অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঐতিহাসিক টেস্ট জয়ে বাংলাদেশের অন্যতম বড় নায়ক পেসার হাসান মাহমুদ। তাঁর দুর্দান্ত বোলিংয়ে স্বাগতিকদের ব্যাটিং বিপর্যয় নেমে আসে। ম্যাচে ৯ উইকেট শিকার করে দেশের বাইরে টেস্টে বাংলাদেশের সেরা বোলিং ফিগারের রেকর্ড গড়েছেন তিনি। তবে ব্যক্তিগত কীর্তির চেয়ে দলীয় সাফল্যকেই বড় করে দেখছেন এই পেসার।
ডারউইনের মারারা স্টেডিয়ামে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্টে হাসান মাহমুদের বোলিং পরিসংখ্যান—১১১ রানে ৯ উইকেট। দেশের বাইরে টেস্টে এক ম্যাচে এটিই এখন বাংলাদেশের কোনো বোলারের সেরা বোলিং। এর আগে ২০২১ সালে হারারে টেস্টে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ১৪৮ রানে ৯ উইকেট নিয়েছিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। এবার হাসানের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে সেই রেকর্ড পেছনে পড়ে গেছে।
অস্ট্রেলিয়ার সংবাদমাধ্যমের ভাষায়, ডারউইন টেস্টে তৈরি হয়েছিল ‘ডারউইন ডিজাস্টার’। সেই বিপর্যয়ের মূল কারিগর ছিলেন হাসান। প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেট নিয়ে তিনি অস্ট্রেলিয়াকে শুরুতেই চাপে ফেলে দেন। এরপর স্বাগতিকরা আর ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পায়নি।
আরও পড়ুনঃ আতলেতিকো মাদ্রিদে যোগ দিলেন আর্জেন্টাইন তারকা ক্রিস্তিয়ান রোমেরো
দ্বিতীয় ইনিংসে আরও ৩ উইকেট নিয়ে ম্যাচে নিজের শিকার ৯-এ নিয়ে যান হাসান। তখন অনেকের প্রত্যাশা ছিল, বাংলাদেশের প্রথম পেসার হিসেবে এক টেস্টে ১০ উইকেট নেওয়ার কীর্তি গড়বেন তিনি। তবে মেহেদী হাসান মিরাজ ৫ উইকেট এবং তাসকিন আহমেদ ও তাইজুল ইসলাম একটি করে উইকেট নেওয়ায় সেই সুযোগ আর হয়নি।
তবে ব্যক্তিগত মাইলফলক না হলেও ম্যাচসেরার পুরস্কার উঠেছে হাসানের হাতেই। মিরাজের অলরাউন্ড পারফরম্যান্স ও তানজিদ হাসান তামিমের সেঞ্চুরির পরও অস্ট্রেলিয়াকে শুরুতেই ব্যাকফুটে ঠেলে দেওয়ার কারণে ম্যাচসেরার স্বীকৃতি পেয়েছেন এই পেসার।
পুরস্কার নেওয়ার পরও হাসানের বক্তব্যে ছিল না ব্যক্তিগত অর্জনের অহংকার। পুরো কৃতিত্ব দিয়েছেন দলকে। সাফল্যের মূলমন্ত্র হিসেবে তিনি তুলে ধরেছেন কঠোর অনুশীলন, আত্মবিশ্বাস এবং পরিকল্পনা বাস্তবায়নের বিষয়টি।
হাসান বলেন, ‘অনুশীলনে আমরা প্রতিদিন, প্রতিটি সেকেন্ডে নিজেদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। আমাদের মাথায় শুধু এটিই ছিল—যা–ই ঘটুক না কেন, নিজের ওপর আস্থা রাখতে হবে ও প্রক্রিয়া মেনে চলতে হবে।’
আরও পড়ুনঃ বাংলাদেশকে জয়ের আভাস দিচ্ছে পরিসংখ্যানও
দল ম্যাচের ফল নিয়ে আগে থেকে ভাবেনি জানিয়ে হাসান বলেন, ‘আমাদের দলীয় পরিকল্পনা ছিল। সতীর্থ এবং কোচদের সঙ্গে বসে ভিডিও বিশ্লেষণ করে পরিকল্পনা করেছি যে আমাদের কী করা উচিত। মাঠে নেমে আমরা ঠিক সেটাই বাস্তবায়ন করেছি।’
বোলারদের সম্মিলিত প্রচেষ্টাকেও সাফল্যের বড় কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন হাসান। তিনি বলেন, ‘সব বোলারই দারুণ ধৈর্য দেখিয়েছে। তারা সঠিক প্রক্রিয়া মেনে কেবল নির্দিষ্ট লাইন ও লেংথ বজায় রেখে বোলিং করেছে, যার সুফল আমরা পেয়েছি।’
অস্ট্রেলিয়া সফরের শুরু থেকেই দল নিজেদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছে বলেও জানান এই পেসার। তাঁর মতে, প্রতিটি মুহূর্তে নিজেদের প্রস্তুত রাখার মানসিকতাই বড় পার্থক্য গড়ে দিয়েছে।
দেশের মানুষের ভালোবাসার প্রসঙ্গেও আবেগ প্রকাশ করেছেন হাসান। অ্যাডাম গিলক্রিস্টের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘(দেশে) তারা আমার জন্য নিশ্চিতভাবেই ভীষণ খুশি। দেশে ফিরে আমার এলাকার মানুষের মুখোমুখি হলে দেখব তারা উৎসব করছে।’

