ডারউইন টেস্টে প্রথম দিন শেষে চালকের আসনে বাংলাদেশ

জিটি রিপোর্ট

প্রকাশ:

 অস্ট্রেলিয়া টেস্টে চালকের আসনে বাংলাদেশ
অস্ট্রেলিয়া টেস্টে চালকের আসনে বাংলাদেশ |ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলতে নেমেই দাপট দেখাল বাংলাদেশ। ডারউইনের মারারা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে স্বাগতিকদের প্রথম ইনিংসে ১৯৮ রানে গুটিয়ে দেওয়ার পর দিন শেষে ১ উইকেটে ৯৬ রান তুলেছে সফরকারীরা। ৯ উইকেট হাতে রেখে মাত্র ১০২ রানে পিছিয়ে থাকায় প্রথম দিনের খেলা শেষে চালকের আসনে রয়েছে বাংলাদেশ।

তানজিদ হাসান তামিম ৩২ এবং মুমিনুল হক ৩৫ রানে অপরাজিত আছেন। দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরু করবেন এই দুই ব্যাটার। এর আগে ক্যারিয়ারসেরা বোলিংয়ে ৫৫ রান দিয়ে ৬ উইকেট নেন হাসান মাহমুদ। বাংলাদেশের পক্ষে বাকি চার উইকেট ভাগ করে নেন এবাদত হোসেন ও তাসকিন আহমেদ।

আরও পড়ুনঃ প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে পাঁচ উইকেট পেলেন হাসান মাহমুদ

অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসের জবাবে উদ্বোধনী জুটিতে ৩৬ রান যোগ করেন সাদমান ইসলাম ও তানজিদ। ভালো শুরু পেলেও ইনিংস বড় করতে পারেননি সাদমান। ৩০ বলে ২০ রান করে তিনি প্যাভিলিয়নে ফেরেন।

এরপর ওয়ান-ডাউনে নেমে দলের হাল ধরেন মুমিনুল। তানজিদকে সঙ্গে নিয়ে দিনের বাকি সময় স্বাগতিক বোলারদের আর কোনো সাফল্য পেতে দেননি এই অভিজ্ঞ ব্যাটার। অবিচ্ছিন্ন দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে দুজন যোগ করেন ৬০ রান।

এর আগে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামা অস্ট্রেলিয়াকে শুরু থেকেই চাপে রাখেন বাংলাদেশের পেসাররা। ১২তম ওভারে দলীয় ৪৫ রানে স্বাগতিকদের প্রথম ধাক্কা দেন হাসান। অফ স্টাম্পের বাইরে ড্রাইভ করার মতো কয়েকটি বল দেওয়ার পর একই ধরনের ডেলিভারিতে জেক ওয়েদারাল্ডকে ফাঁদে ফেলেন তিনি। ড্রাইভ করতে গিয়ে ব্যাটের কানায় লাগানো বল উইকেটকিপার লিটন দাসের গ্লাভসে জমা দেন ওয়েদারাল্ড। ২৩ রান করে ফেরেন অজি ওপেনার।

নিজের পরের ওভারেই ট্রাভিস হেডকে বোল্ড করেন হাসান। রাউন্ড দ্য উইকেট থেকে করা তাঁর ভালো লেংথের বলটি খানিকটা বেশি লাফিয়ে ভেতরের দিকে ঢুকে পড়ে। বল ঠেকাতে গিয়ে ব্যাটের ভেতরের কানায় লাগিয়ে স্টাম্প হারান হেড। ২২ রান করেন তিনি।

১৯তম ওভারে আঘাত হানেন এবাদত। তাঁর অফ স্টাম্পের বাইরের বল ছেড়ে দেওয়ার সুযোগ থাকলেও ব্যাট বাড়িয়ে খোঁচা দেন মার্নাস লাবুশেন। দ্বিতীয় স্লিপে সহজ ক্যাচ নেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। মাত্র ১ রান করে ফেরেন লাবুশেন।

প্রথম সেশনের শেষ বলে অস্ট্রেলিয়াকে চতুর্থ ধাক্কা দেন তাসকিন। তাঁর লেংথ বল অন সাইডে তুলে মারতে গিয়ে সময়ের আগেই শট খেলে ফেলেন ক্যামেরন গ্রিন। ব্যাটের কানায় লাগা বল শর্ট মিডউইকেটের দিকে গেলে ডান দিকে ঝাঁপিয়ে দুর্দান্ত ক্যাচ নেন মুশফিকুর রহিম। ১৩ রান করে মাঠ ছাড়েন গ্রিন। তাঁর বিদায়ের সঙ্গে সঙ্গে লাঞ্চ বিরতির ঘোষণা আসে।

১১ দশমিক ৪ ওভার থেকে ২২তম ওভারের মধ্যে মাত্র ৬২ বলে ২৯ রান তুলতেই ৪ উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া। ৪৫ রানের উদ্বোধনী জুটি ছাড়া স্বাগতিকদের কোনো জুটিই বড় হতে পারেনি।

তবে স্টিভেন স্মিথের সহজ ক্যাচ ছেড়ে দেওয়ায় অস্ট্রেলিয়াকে আরও আগে চেপে ধরার সুযোগ হারায় বাংলাদেশ। তানজিদের হাত থেকে জীবন পেয়ে অ্যালেক্স ক্যারিকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন স্মিথ। ভয়ংকর হয়ে ওঠার আগেই ক্যারিকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন এবাদত। ৪৩ বলে ১৯ রান করেন অজি উইকেটকিপার-ব্যাটার।

এরপর বিউ ওয়েবস্টারকে সরাসরি বোল্ড করে অস্ট্রেলিয়াকে ষষ্ঠ ধাক্কা দেন তাসকিন। দলীয় ১৫২ রানে সাজঘরে ফেরেন ওয়েবস্টার।

বোলিংয়ে ফিরে আবারও সাফল্য পান হাসান। তাঁর অফ স্টাম্পের বাইরের ব্যাক অব লেংথের বলটি সিম করে বেরিয়ে যাওয়ার সময় ব্যাট চালান প্যাট কামিন্স। উইকেটের পেছনে সহজ ক্যাচ নেন লিটন।

আরও পড়ুনঃ সকালে বাংলাদেশের বিপক্ষে মাঠে নামছে অস্ট্রেলিয়া, একাদশে থাকছেন যারা

এরপর হাসানের শিকার হন মিচেল স্টার্ক। অফ স্টাম্পের বাইরে অ্যাঙ্গেল করে করা বলটি ছেড়ে দেওয়ার সুযোগ থাকলেও পা না বাড়িয়ে ব্যাট চালান তিনি। ব্যাটের কানা ছুঁয়ে যাওয়া বল নিরাপদে তালুবন্দী করেন লিটন। এটি ছিল ইনিংসে হাসানের চতুর্থ উইকেট।

চা বিরতির পর আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের চেষ্টা করেন স্মিথ। তবে সেই কৌশলই তাঁর বিদায় ডেকে আনে। ৫১তম ওভারের পঞ্চম বলে হাসানকে এগিয়ে এসে বড় শট খেলতে গিয়ে ভারসাম্য হারান তিনি। ৭১ রানে থামে তাঁর ইনিংস।

স্মিথকে ফিরিয়েই পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন হাসান। প্রতিপক্ষের মাঠে বাংলাদেশের পেসারদের মধ্যে সর্বোচ্চ তিনবার ইনিংসে পাঁচ উইকেট নেওয়ার কীর্তিও গড়েন তিনি। এর আগে ভারত ও পাকিস্তানের মাটিতে পাঁচ উইকেট পেয়েছিলেন এই পেসার।

পরে নাথান লায়নকেও ফেরান হাসান। এর মধ্য দিয়ে ইনিংসে ৬ উইকেট শিকারের পাশাপাশি ক্যারিয়ারসেরা বোলিংয়ের রেকর্ড গড়েন তিনি। হাসানের বিধ্বংসী বোলিংয়ে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস থামে ১৯৮ রানে। এরপর ব্যাটারদের দৃঢ়তায় দিনটি পুরোপুরি নিজেদের করে নেয় বাংলাদেশ।

মন্তব্য (0)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!