে থাকেন, যেন একজন ফুটবলার হিসেবে শেষবারের মতো বিশ্বকাপের আবহ নিজের মধ্যে ধারণ করে নিচ্ছিলেন।
ড্রেসিংরুমে ফেরার সময়ও ছিল একই দৃশ্য। মাথা নিচু করে ধীরে ধীরে হেঁটে যান তিনি। হাতে ছিল অধিনায়কের আর্মব্যান্ড। পুরো পথজুড়ে কোনো কথাই বলেননি। এর মধ্য দিয়েই বিশ্বকাপে তাঁর বর্ণাঢ্য অধ্যায়ের ইতি ঘটল।
আরও পড়ুনঃ রাতে মিসরের মুখোমুখি আর্জেন্টিনা, মোবাইলে খেলা দেখবেন যেভাবে
চলতি বিশ্বকাপে তিনটি গোল করেছেন রোনালদো। একই সঙ্গে ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে গোল করার কীর্তিও গড়েন তিনি। শেষ বত্রিশে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে তাঁর করা সমতাসূচক গোলটি পর্তুগালকে ম্যাচে ফিরিয়েছিল।
বিশ্বকাপের ছয়টি আসরে অংশ নিয়ে রোনালদো খেলেছেন মোট ২৮টি ম্যাচ। এই সময়ে তিনি করেছেন ১১টি গোল এবং করিয়েছেন আরও দুটি। বিশ্বকাপে তাঁর সর্বোচ্চ সাফল্য ছিল ২০০৬ সালে জার্মানিতে অনুষ্ঠিত আসরের সেমিফাইনালে ওঠা। তবে দীর্ঘ ক্যারিয়ারেও বিশ্বকাপ ট্রফি ছোঁয়ার স্বপ্ন পূরণ হলো না পর্তুগিজ কিংবদন্তির।

