আসন্ন আসিয়ান কাপে কঠিন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে খেললেও বাংলাদেশ সবাইকে চমকে দেওয়ার সামর্থ্য রাখে বলে মনে করেন জাতীয় ফুটবল দলের প্রধান কোচ থমাস ডুলি। তাঁর মতে, প্রতিপক্ষ শক্তিশালী হলেও নিজেদের প্রস্তুতি ঠিক রাখতে পারলে টুর্নামেন্টে ভালো কিছু করার সুযোগ রয়েছে বাংলাদেশের।
ভারত নাম প্রত্যাহার করায় ফিফার আমন্ত্রণ পেয়েছে বাংলাদেশ। প্রথমবারের মতো আয়োজিত হতে যাওয়া এই প্রতিযোগিতায় খেলার সুযোগ তৈরি হয়েছে লাল-সবুজের দলের। যদিও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ঘোষণা দেয়নি বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)।
আরও পড়ুনঃবাংলাদেশকে জয়ের আভাস দিচ্ছে পরিসংখ্যানও
সম্ভাব্য অংশগ্রহণ ও প্রতিপক্ষ নিয়ে থমাস ডুলি বলেন, ‘ইন্দোনেশিয়া, সিঙ্গাপুর বা মালয়েশিয়ার মতো দলের বিপক্ষে খেলা আমাদের জন্য দারুণ এক পরীক্ষা হবে। এই টুর্নামেন্টে নামলে আমরা অবশ্যই ‘আন্ডারডগ’ হিসেবেই মাঠে নামব, এতে কোনো সন্দেহ নেই। তবে আন্ডারডগ হওয়ার একটা সুবিধাও আছে, আমাদের প্রতিপক্ষকে প্রমাণ করতে হবে যে তারা সেরা, আর আমাদের কাজ হবে মাঠে তাদের সামলে খেলা। খেলোয়াড়রা যদি শতভাগ শারীরিকভাবে প্রস্তুত থাকে, তবে প্রতিপক্ষকে চমকে দেওয়ার মতো সামর্থ্য আমাদের রয়েছে।’
আগামী সেপ্টেম্বর-অক্টোবরের ফিফা উইন্ডোতে প্রতিটি দেশ দুই থেকে চারটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার সুযোগ পাবে। এই সময়ে অন্তত তিনটি ম্যাচ খেলার পরিকল্পনা ছিল বাফুফের। আসিয়ান কাপে অংশ নিলে সেই পরিকল্পনাও পূরণ হবে, কারণ বাংলাদেশ নিশ্চিতভাবেই অন্তত চারটি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাবে।
আসিয়ান কাপের প্রিমিয়ার ডিভিশনে আটটি দলকে দুটি গ্রুপে ভাগ করা হয়েছে। বাংলাদেশ অংশ নিলে ‘এ’ গ্রুপে খেলবে বলে জানা গেছে। এই গ্রুপে স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে রয়েছে মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুর।
অন্যদিকে ‘বি’ গ্রুপে রয়েছে থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, পাকিস্তান ও ফিলিপাইন।
গ্রুপ পর্বে প্রতিটি দল একে অপরের বিপক্ষে একটি করে ম্যাচ খেলবে। এরপর দুই গ্রুপের শীর্ষ দুই দল খেলবে ফাইনালে।
বাংলাদেশ ফাইনালে উঠতে পারলে চারটি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাবে। তবে ফাইনালে না উঠলেও স্থান নির্ধারণী ম্যাচে মাঠে নামতে হবে। দুই গ্রুপের রানার্সআপ দল খেলবে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে, তৃতীয় হওয়া দলগুলো খেলবে পঞ্চম স্থান নির্ধারণী ম্যাচে এবং চতুর্থ হওয়া দলগুলোর মধ্যে হবে সপ্তম স্থান নির্ধারণী ম্যাচ।
ফলে টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের অন্তত চারটি ম্যাচ খেলার সুযোগ থাকছে।
আসিয়ান কাপের চ্যাম্পিয়ন দল পাবে ১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় সাড়ে ১২ কোটি টাকা।
আরও পড়ুনঃ কাল সারাদিন ব্যাটিং করতে চায় অস্ট্রেলিয়া
ঘরের মাঠে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের আগে আসিয়ান কাপ বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতির মঞ্চ হতে পারে। শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে খেলার অভিজ্ঞতা দলকে আরও পরিণত করবে বলে মনে করেন থমাস ডুলি।
তিনি বলেন, ‘ওরা খুবই শক্তিশালী দল, যাদের বিপক্ষে খেললে আমরা নিজেদের ভুলগুলো শনাক্ত করতে পারব এবং শিখতে পারব। এটি হবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ এবং একটি তাৎপর্যপূর্ণ টুর্নামেন্ট। আমরা এর জন্য লড়াই করব এবং এটি হলে খুব ভালো হবে। আশা করি এটি বাস্তবায়ন হবে।’
আসিয়ান কাপের চ্যালেঞ্জ ডিভিশনে খেলবে ছয়টি দেশ। এই বিভাগের আয়োজক হংকং, চায়না। আর প্রিমিয়ার ডিভিশনে বাংলাদেশের সম্ভাব্য অংশগ্রহণ এখন অপেক্ষা করছে আনুষ্ঠানিক ঘোষণার।

