বিশ্বকাপের মঞ্চে প্রথমবারের মতো খেলতে নেমেই ইতিহাস গড়েছে কুরাসাও। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানির বিপক্ষে নিজেদের অভিষেক ম্যাচে প্রথম গোলের দেখা পেয়েছে ক্যারিবীয় দ্বীপদেশটি। ১ লাখ ৫৮ হাজার জনসংখ্যার দেশ কুরাসাওয়ের হয়ে লিভানো কোমেনেনসিয়ার সেই গোল বিশ্বকাপ ইতিহাসে তাদের নাম লিখে দিয়েছে নতুন এক অধ্যায়ে।
হিউস্টনে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরুটা অবশ্য জার্মানিরই ছিল। ম্যাচের মাত্র ৬ মিনিটে মিডফিল্ডার ফেলিক্স এনমেচার গোলে এগিয়ে যায় চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। শুরুতেই গোল হজম করায় অভিষেক ম্যাচে চাপে পড়ে কুরাসাও।
তবে প্রত্যাশার বিপরীতে দ্রুতই ঘুরে দাঁড়ায় তারা। ম্যাচের ২১ মিনিটে বিশ্বকাপ ইতিহাসে নিজেদের প্রথম গোলটি পায় কুরাসাও। জার্মান রক্ষণভাগের ভেতরে বল পেয়ে বাঁ পায়ের জোরালো শট নেন রাইটব্যাক লিভানো কোমেনেনসিয়া। তাঁর শট ঠেকাতে ব্যর্থ হন অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়্যার।
গোলের পরই উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ে কুরাসাও শিবির। রেসলিং তারকা জন সিনার বিখ্যাত উদ্যাপনের ভঙ্গিতে গোল উদ্যাপন করেন কোমেনেনসিয়া। হিউস্টন স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে উপস্থিত কুরাসাও সমর্থকদের ‘নীল ঢেউ’ তখন উৎসবে মেতে ওঠে। বিশ্বকাপের প্রথম গোলের সেই মুহূর্ত দেশের ফুটবল ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
গোলটির আবেগ ছুঁয়ে যায় ধারাভাষ্যকার ইয়ান ডার্ককেও। উচ্ছ্বসিত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘হিউস্টনে ইতিহাস। মাত্র এক লাখের একটু বেশি মানুষের দেশ স্তব্ধ করে দিল কোটি কোটি মানুষকে!’
সমতায় ফেরার পর অবশ্য বেশিক্ষণ স্বস্তিতে থাকতে পারেনি কুরাসাও। ৩৮ মিনিটে কর্নার থেকে ডিফেন্ডার নিকো শ্লটারবেকের হেডে আবারও এগিয়ে যায় জার্মানি। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে পেনাল্টি থেকে আরও একটি গোল করে ব্যবধান বাড়ায় ইউরোপিয়ান জায়ান্টরা। ফলে বিরতিতে ৩-১ গোলের লিড নিয়ে মাঠ ছাড়ে জার্মানি।
আরও পড়ুনঃ সান্ত্বনার জয় পেল অস্ট্রেলিয়া, হোয়াইটওয়াশের সুযোগ হাতছাড়া হলো বাংলাদেশের
ম্যাচের আগে থেকেই আত্মবিশ্বাসী ছিলেন কুরাসাও কোচ ডিক আডভোকাট। বিশ্বকাপের অন্যতম দাবিদার জার্মানির বিপক্ষে মাঠে নামার আগে তিনি বলেছিলেন, ‘কোচেরা সব সময়ই প্রতিপক্ষকে বিপদে ফেলার পরিকল্পনা করেন। আর এই ম্যাচে জার্মানি যে পরিষ্কার ব্যবধানে এগিয়ে, তা বলাই বাহুল্য; এমনকি তারা বিশ্বকাপেরও অন্যতম দাবিদার। তবে ফুটবলে মাঝেমধ্যেই এমন হয় যে, ছোট দলগুলো এই বড় দলগুলোকে হারিয়ে দেয়। জার্মানির পাশে আমরা খুবই ছোট একটা দল, কিন্তু মাঠের লড়াইয়ে ওদের জন্য আমরা বেশ কঠিন প্রতিপক্ষই হব।’
ম্যাচের ফল যাই হোক না কেন, বিশ্বকাপের অভিষেক ম্যাচে গোল করে ইতোমধ্যেই স্মরণীয় হয়ে গেছে কুরাসাও। বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে ছোট দেশ হিসেবে অংশ নেওয়া দলটি দেখিয়ে দিয়েছে, বড় মঞ্চে সাহস আর আত্মবিশ্বাস থাকলে তারাও পরাশক্তিদের চ্যালেঞ্জ জানাতে পারে।
জাতীয় সংগীত গাওয়ার সময় খেলোয়াড়দের চোখেমুখে যে আবেগ ধরা পড়েছিল, মাঠে তারই প্রতিফলন দেখা গেছে। বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে জার্মানির মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে গোল করে কুরাসাও লিখে ফেলেছে নিজেদের ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে গৌরবময় মুহূর্তগুলোর একটি।

