বড় সুখবর পেলেন মেসি, নবম ব্যালন ডি’অর জয়ের সম্ভাবনা উজ্জ্বল

জিটি রিপোর্ট

প্রকাশ:

লিওনেল মেসি
লিওনেল মেসি|ছবি: সংগৃহীত

২০২৬ বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর লিওনেল মেসির সামনে আবারও ব্যালন ডি’অর জয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ইউরোপের বাইরে ইন্টার মায়ামির হয়ে খেললেও নিয়ম অনুযায়ী তাঁর এই পুরস্কার জিততে কোনো বাধা নেই। বরং বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা অধিনায়কের অসাধারণ নৈপুণ্য তাঁকে নবম ব্যালন ডি’অরের অন্যতম দাবিদারে পরিণত করেছে।

বিশ্বকাপ চলাকালেই ব্যালন ডি’অরের আয়োজক সাময়িকী ‘ফ্রান্স ফুটবল’-এর অফিশিয়াল ওয়েবসাইটের ‘প্রেস রুম’ বিভাগে একটি ফিচার প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে প্রশ্ন তোলা হয়, ‘ইউরোপীয় ক্লাবে না খেলেও কি ব্যালন ডি’অর জেতা সম্ভব?’

মজার বিষয় হলো, নিবন্ধটির ফিচার ইমেজে ব্যবহার করা হয়েছে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর ছবি। তবে ফুটবলপ্রেমীদের কাছে পরিষ্কার, আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু আসলে লিওনেল মেসিই। কারণ বর্তমানে ইউরোপের বাইরে খেলেও বিশ্বসেরা ফুটবলারদের তালিকায় সবচেয়ে আলোচিত নাম তিনিই।

ব্যালন ডি’অরের নিয়মও মেসির পক্ষে কথা বলছে। ১৯৫৬ সালে এই পুরস্কার চালু হওয়ার পর প্রথমদিকে শুধু ইউরোপীয় লিগে খেলা ইউরোপীয় ফুটবলারদের দেওয়া হতো। ১৯৯৫ সালে নিয়ম পরিবর্তন করে বিশ্বের যেকোনো দেশের খেলোয়াড়কে সুযোগ দেওয়া হয়, তবে শর্ত ছিল তাঁকে ইউরোপের কোনো ক্লাবে খেলতে হবে।

২০০৭ সালে সেই শর্তও তুলে দেওয়া হয়। এরপর থেকে বিশ্বের সেরা পারফরমারই ব্যালন ডি’অরের দাবিদার। অর্থাৎ ইউরোপের বাইরে খেললেও এই পুরস্কার জেতার সুযোগ রয়েছে।

মেসি সর্বশেষ ২০২৩ সালে অষ্টম ব্যালন ডি’অর জিতেছিলেন। তখন তিনি ইন্টার মায়ামির খেলোয়াড় হলেও তাঁর মূল্যায়ন হয়েছিল মূলত পিএসজির হয়ে ২০২২–২৩ মৌসুমের পারফরম্যান্স এবং কাতার বিশ্বকাপের সাফল্যের ভিত্তিতে।

আরও পড়ুনঃ সাইফউদ্দিনের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে সিরিজে সমতায় ফিরল বাংলাদেশ

কারণ ২০২২ সাল থেকে ব্যালন ডি’অর আর ক্যালেন্ডার বছরের পারফরম্যান্স বিবেচনা করে দেওয়া হয় না। এখন আগস্ট থেকে পরের বছরের জুলাই পর্যন্ত একটি মৌসুমের পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করা হয়।

২০২৩ সালের পর মেসি আর ব্যালন ডি’অরের সংক্ষিপ্ত তালিকায় জায়গা পাননি। এমনকি ২০১১ সালে সান্তোসের হয়ে খেলা নেইমারের মনোনয়নের পর পুরুষদের ফুটবলে ইউরোপের বাইরে খেলা কোনো ফুটবলার ব্যালন ডি’অরের সংক্ষিপ্ত তালিকায় স্থান পাননি। তবে নারী ফুটবলে ২০১৯ সালে সিয়াটল রেইন এফসির হয়ে খেলেই মেগান রাপিনো এই পুরস্কার জিতেছিলেন।

গত তিন মৌসুম ধরে মেজর লিগ সকারে খেলছেন মেসি। ৩৯ বছর বয়সে ইউরোপের শীর্ষ তারকাদের সঙ্গে ব্যালন ডি’অরের লড়াইয়ে টিকে থাকা কঠিন বলেই মনে করা হচ্ছিল। কিন্তু ২০২৬ বিশ্বকাপে তাঁর অসাধারণ পারফরম্যান্স সেই ধারণা বদলে দিয়েছে।

এবারের বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত ৮ গোল করেছেন মেসি, সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন আরও ৪ গোল। তাঁর নেতৃত্বে আর্জেন্টিনা জায়গা করে নিয়েছে ফাইনালে।

স্পেনের বিপক্ষে ফাইনালের ফল যাই হোক না কেন, টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার ‘গোল্ডেন বল’ জয়ের দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে আছেন মেসি। একই সঙ্গে সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার ‘গোল্ডেন বুট’-এর লড়াইয়েও তিনিই শীর্ষে রয়েছেন।

২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অর নির্বাচনে গত বছরের আগস্ট থেকে চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত পারফরম্যান্স বিবেচনায় নেওয়া হবে। ফলে বিশ্বকাপের পারফরম্যান্স এবারের ভোটে বড় প্রভাব ফেলবে। ক্লাব ফুটবলেও ইন্টার মায়ামির হয়ে ধারাবাহিকভাবে ভালো খেলছেন মেসি।

জাতীয় দল ও ক্লাব—দুই পর্যায়ের পারফরম্যান্স মিলিয়ে ব্যালন ডি’অরের বর্তমান মূল্যায়ন সময়ে এখন পর্যন্ত ৪৫ গোল করেছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। সব মিলিয়ে ক্যারিয়ারের নবম ব্যালন ডি’অর জয়ের সম্ভাবনা এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি উজ্জ্বল।

মন্তব্য (0)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!