চোট কাটিয়ে প্রায় দেড় মাস পর আবারও বল হাতে নিয়েছেন বাংলাদেশের পেসার নাহিদ রানা। সোমবার (৩১ আগস্ট) মিরপুরের একাডেমি মাঠে বোলিং অনুশীলন করেছেন তিনি। পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আপাতত ছোট রানআপে বোলিং করেছেন এই ডানহাতি পেসার। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী অক্টোবরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের আগেই ম্যাচ খেলার মতো ফিট হয়ে উঠবেন বলে আশা করছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।
মাঠে ফিরলেও এখনই ম্যাচ খেলার অবস্থায় নেই নাহিদ। ধীরে ধীরে তার বোলিংয়ের ওয়ার্কলোড বাড়ানো হবে। পুনর্বাসন পরিকল্পনা ঠিকভাবে এগোলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের আগে তাকে ম্যাচ ফিট করে তোলার লক্ষ্য রয়েছে টিম ম্যানেজমেন্টের।
এদিন মিরপুরের একাডেমি মাঠে বোলিং অনুশীলন করেন নাহিদ। ইনজুরি থেকে ফেরার প্রথম দিন হওয়ায় ছোট রানআপে বোলিং করেছেন তিনি। তার অনুশীলন সরাসরি পর্যবেক্ষণ করেন বিসিবির ফিজিও বায়েজেদুল ইসলাম।
আরও পড়ুনঃ ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে দল পেলেন মিরাজ
নাহিদের পুনর্বাসন প্রক্রিয়া এখনো চলছে। তাই তাকে নিয়ে কোনো ধরনের ঝুঁকি নিতে চায় না টিম ম্যানেজমেন্ট। ধাপে ধাপে তার বোলিংয়ের চাপ বাড়ানো হবে।
বিসিবির মেডিকেল বিভাগের একটি সূত্র জানিয়েছে, আপাতত সীমিত পরিসরে বোলিং শুরু করলেও পুরো রানআপে স্বাভাবিক বোলিংয়ে ফিরতে নাহিদের আরও প্রায় দেড় সপ্তাহ সময় লাগবে। এরপর ধীরে ধীরে তার বোলিংয়ের ওয়ার্কলোড বাড়ানো হবে।
গত জুনে জিম্বাবুয়ে সফরে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলেছিলেন নাহিদ। টি-টোয়েন্টি সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে বোলিংয়ের সময় বাঁ-পাশের সাইড স্ট্রেন ও হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে পড়েন তিনি।
পরে স্ক্যানে তার গ্রেড-২ সাইড স্ট্রেন ধরা পড়ে। চিকিৎসকদের ধারণা ছিল, প্রাথমিকভাবে সুস্থ হতে প্রায় চার সপ্তাহ সময় লাগবে। এরপর ধীরে ধীরে ওয়ার্কলোড বাড়াতে আরও দুই থেকে চার সপ্তাহ প্রয়োজন হতে পারে।
চোটের কারণে অস্ট্রেলিয়া সফরের টেস্ট সিরিজ থেকে ছিটকে যান নাহিদ। অস্ট্রেলিয়া সফরে তাকে না পাওয়াটা বাংলাদেশের জন্য বড় ধাক্কা ছিল। ঐতিহাসিক টেস্ট সিরিজ জয়ে অন্যতম সেরা পেসারকে পায়নি বাংলাদেশ।
চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে অস্ট্রেলিয়াতেও গিয়েছিলেন নাহিদ। দেশে ফিরে শুরু করেন পুনর্বাসন প্রক্রিয়া। প্রায় ছয় সপ্তাহের পুনর্বাসন শেষে সোমবার প্রথমবারের মতো বল হাতে নিয়েছেন তিনি।
নাহিদকে নিয়ে অবশ্য এখনই কোনো ঝুঁকি নিতে চায় না বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। দীর্ঘমেয়াদি দিক বিবেচনায় ধীরে ধীরে তাকে মাঠে ফেরানোর পরিকল্পনা রয়েছে। বোলিংয়ে ফেরার পরও ম্যাচ খেলার আগে তাকে পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হবে।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের আগে আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়েকে নিয়ে বাংলাদেশের একটি ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলার কথা রয়েছে। সেই সিরিজ দিয়েই নাহিদকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরানোর পরিকল্পনা রয়েছে নির্বাচকদের।
তবে নাহিদের প্রত্যাবর্তন নিয়ে কোনো ধরনের তাড়াহুড়ো করতে চায় না টিম ম্যানেজমেন্ট। চোট পুরোপুরি কাটিয়ে উঠেই যেন তিনি মাঠে ফেরেন, সেটিই তাদের মূল লক্ষ্য।
আরও পড়ুনঃ ইমরান খানের শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ সাবেক অধিনায়কদের
অস্ট্রেলিয়া সফরে নাহিদের অনুপস্থিতি নিয়ে বাংলাদেশের সমর্থকদের পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়ানদের মধ্যেও আক্ষেপ ছিল। চোট কাটিয়ে এখন ধীরে ধীরে বোলিংয়ে ফিরছেন এই তরুণ পেসার।
সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের আগে ম্যাচ ফিট হয়ে উঠবেন নাহিদ। সেটি হলে বাংলাদেশের পেস আক্রমণে গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে ফিরতে পারেন তিনি। দীর্ঘদিন পর তার ফেরার অপেক্ষায় এখন দেশের ক্রিকেট।

