ডারউইন টেস্টে টিকে থাকতে হলে কাল পুরো দিন ব্যাটিং করতে চায় অস্ট্রেলিয়া। চতুর্থ দিনের শুরুতে দ্বিতীয় ইনিংসে ৬৭ রানে পিছিয়ে থাকা স্বাগতিকদের লক্ষ্য এখন যতটা সম্ভব সময় ব্যাট করে বাংলাদেশকে চাপে ফেলা। ক্যামেরন গ্রিন ও অ্যালেক্স ক্যারিকে ঘিরেই আপাতত লড়াইয়ের আশা দেখছে অস্ট্রেলিয়া।
তৃতীয় দিন শেষে অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ ৪ উইকেটে ১৬১ রান। গ্রিন ৪৩ এবং ক্যারি ৭ রানে অপরাজিত আছেন। স্বীকৃত ব্যাটসম্যানদের বড় অংশ ইতোমধ্যে ফিরে গেলেও অস্ট্রেলিয়ার পেসার জশ হ্যাজলউড বিশ্বাস করেন, এখনো ম্যাচে ফেরার সুযোগ রয়েছে তাঁদের।
আরও পড়ুনঃ ডারউইন টেস্ট জয়ের স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ
‘এই মাঠে টেস্ট খেলার অভিজ্ঞতা বেশি না থাকায় উইকেট কেমন আচরণ করবে, বলা কঠিন, তবে কিছু বল অসমান বাউন্স করছে। আমরা যদি আগামীকাল সারা দিন দীর্ঘ ব্যাটিং করতে পারি, তবে শেষ দিনে ১০ উইকেট নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। জয় পাওয়ার সম্ভাবনা এখনো আমাদের মাথায় আছে এবং সে লক্ষ্যেই আমরা খেলছি।’
ব্যক্তিগতভাবে তৃতীয় দিনটি হ্যাজলউডের জন্য ছিল স্মরণীয়। বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেট নিয়ে টেস্ট ক্রিকেটে ৩০০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন তিনি। অস্ট্রেলিয়ার নবম বোলার হিসেবে এই কীর্তি গড়েছেন হ্যাজলউড। তবে দলের কঠিন পরিস্থিতির কারণে ব্যক্তিগত অর্জনের আনন্দ পুরোপুরি উপভোগ করতে পারছেন না তিনি।
দলের বর্তমান অবস্থা নিয়ে হ্যাজলউড বলেন, ‘হ্যাঁ, ব্যক্তিগত সাফল্য পাওয়াটা অবশ্যই আনন্দের। তবে এই মুহূর্তে দলের পরিস্থিতি ও ম্যাচের প্রেক্ষাপটই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তবে সত্যি বলতে, মাঠে পেসারদের জন্য কাজটা বেশ কঠিন ছিল। শুরুর ৮ থেকে ১০ ওভারের সুযোগ বোলারদের কাজে লাগাতে হয়। এরপর বল পুরোনো ও নরম হয়ে গেলে বোলিং করাটা বেশ চ্যালেঞ্জিং।’
প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশকে ৪২৬ রানে থামাতে অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের দীর্ঘ সময় মাঠে থাকতে হয়েছে। ৫৩ ওভারে ১৯৮ রানে অলআউট হওয়া অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশ ব্যাট করেছে ১৩৮ ওভার। দীর্ঘ সময় বল করার পর একপর্যায়ে উইকেট পেতে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের ভুলের অপেক্ষায় থাকতে হয়েছে বলে মনে করেন হ্যাজলউড।
তিনি বলেন, ‘মূল লক্ষ্য ছিল চাপ তৈরি করা, যা আমরা কিছু জায়গায় আরও ভালোভাবে করতে পারতাম। প্রতিপক্ষের ইনিংসের মাঝামাঝি সময়ের কথা বাদ দিলেও প্রথম ভাগে রান তোলার গতি একটু বেশিই ছিল। টানা কিছু মেডেন ওভার দিয়ে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখা সম্ভব।’
বাংলাদেশের লোয়ার অর্ডারের প্রতিরোধের কারণে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। তবে দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশি বোলাররা যেভাবে চাপ তৈরি করেছে, সেটির প্রশংসা করেছেন হ্যাজলউড। তাঁর মতে, ব্যাটিংয়ের জন্য ভালো উইকেটেও নিয়ন্ত্রিত বোলিং করে সাফল্য পেয়েছে বাংলাদেশ।
ডারউইনের উইকেট নিয়ে হ্যাজলউড বলেন, ‘উইকেট এখনো ব্যাটিংয়ের জন্য বেশ ভালো। রান তোলার গতি কমিয়ে ব্যাটারদের ভুল করতে বাধ্য করাটাই এখন উইকেট নেওয়ার সেরা উপায়। এ ছাড়া নতুন বলের সুবিধা পুরোপুরি কাজে লাগাতে হবে, গতকাল বিকেলে আমরা যা ভালোভাবে করেছিলাম।’
আরও পড়ুনঃ দ্বিতীয় দিনেও বাংলাদেশের দাপট, ১৫৩ রানের লিড
বাংলাদেশের বোলিং নিয়েও তিনি যোগ করেন, ‘বাংলাদেশ নতুন বলে শুরুতেই দুটি দ্রুত উইকেট তুলে নিয়েছে। বলের শক্ত ভাব কমে গেলে খুব একটা সুবিধা দেয় না। কিন্তু বাংলাদেশ নিয়ন্ত্রিত বোলিং করে রান আটকে সাফল্য পেয়েছে, যা এই উইকেটে সামনে এগোনোর সঠিক পথ।’
এদিকে অস্ট্রেলিয়ার সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো চতুর্থ দিনটা ব্যাট হাতে পার করা। গ্রিন ও ক্যারির জুটিকে বড় করতে পারলে ম্যাচের চিত্র বদলে যেতে পারে বলে মনে করছে স্বাগতিকরা। হ্যাজলউডের চাওয়া, এই দুই ব্যাটসম্যান যেন দীর্ঘ সময় ক্রিজে থাকেন এবং দলকে লড়াইয়ের অবস্থানে নিয়ে যান।
ডারউইন টেস্টে এখন অস্ট্রেলিয়ার লক্ষ্য পরিষ্কার—চতুর্থ দিনজুড়ে ব্যাট করে শেষ দিনে বাংলাদেশের সামনে কঠিন লক্ষ্য দাঁড় করানো।

