আর্লিং হালান্ডের জোড়া গোল আর গোলরক্ষক ওরইয়ান নিল্যান্ডের দুর্দান্ত নৈপুণ্যে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে ২–১ গোলে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছে নরওয়ে। এই জয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে ইউরোপের দলটি। অন্যদিকে ষষ্ঠ শিরোপার স্বপ্ন ভেঙে শেষ ষোলো থেকেই বিদায় নিতে হয়েছে ব্রাজিলকে।
নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণ ও পাল্টা আক্রমণে লড়াই জমে ওঠে। ১৩ মিনিটেই এগিয়ে যাওয়ার সুবর্ণ সুযোগ পায় ব্রাজিল। মাতেউস কুনিয়ার ওপর ফাউলের পর পাওয়া পেনাল্টি নেন ব্রুনো গিমারাইস। তবে নরওয়ের গোলরক্ষক ওরইয়ান নিল্যান্ড দুর্দান্ত দক্ষতায় সেই শট ঠেকিয়ে দলকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখেন।
প্রথমার্ধে আর কোনো গোল না হলেও দ্বিতীয়ার্ধে সুযোগ তৈরি করে দুই দলই। ব্রাজিলের হয়ে সহজ একটি সুযোগ নষ্ট করেন বদলি হিসেবে নামা এনদ্রিক। এরপর ম্যাচের শেষ ভাগে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব দেখান আর্লিং হালান্ড।
আরও পড়ুনঃ এক ঘণ্টা পিছিয়ে গেল মেক্সিকো-ইংল্যান্ড ম্যাচ
৭৯তম মিনিটে আন্দ্রেয়াস শেলদেরুপের নিখুঁত ক্রস থেকে দুর্দান্ত হেডে নরওয়েকে এগিয়ে দেন হালান্ড। নির্ধারিত সময়ের ৯০ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে বাঁ পায়ের শক্তিশালী শটে নিজের দ্বিতীয় গোল করে ব্রাজিলের বিদায় নিশ্চিত করেন তিনি।
শেষ দিকে পেনাল্টি থেকে একটি গোল শোধ করেন নেইমার। তবে সেটি কেবল ব্যবধান কমিয়েছে, ম্যাচের ফল বদলাতে পারেনি।
হালান্ডের জোড়া গোলের পাশাপাশি নরওয়ের জয়ের অন্যতম নায়ক ছিলেন গোলরক্ষক ওরইয়ান নিল্যান্ড। প্রথমার্ধে ব্রুনো গিমারাইসের পেনাল্টি রুখে দেওয়ার পাশাপাশি দ্বিতীয়ার্ধে সতীর্থ আয়েরের কাছাকাছি থেকে তৈরি হওয়া বিপজ্জনক পরিস্থিতিতেও অসাধারণ সেভ করে দলকে রক্ষা করেন তিনি।
অন্যদিকে ব্রাজিল একের পর এক সুযোগ তৈরি করেও সেগুলো কাজে লাগাতে পারেনি। আক্রমণে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও নেইমার চেষ্টা চালালেও নরওয়ের সংগঠিত রক্ষণভাগ এবং নিল্যান্ডের দৃঢ়তায় বারবার ব্যর্থ হয়েছে সেলেসাওরা।
এই জয়ের মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপে নিজেদের ইতিহাসের সেরা সাফল্য অর্জন করল নরওয়ে। কোয়ার্টার ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ হবে ইংল্যান্ড ও মেক্সিকোর মধ্যকার শেষ ষোলোর ম্যাচের বিজয়ী দল। অন্যদিকে ১৯৯০ সালের পর সবচেয়ে বাজে বিশ্বকাপ অভিযান শেষ করে চোখের জল নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে ব্রাজিলকে।

