জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে শুরু হতে যাচ্ছে ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া আসর বিশ্বকাপ। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) পর্দা উঠছে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিশ্বকাপের। প্রথমবারের মতো তিন দেশ—যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা—মিলে আয়োজন করছে এই মহাযজ্ঞ। তিন দেশের ১৬টি ভেন্যুতে বসবে ১০৪টি ম্যাচের লড়াই। ৩৯ দিনের এই টুর্নামেন্ট শেষ হবে ১৯ জুলাই, নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ফাইনালের মধ্য দিয়ে।
উদ্বোধনী ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে আসল উত্তেজনা। মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক এস্তাদিও আজতেকায় মুখোমুখি হবে আয়োজক মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকা। ম্যাচ শুরুর ৯০ মিনিট আগে শুরু হবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। একই দিনে এবং পরের দিন টরন্টো ও লস অ্যাঞ্জেলেসেও আলাদা আলাদা উদ্বোধনী আয়োজন থাকবে। তবে সব আয়োজনেই থাকবে একটাই বার্তা—ফুটবল, সংস্কৃতি আর আনন্দের বৈশ্বিক উৎসব।
ফিফা জানিয়েছে, তিন দেশই তাদের নিজস্ব সংস্কৃতি তুলে ধরবে এই আয়োজনে। কানাডা দেখাবে তাদের বহুসাংস্কৃতিক পরিচয়, যাকে বলা হচ্ছে ‘কালচারাল মোজাইক’। মেক্সিকো তুলে ধরবে ঐতিহ্যবাহী ‘পাপেল পিকাডো’ শিল্প। আর যুক্তরাষ্ট্র উপস্থাপন করবে আধুনিক, ঝলমলে ভিজ্যুয়াল শো। প্রতিটি অনুষ্ঠানের সঙ্গে থাকবে খেলোয়াড়দের ওয়ার্ম-আপ, প্রি-ম্যাচ শো এবং আনুষ্ঠানিক কিক-অফ আয়োজন। মেক্সিকোর অনুষ্ঠান চলবে প্রায় ১৬ মিনিট ৩০ সেকেন্ড, আর টরন্টো ও লস অ্যাঞ্জেলেসের আয়োজন হবে প্রায় ১৩ মিনিট করে।
আরও পড়ুনঃ মেসি ম্যাজিকে উজ্জীবিত আর্জেন্টিনা, লক্ষ্য টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বলেন, ‘বিশ্বকাপের সূচনা এমন একটি মুহূর্ত, যা পুরো বিশ্ব একসঙ্গে ভাগ করে নেয়। মেক্সিকো সিটি থেকে শুরু হয়ে টরন্টো ও লস অ্যাঞ্জেলেসে এই অনুষ্ঠানগুলো অনুষ্ঠিত হবে, যা সংগীত, সংস্কৃতি ও ফুটবলের এক অভিন্ন উদ্যাপন হবে।’
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানগুলো ঘিরে তিন শহরেই থাকছে তারকাদের ঝলক। মেক্সিকো সিটির আজতেকা স্টেডিয়ামে ১১ জুনের অনুষ্ঠানে মঞ্চ মাতাবেন শাকিরা, জে বালভিন, মানা, লিলা ডাউনসসহ আরও অনেকে। ফুটবল আর সংস্কৃতির এই মিলনমেলা সেখানে রূপ নেবে এক উৎসবে।
পরদিন ১২ জুন টরন্টো স্টেডিয়ামে হবে কানাডার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। সেখানে তুলে ধরা হবে দেশটির বহুমুখী সংস্কৃতি। পারফর্ম করবেন আলানিস মরিসেট, মাইকেল বুবলে, এলেসিয়া কারা, জেসি রেইজস, নোরা ফাতেহি, সঞ্জয়সহ আরও অনেক জনপ্রিয় শিল্পী।
একই দিনে লস অ্যাঞ্জেলেসে হবে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বোধনী শো। সেখানে থাকবে চোখধাঁধানো ভিজ্যুয়াল প্রেজেন্টেশন এবং কেটি পেরি, ফিউচার, আনিতা, এলএলএ ও রেমারের মতো বিশ্ব তারকাদের পারফরম্যান্স। আলো, সঙ্গীত আর প্রযুক্তির মিশেলে এই আয়োজন তৈরি করবে এক ভিন্ন অভিজ্ঞতা।
সব মিলিয়ে মাঠের লড়াই শুরুর আগেই বিশ্বজুড়ে তৈরি হয়েছে উৎসবের আবহ। তিন দেশের সংস্কৃতি, সংগীত আর ফুটবলের এই মিলনমেলা শুধু একটি টুর্নামেন্ট নয়—এটি হয়ে উঠছে কোটি মানুষের আবেগের এক নতুন অধ্যায়।

