কারখানায় কাজ করে চার সন্তানের সংসার সামলানোর পাশাপাশি লিওনেল মেসির ফুটবলার হওয়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নে নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন বাবা হোর্হে মেসি। ছেলের উন্নত ভবিষ্যতের জন্য আর্জেন্টিনার রোসারিও ছেড়ে বার্সেলোনায় পাড়ি জমানো থেকে শুরু করে ক্যারিয়ারের প্রতিটি পর্যায়ে নীরব সমর্থন দিয়ে গেছেন তিনি। তাঁর মৃত্যুতে ফুটবল পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোক।
লিওর বেড়ে ওঠা, ফুটবলার হিসেবে বিকাশ এবং বিশ্বের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হয়ে ওঠার পেছনে হোর্হের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শৈশব থেকেই ছেলেকে মানসিক ও পেশাগতভাবে আগলে রেখেছিলেন তিনি। ব্যক্তিজীবনেও বাবাকে নিজের আদর্শ হিসেবে দেখতেন লিও।
আরও পড়ুনঃ বিশ্বকাপ চলাকালে মেসিকে বোমা মেরে হত্যা করতে চেয়েছিল দুর্বৃত্তরা, ফাঁস গোয়েন্দা তথ্য ঘিরে চাঞ্চল্য
মেসি পরিবারকে এগিয়ে নিতে দীর্ঘদিন একটি কারখানায় কাজ করেছেন হোর্হে। চার ভাইবোনের সংসারের দায়িত্ব সামলাতে তাঁকে কঠোর পরিশ্রম করতে হয়েছে। সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও ছেলের প্রতিভা বিকাশে কোনো বাধা আসতে দেননি তিনি।
লিওর উন্নত ভবিষ্যতের আশায় একসময় রোসারিও ছেড়ে বার্সেলোনায় পাড়ি জমান হোর্হে। পেশাদার ফুটবলার হওয়ার স্বপ্ন পূরণে অল্প বয়সেই লিওকে বার্সেলোনায় যেতে হয়েছিল। এতে একটা সময় মেসি পরিবারের সদস্যদের আলাদা থাকতে হয়। ছেলের স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য সেই বিচ্ছেদের কষ্টও মেনে নিয়েছিলেন হোর্হে ও তাঁর পরিবার।
বাবার নিরন্তর সমর্থন ও ত্যাগের সঙ্গে লিওর অসাধারণ প্রতিভা মিলেই তৈরি হয়েছে ইতিহাসের অন্যতম সেরা ফুটবলার। অনেকের চোখে লিও সর্বকালের সেরা। তাঁর এই সাফল্যের নেপথ্যে নীরব কারিগর হিসেবে কাজ করেছেন হোর্হে।
১৯৫৮ সালে আর্জেন্টিনার রোসারিওতে জন্মগ্রহণ করেন হোর্হে। তিনি ছিলেন নিউয়েলস ওল্ড বয়েজের সমর্থক। লিও ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে এই ক্লাবেই খেলেছেন এবং এখনো ক্লাবটিকে সমর্থন করেন।
আরও পড়ুনঃ বাবাকে হারালেন আর্জেন্টাইন জাদুকর লিওনেল মেসি
ছেলের ফুটবল ক্যারিয়ারের প্রতিটি পর্যায় খুব কাছ থেকে অনুসরণ করলেও নিজেকে প্রচারের আলো থেকে দূরে রাখতেন হোর্হে। জনসমক্ষে তাঁর উপস্থিতি ছিল খুবই সীমিত। এমনকি লিওর ক্যারিয়ারের অনেক স্মরণীয় মুহূর্ত—পুরস্কার গ্রহণ, শিরোপা উদ্যাপন ও জমকালো অনুষ্ঠানেও তিনি উপস্থিত হননি।
লিওর মা সেলিয়া কুচ্চিত্তিনিও সব সময় স্বামী হোর্হের পাশে ছিলেন। তাঁদের সম্মিলিত ত্যাগ, শ্রম ও সমর্থনই লিওর ফুটবলযাত্রার ভিত গড়ে দিয়েছিল। আর সেই ভিতের ওপর দাঁড়িয়েই রোসারিওর ছোট্ট লিও একদিন হয়ে ওঠেন বিশ্ব ফুটবলের মহাতারকা।

