আর্জেন্টিনা ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে কানসাসে ক্যাম্প করেছে। আর এই ক্যাম্প ঘিরে দলের ভেতরের কিছু ছোটখাটো বিষয় সামনে আসতে শুরু করেছে। সবচেয়ে বেশি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আছেন লিওনেল মেসি। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের মতো এবারও তিনি একটি বিশেষ অভ্যাস বজায় রেখেছেন—দলের অন্যদের সঙ্গে না থেকে একাই একটি হোটেল রুমে থাকছেন।
এই অভ্যাসটি নতুন নয়। সার্জিও আগুয়েরো জাতীয় দল থেকে অবসর নেওয়ার পর থেকেই মেসি জাতীয় দলের সফরে আর কারও সঙ্গে রুম শেয়ার করেন না। তিনি একাই একটি রুমে থাকেন। কাতার বিশ্বকাপে এই রুটিন আর্জেন্টিনার জন্য সফল হয়েছিল। তাই উত্তর আমেরিকায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বিশ্বকাপেও তিনি একই নিয়ম অনুসরণ করছেন।
যখন মেসি নিজের ব্যক্তিগত জায়গায় থাকেন, তখন দলের অন্য অভিজ্ঞ খেলোয়াড়রা একসঙ্গে রুম শেয়ার করেন। বিশেষ করে রদ্রিগো ডি পল, যিনি দলে মেসির খুব ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে পরিচিত, তিনি অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার নিকোলাস ওতামেন্ডির সঙ্গে রুম শেয়ার করছেন। মাঠে বহুবার আর্জেন্টিনার জার্সিতে তারা একসঙ্গে লড়াই করেছেন।
তবে মেসির রুম শুধু একাকী থাকার জায়গা নয়। দলের অনেক খেলোয়াড়ই জানিয়েছেন, মেসির রুম দ্রুতই পুরো দলের আড্ডার জায়গায় পরিণত হয়। সেখানে সবাই একত্র হয়, তারা ঐতিহ্যবাহী ‘ট্রুকো’ নামের তাস খেলা খেলে, একসঙ্গে মাতে পান করে এবং ম্যাচের চাপ থেকে কিছুটা সময়ের জন্য বিশ্রাম নেয়।
সবচেয়ে বেশি আলোচনার জন্ম দিয়েছে মেসির রুম নম্বর নিয়ে একটি বিষয়। ভক্তদের চোখে এটি একটি কাকতালীয় ঘটনা হলেও, সামাজিক মাধ্যমে এটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ ৪০ বছরেও এসে যেভাবে ৩০ বছরের মতো তরুণ মেসি-রোনালদোরা
কাতার বিশ্বকাপ ২০২২ সালে মেসির রুম নম্বর ছিল ২০১। টুর্নামেন্ট চলাকালে এবং আর্জেন্টিনা শিরোপা জয়ের পর ভক্তরা লক্ষ্য করেন যে “২+১” মিলে ৩ হয়, যা তারা কাতারে আর্জেন্টিনার তৃতীয় বিশ্বকাপ শিরোপার সঙ্গে প্রতীকীভাবে মিলিয়ে দেখেন।
এবার কানসাসে মেসির রুম নম্বর ২০২। এরপর থেকেই সামাজিক মাধ্যমে ভক্তরা নতুন করে নানা ব্যাখ্যা ও তত্ত্ব ছড়াতে শুরু করেন। অনেকেই মনে করছেন, “২+২” আবারও একটি প্রতীকী ইঙ্গিত হতে পারে, যা আর্জেন্টিনার চতুর্থ বিশ্বকাপ জয়ের দিকে ইঙ্গিত করছে।
এই ঘটনা সত্যিই কোনো ইঙ্গিত কি না, তা নিশ্চিত নয়। তবে আর্জেন্টিনা দলের ইতিহাসে থাকা নানা রকম রীতি, কুসংস্কার এবং ভক্তদের আবেগের সঙ্গে এটি সহজেই মিশে গেছে।
বিশ্বকাপ শুরু হতে আর দুই সপ্তাহের কম সময় বাকি। এর মধ্যেই মেসির প্রতিটি ছোট বিষয়ও ভক্তদের কাছে বড় আলোচনার কারণ হয়ে উঠছে। নিজের স্বাভাবিক রুটিনে থেকে মেসি আবারও এমন একটি গল্পের কেন্দ্রবিন্দুতে আছেন, যা আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ স্বপ্নকে ঘিরে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

