২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে কানাডাকে ৩–০ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে মরক্কো। হিউস্টনে অনুষ্ঠিত ম্যাচে আজ্জেদিন উনাহির জোড়া গোল এবং সুফিয়ান রাহিমির শেষ মুহূর্তের গোলে দারুণ জয় তুলে নেয় আফ্রিকার দলটি। স্কোরলাইন একপেশে হলেও পুরো ম্যাচে কানাডাই বেশি আক্রমণ করেছে। তবে সুযোগ কাজে লাগানোর দুর্দান্ত দক্ষতায় শেষ পর্যন্ত জয় নিশ্চিত করে মরক্কো।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে কানাডা। প্রথম ২৫ মিনিটে বলের দখল ও আক্রমণে আধিপত্য বিস্তার করলেও গোলের দেখা পায়নি তারা। জোনাথন ডেভিড ও তানি ওলুওয়াসেয়ি একাধিক সুযোগ তৈরি করলেও মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনুর দৃঢ়তায় বারবার হতাশ হতে হয় কানাডিয়ানদের।
আরও পড়ুনঃ উত্তেজনাকর ম্যাচে প্যারাগুয়েকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ফ্রান্স
অন্যদিকে প্রথমার্ধে কোনো উল্লেখযোগ্য আক্রমণ গড়তে পারেনি মরক্কো। ফলে গোলশূন্য সমতায় বিরতিতে যায় দুই দল।
বিরতির পরই বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। ৫০তম মিনিটে অধিনায়ক আশরাফ হাকিমির নেওয়া দারুণ এক ফ্রি-কিক থেকে আক্রমণের সূচনা হয়। তাঁর পাস পেয়ে বক্সের বাইরে থেকে নিচু শটে বল জালে জড়িয়ে মরক্কোকে এগিয়ে দেন আজ্জেদিন উনাহি।
গোল হজমের পর সমতায় ফেরার জন্য আরও মরিয়া হয়ে ওঠে কানাডা। একের পর এক আক্রমণ চালিয়েও বুনু এবং মরক্কোর সংগঠিত রক্ষণভাগ ভাঙতে পারেনি তারা। ৭৯তম মিনিটে দূরপাল্লার জোরালো শটে বুকানান গোলের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেলেও অসাধারণ সেভ করে দলকে রক্ষা করেন বুনু।
কানাডা যখন সমতার জন্য সর্বশক্তি দিয়ে আক্রমণ করছিল, তখনই পাল্টা আক্রমণে ম্যাচ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয় মরক্কো। ৮২তম মিনিটে ব্রাহিম দিয়াজের নিখুঁত পাস থেকে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন উনাহি। এরপর যোগ করা সময়ের অষ্টম মিনিটে আবারও দিয়াজের পাস থেকে বদলি হিসেবে নামা সুফিয়ান রাহিমি গোল করে ৩–০ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত করেন।
আরও পড়ুনঃ নাটকীয় ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে শেষ ষোলোয় মিসর
স্কোরলাইন যতটা সহজ মনে হয়েছে, মাঠের লড়াই ছিল তার চেয়ে অনেক বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। শট, কর্নার এবং প্রতিপক্ষের বক্সে বল স্পর্শ—সব পরিসংখ্যানেই এগিয়ে ছিল কানাডা। মরক্কোর ৫টি শটের বিপরীতে কানাডা নিয়েছে ১০টি শট। প্রতিপক্ষের বক্সে মরক্কো যেখানে মাত্র ১০ বার বল স্পর্শ করেছে, সেখানে কানাডা করেছে ৩২ বার। কর্নারেও ছিল বিশাল ব্যবধান—মরক্কোর ১টির বিপরীতে কানাডা পেয়েছে ১১টি কর্নার।
তবে ম্যাচের পার্থক্য গড়ে দিয়েছে সুযোগ কাজে লাগানোর সক্ষমতা। লক্ষ্যে রাখা চারটি শটের মধ্যে তিনটিতেই গোল করেছে মরক্কো। অন্যদিকে অসংখ্য সুযোগ তৈরি করেও গোল করতে ব্যর্থ হয়েছে সহ-আয়োজক কানাডা।
এই জয়ে টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠল ২০২২ সালের সেমিফাইনালিস্ট মরক্কো। শেষ আটে তাদের প্রতিপক্ষ হবে ফ্রান্স।

