কেপ ভার্দের বিপক্ষে ১২০ মিনিটের শ্বাসরুদ্ধকর লড়াই শেষে ৩–২ গোলের কষ্টার্জিত জয় তুলে নিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে আর্জেন্টিনা। কঠিন এই ম্যাচের পর স্বস্তি, আবেগ ও গর্ব—সবকিছুরই প্রতিফলন দেখা গেছে কোচ লিওনেল স্কালোনির প্রতিক্রিয়ায়। প্রতিপক্ষের প্রশংসার পাশাপাশি নিজের দলের লড়াকু মানসিকতারও ভূয়সী প্রশংসা করেছেন আর্জেন্টাইন কোচ।
মায়ামিতে অনুষ্ঠিত রাউন্ড অব ৩২-এর ম্যাচে নির্ধারিত ৯০ মিনিটে ১–১ সমতায় আটকে যায় আর্জেন্টিনা। অতিরিক্ত সময়ের ১১১তম মিনিটে কেপ ভার্দের আত্মঘাতী গোলে ৩–২ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। জয় এলেও শেষ বাঁশি পর্যন্ত দারুণ চাপে থাকতে হয়েছে লিওনেল স্কালোনির দলকে।
ম্যাচ শেষে স্পষ্টতই আবেগাপ্লুত ছিলেন আর্জেন্টিনা কোচ। নিজের দায়িত্বে ১০০তম ম্যাচে জয় পাওয়ার স্বস্তিও লুকাননি তিনি।
স্কালোনি বলেন, ‘এই দল কখনোই হার মানে না।’
এরপর স্বস্তি আর আবেগমেশানো কণ্ঠে তিনি যোগ করেন, ‘আমার ১০০তম ম্যাচে হারলে সেটা কেমন যেন হতো। কিন্তু এটাই তো ফুটবল।’
কঠিন এই ম্যাচ নিয়ে বিশ্লেষণ করতে গিয়ে স্কালোনি প্রতিপক্ষ কেপ ভার্দেরও প্রশংসা করেন। তাঁর মতে, বিশ্বকাপে কোনো ম্যাচই সহজ নয়—আফ্রিকার দলটি সেটিই আবারও প্রমাণ করেছে।
আরও পড়ুনঃ নাটকীয় ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে শেষ ষোলোয় মিসর
তিনি বলেন, ‘এটি ভীষণ কঠিন একটি ম্যাচ ছিল। তবে সব সময় ইতিবাচক দিকগুলোও দেখতে হয়। এই দল কখনো হার মানে না। প্রতিপক্ষকেও অভিনন্দন জানাই। যখন বলা হয়, বিশ্বকাপে কোনো ম্যাচই সহজ নয়, আজ তারা সেটাই প্রমাণ করেছে। তারা সত্যিই দুর্দান্ত একটি দল।’
ম্যাচের আবেগঘন মুহূর্ত পেরিয়ে স্কালোনি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন তাঁর দলের পরিশ্রম, মানসিক দৃঢ়তা এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টাকে। পুরো দল যেভাবে শেষ পর্যন্ত লড়ে গেছে, সেটিকেই জয়ের মূল কারণ হিসেবে দেখছেন তিনি।
আর্জেন্টিনা কোচ বলেন, ‘সবাই নিজের সর্বোচ্চটা দিয়েছে। শারীরিকভাবে আমরা দারুণ পরিশ্রম করেছি এবং কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও সামনে এগিয়ে যাওয়ার সাহস দেখিয়েছি।’
শেষ দিকে তিনি আর্জেন্টিনা দলের চিরচেনা লড়াকু মানসিকতার কথাও তুলে ধরেন। তাঁর বিশ্বাস, এই দলের পরিচয়ই হলো প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়ে এগিয়ে যাওয়া।
স্কালোনির ভাষায়, ‘এটাই আর্জেন্টিনা। যারা এই দলকে বোঝে না, তাদের জন্য বিষয়টি বোঝা কঠিন। আমরা আর্জেন্টাইনরা জানি, এই পথ মোটেও সহজ নয়।’
কেপ ভার্দের বিপক্ষে কঠিন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর এবার আর্জেন্টিনার সামনে আরও বড় চ্যালেঞ্জ। শেষ ষোলোয় আফ্রিকার আরেক প্রতিনিধি মিসরের মুখোমুখি হবে লিওনেল মেসির দল। কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে সেই ম্যাচেও একই রকম কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রত্যাশা করছেন ফুটবলপ্রেমীরা।

