নাটকীয় ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে শেষ ষোলোয় মিসর

জিটি রিপোর্ট

প্রকাশ:

 মিশর ফুটবল দল
মিশর ফুটবল দল |ছবি: সংগৃহীত

রুদ্ধশ্বাস লড়াই শেষে টাইব্রেকারে অস্ট্রেলিয়াকে ৪–২ গোলে হারিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে মিসর। নির্ধারিত ৯০ মিনিট ও অতিরিক্ত সময় মিলিয়ে ১–১ সমতায় শেষ হওয়া ম্যাচে স্নায়ুর লড়াইয়ে ভুল করেননি মোহাম্মদ সালাহরা। এই জয়ের মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো নকআউট পর্বের ম্যাচ জয়ের স্বাদ পেল আফ্রিকার সাতবারের চ্যাম্পিয়নরা।

ডালাস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত রাউন্ড অব ৩২-এর এই ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে মিসর। ম্যাচের ১৩তম মিনিটেই এগিয়ে যায় তারা। ফ্রি-কিক থেকে মোহাম্মদ সালাহর বুদ্ধিদীপ্ত সেট-পিসে প্রথমে শট নেন ইমান আশুর। সেই প্রচেষ্টা প্রতিহত হলেও ফিরতি বলে করিম হাফেজ দারুণ একটি ক্রস তোলেন। তাতে হেড করে জালে বল পাঠান আশুর।

চলতি বিশ্বকাপে এটি ছিল ইমান আশুরের দ্বিতীয় গোল। একই সঙ্গে এক আসরে একাধিক গোল করা মিসরের ইতিহাসে মাত্র তৃতীয় ফুটবলার হওয়ার কৃতিত্বও অর্জন করেন তিনি। এর আগে এই কীর্তি গড়েছিলেন আবদেলরহমান ফাওজি (১৯৩৪) ও মোহাম্মদ সালাহ (২০১৮)।

প্রথমার্ধে বলের দখল ও আক্রমণে স্পষ্ট আধিপত্য দেখালেও ব্যবধান আর বাড়াতে পারেনি মিসর। বরং দ্বিতীয়ার্ধের ৫৫তম মিনিটে সমতায় ফেরে অস্ট্রেলিয়া। এইডেন ও’নিলের বাঁ দিক থেকে নেওয়া ফ্রি-কিক ক্লিয়ার করতে গিয়ে নিজেদের জালেই হেড করে বসেন মোহাম্মদ হানি। চলতি বিশ্বকাপে এটি ছিল তাঁর দ্বিতীয় আত্মঘাতী গোল।

আরও পড়ুনঃ শেষ ষোলোয় আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ কে, খেলা কখন

সমতায় ফেরার পর আবারও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় মিসর। একের পর এক আক্রমণে অস্ট্রেলিয়ার রক্ষণে চাপ সৃষ্টি করে তারা। যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে রামি রাবিয়ার শক্তিশালী হেড অসাধারণ দক্ষতায় ফিরিয়ে দেন অস্ট্রেলিয়ার গোলরক্ষক প্যাট্রিক বিচ। ফলে নির্ধারিত সময়ে আর কোনো গোল না হওয়ায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।

অতিরিক্ত সময়ের শুরুতেই জয়ের সুবর্ণ সুযোগ পান মোহাম্মদ সালাহ। ওমর মারমুশের পাস থেকে ডান দিকের কঠিন কোণ থেকে নেওয়া তাঁর ভলি লক্ষ্যে রাখতে পারেননি মিসর অধিনায়ক। এরপরও পুরো ম্যাচে আক্রমণভাগে সবচেয়ে প্রভাব বিস্তার করেন তিনি। গোল না পেলেও সতীর্থদের জন্য পাঁচটি গোলের সুযোগ তৈরি করেন সালাহ।

১২০ মিনিটেও ১–১ সমতা থাকায় ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ হয় টাইব্রেকারে।

টাইব্রেকারের শুরুতেই চাপে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। তাদের প্রথম শট নেওয়া হ্যারি সুটারের প্রচেষ্টা ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে যায়। পরে জ্যাকসন আরভিন ও আওয়ার মাবিল গোল করলেও চতুর্থ শটে লুকাস হ্যারিংটনও বল মারেন ক্রসবারে।

অন্যদিকে মিসরের চার শুটারই ছিলেন নিখুঁত। তৃতীয় শটে মোহাম্মদ সালাহ দারুণ আত্মবিশ্বাসে পানেনকা কিকে বল জালে জড়ান। শেষ শটে আবদেল মাগিদ গোল করতেই ৪–২ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত হয় মিসরের। গোলের পর জার্সি খুলে উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠেন তিনি।

বিশ্বকাপ ইতিহাসে এটিই ছিল মিসর ও অস্ট্রেলিয়া—দুই দলেরই প্রথম টাইব্রেকার। সেই প্রথম অভিজ্ঞতাকে স্মরণীয় করে রেখে শেষ ষোলোয় জায়গা নিশ্চিত করেছে মিসর।

এই জয়ের ফলে শেষ ষোলোর টিকিট কাটা মিসরের সামনে অপেক্ষা করছে আরও কঠিন পরীক্ষা। কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে আফ্রিকার দলটি মুখোমুখি হবে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার।

মন্তব্য (0)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!