২০২৬ বিশ্বকাপে মিসরের ঐতিহাসিক পারফরম্যান্স এবং নকআউট পর্বে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিপক্ষে দুর্দান্ত লড়াইয়ের স্বীকৃতি হিসেবে প্রধান কোচ হোসাম হাসানের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ বাড়িয়েছে মিশরীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (ইএফএ)। নতুন চুক্তি অনুযায়ী, ২০৩০ সাল পর্যন্ত ফারাওদের ডাগআউটে দায়িত্ব পালন করবেন দেশটির কিংবদন্তি এই কোচ।
বুধবার এক বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে মিশরের ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা। ইএফএর সভাপতি হ্যানি আবু রিদা বলেন, ‘অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালনা পর্ষদ প্রধান কোচ হোসাম হাসান এবং দলের পরিচালক ইব্রাহিম হাসানের চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্তটি সানন্দে অনুমোদন করেছে।’
স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন চুক্তির আওতায় আগামী পাঁচ বছর মিশর জাতীয় দলের দায়িত্বে থাকবেন হোসাম হাসান। যদিও এবারের বিশ্বকাপে কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি ছাড়াই দলটির কোচের দায়িত্ব পালন করেন তিনি। গত ফেব্রুয়ারিতে তার আগের চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর বিশ্বকাপের আগে নতুন করে চুক্তি নবায়ন করেনি ফেডারেশন।
আরও পড়ুনঃ রাতে মরক্কোর বিপক্ষে মাঠে নামছে ফ্রান্স, খেলা দেখবেন যেভাবে
২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে মিশরের প্রধান কোচের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই দলের পারফরম্যান্সে আমূল পরিবর্তন আনেন ৫৯ বছর বয়সী এই কোচ। তার অধীনে ২০২৫ সালের আফ্রিকা কাপ অব নেশনসে সেমিফাইনালে ওঠে মিশর।
এবারের বিশ্বকাপে হোসাম হাসানের নেতৃত্বে আরও বড় সাফল্য পায় ফারাওরা। বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো জয় পাওয়ার পাশাপাশি প্রথমবারের মতো নকআউট পর্বে জায়গা করে নেয় দলটি।
গ্রুপ পর্বে নিউজিল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম জয় তুলে নেয় মিশর। এরপর বেলজিয়াম ও ইরানের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে দারুণ লড়াই করে ড্র করে তারা। এর মাধ্যমে গ্রুপ রানার্সআপ হিসেবে নিশ্চিত করে নকআউট পর্বের টিকিট।
শেষ বত্রিশের লড়াইয়ে অস্ট্রেলিয়াকে টাইব্রেকারে হারিয়ে ইতিহাস গড়ে মিশর। এরপর শেষ ষোলোতে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিপক্ষে কৌশলগত ফুটবলে মুগ্ধ করে হোসাম হাসানের দল। ম্যাচের ৭৮ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত ৩-২ ব্যবধানে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হয় আফ্রিকার প্রতিনিধিদের।
তবে এই হারেও প্রশংসা কুড়িয়েছে মিসরের লড়াকু পারফরম্যান্স। আন্তর্জাতিক ফুটবল অঙ্গনে দলটিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছেন হোসাম হাসান। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তিনি খেলোয়াড়দের মধ্যে আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলেন এবং মিসরকে আবারও প্রতিযোগিতামূলক দলে পরিণত করেন।
কোচ হওয়ার আগে খেলোয়াড় হিসেবেও ছিলেন মিসরীয় ফুটবলের অন্যতম সেরা তারকা হোসাম হাসান। জাতীয় দলের হয়ে ১৭৭টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে ৬৯ গোল করেছেন তিনি। এখনো মিসরের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড তার দখলেই রয়েছে।
খেলোয়াড় ও কোচ—দুই ভূমিকাতেই দেশের ফুটবলে অসামান্য অবদান রাখা হোসাম হাসানের প্রতি আস্থা রেখেই তাকে দীর্ঘমেয়াদে দায়িত্বে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মিশরীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন।

