পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের বিপক্ষে এখন পর্যন্ত একবারও হারেনি নরওয়ে। চার দেখায় দুটি জয় ও দুটি ড্র—পরিসংখ্যান নরওয়ের পক্ষেই। তবে এমন ইতিহাসও আত্মবিশ্বাসে ভাসাচ্ছে না আর্লিং হলান্ডকে। বরং শেষ ষোলোর লড়াইয়ে ব্রাজিলকে হারানোর সম্ভাবনাকে খুবই কম বলে মনে করছেন নরওয়ের এই তারকা স্ট্রাইকার। তাঁর মতে, অতীতের রেকর্ড নয়, বর্তমানের শক্তিমত্তাই ম্যাচটিকে কঠিন করে তুলেছে।
আগামী ৫ জুলাই বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর 'ডু অর ডাই' লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে ব্রাজিল ও নরওয়ে। নকআউট পর্বের এই মহারণকে ঘিরে ফুটবলপ্রেমীদের আগ্রহ তুঙ্গে। তবে মাঠের লড়াই শুরুর আগেই বাস্তববাদী অবস্থান নিয়েছেন নরওয়ের গোলমেশিন আর্লিং হলান্ড।
আরও পড়ুনঃ তান্ত্রিকের ভবিষ্যদ্বাণী সত্যি প্রমাণ করে কেনের জোড়া গোলে কষ্টার্জিত জয়, শেষ ষোলোয় ইংল্যান্ড
বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত পাঁচ গোল করা ম্যানচেস্টার সিটির এই স্ট্রাইকার সংবাদ সম্মেলনে ব্রাজিলকে হারানোর সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ।’
হালান্ড মনে করেন, শেষ ষোলোয় উঠলেও সামনে আরও কঠিন চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে তাদের জন্য। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এখন আমরা শেষ ষোলোতে উঠেছি। সামনে দুর্দান্ত সব দলের মুখোমুখি হতে হবে, তাই কাজটা মোটেও সহজ হবে না। পরের ধাপে যাওয়া খুবই কঠিন হবে। আমরা পারব কি না, সেটাও জানি না। তবে আমরা অনেক প্রস্তুতি নিয়েছি এবং এখনো সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েই এগিয়ে যাচ্ছি।’
ব্রাজিল-নরওয়ের দ্বৈরথের ইতিহাস অবশ্য নরওয়েকেই এগিয়ে রাখে। ১৯৯৮ সালের ফ্রান্স বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে রোনালদো, রিভালদো, কাফুদের নিয়ে গড়া শক্তিশালী ব্রাজিলকে ২-১ গোলে হারিয়ে দিয়েছিল ভাইকিংরা। সেই ম্যাচটি এখনো বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম বড় অঘটন হিসেবে বিবেচিত হয়।
শুধু বিশ্বকাপই নয়, ১৯৮৮ ও ১৯৯৭ সালের দুটি প্রীতি ম্যাচেও মুখোমুখি হয়েছিল দুই দল। এর মধ্যে একটিতে জয় পায় নরওয়ে, অন্যটি ড্র হয়। পরে ২০০৬ সালের প্রীতি ম্যাচও ১-১ সমতায় শেষ হয়। অর্থাৎ ব্রাজিলের বিপক্ষে চার ম্যাচে নরওয়ের দুটি জয়, দুটি ড্র এবং কোনো হার নেই।
তবে অতীতের এই পরিসংখ্যানকে খুব বেশি গুরুত্ব দিতে রাজি নন হলান্ড। কারণ, তাঁর মতে বর্তমান ব্রাজিল অনেক শক্তিশালী এবং নকআউটের চাপ সম্পূর্ণ ভিন্ন।
নরওয়ের জন্য এবারের বিশ্বকাপও বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। ১৯৯৮ সালের পর এই প্রথম বিশ্বকাপে জায়গা করে নিয়েছে তারা। দীর্ঘ ২৮ বছর পর ফিরে এসে শুধু গ্রুপ পর্বই পেরোয়নি, প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বেও জয় তুলে নিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে দলটি।
আরও পড়ুনঃ ভেনেজুয়েলার ভূমিকম্প দুর্গতদের জন্য ৩ কোটির বেশি টাকা অনুদান দিলেন নেইমার
এই অর্জনকে নিজের ক্যারিয়ারের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত হিসেবে দেখছেন হলান্ড। আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘এটা একটা ইতিহাস, অনুভূতিটা অবিশ্বাস্য। ২৮ বছর পর প্রথমবারের মতো আমরা টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের যোগ্যতা অর্জন করেছি, গ্রুপ পর্ব পেরিয়েছি, আর এখন নকআউট পর্বেও উঠে নিউইয়র্কে ব্রাজিলের মুখোমুখি হতে যাচ্ছি। এখন থেকে যা-ই হবে, সবই আমাদের জন্য বাড়তি প্রাপ্তি।’
এর আগে নরওয়ে তিনবার বিশ্বকাপে খেললেও দুবারই শেষ ষোলো থেকে বিদায় নিতে হয়েছিল। ২৮ বছর পর আবার একই মঞ্চে দাঁড়িয়ে এবার ইতিহাস বদলানোর সুযোগ পেয়েছে স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশটি। তবে সামনে অপেক্ষা করছে নেইমার, ভিনিসিয়ুসদের ব্রাজিল। নিউইয়র্কের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিতব্য ম্যাচে তাই আত্মবিশ্বাসের পাশাপাশি বাস্তবতাকেও গুরুত্ব দিচ্ছেন হলান্ড।
এখন দেখার বিষয়, ব্রাজিলের বিপক্ষে নিজেদের অপরাজিত রেকর্ড ধরে রেখে নরওয়ে আরও একটি রূপকথা লিখতে পারে কি না, নাকি অতীতের সব পরিসংখ্যান বদলে দিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করবে সেলেসাওরা।

