বিশ্বকাপে নিজেদের ইতিহাসের প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমে ইউরোপের অন্যতম পরাশক্তি স্পেনকে প্রথমার্ধে গোলশূন্য সমতায় আটকে রেখে চমক দেখিয়েছে নবাগত কেপ ভার্দে। আটলান্টা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচের প্রথম ৪৫ মিনিট শেষে স্কোরলাইন ছিল ০-০। বল দখল, আক্রমণ ও সুযোগ তৈরিতে স্পেনের একচেটিয়া আধিপত্য থাকলেও কেপ ভার্দের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ভোজিনিয়ার অসাধারণ নৈপুণ্যে গোলের দেখা পায়নি লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল।
ম্যাচের শুরু থেকেই কেপ ভার্দের ওপর চাপ সৃষ্টি করে স্পেন। প্রথমার্ধে ৭০ শতাংশ বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখে ইউরো চ্যাম্পিয়নরা। গোলের উদ্দেশে নেয় ১০টি শট, যার মধ্যে ৫টি ছিল লক্ষ্যে। বিপরীতে কেপ ভার্দে নিতে পেরেছে মাত্র ৩টি শট, তবে একটিও লক্ষ্যে রাখতে পারেনি। স্পেন ৩৭৩টি পাস খেললেও কেপ ভার্দের আক্রমণ গড়ে ওঠে খুব কম। পরিসংখ্যানের প্রায় সব ক্ষেত্রেই এগিয়ে ছিল স্প্যানিশরা।
আরও পড়ুনঃ নবাগত কেপ ভার্দের বিপক্ষে মাঠে নামছে ফেবারিট স্পেন, একাদশে নেই ইয়ামাল
তবে মাঠের চিত্রে সবচেয়ে বড় পার্থক্য গড়ে দেন কেপ ভার্দের ৪০ বছর বয়সী গোলরক্ষক ভোজিনিয়া। একের পর এক দুর্দান্ত সেভ করে স্পেনের নিশ্চিত গোলের সুযোগগুলো নষ্ট করে দেন তিনি। কখনও ডানদিকে ঝাঁপিয়ে, কখনও কাছ থেকে নেওয়া শট প্রতিহত করে দলকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখেন অভিজ্ঞ এই গোলকিপার। প্রথমার্ধে স্পেনের অন্তত কয়েকটি নিশ্চিত গোলের সুযোগ তাঁর হাতেই ব্যর্থ হয়।
স্পেনের আক্রমণে নেতৃত্ব দেন ফেরান তোরেস ও মিকেল ওইয়ারসাবাল। মাঝমাঠে রদ্রি, পেদ্রি, গাভি ও ফাবিয়ান রুইজের নিয়ন্ত্রণে একের পর এক আক্রমণ তৈরি হলেও শেষ মুহূর্তে গোলের দেখা মেলেনি। গোলমুখে বেশ কয়েকটি সহজ সুযোগও হাতছাড়া করেন স্প্যানিশ ফরোয়ার্ডরা।
অন্যদিকে, নিজেদের বিশ্বকাপ অভিষেকেই রক্ষণাত্মক কৌশল নিয়ে মাঠে নামে কেপ ভার্দে। দলের শুরুর একাদশের গড় বয়স ছিল ৩১ বছর ২৬ দিন, যা চলতি বিশ্বকাপের সবচেয়ে বেশি বয়সী একাদশের রেকর্ড। সেই একাদশে ছিলেন ৪০ বছর বয়সী গোলরক্ষক ভোজিনিয়া, যিনি প্রথমার্ধের অন্যতম নায়ক হয়ে ওঠেন।
কাকতালীয়ভাবে, একদিন আগে জার্মানির হয়ে মাঠে নেমেছিলেন ৪০ বছর বয়সী গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়ার। আর ভোজিনিয়ার মাঠে নামার মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপের একই আসরে প্রথমবারের মতো ৪০ বা তার বেশি বয়সী দুই ফুটবলারকে খেলতে দেখল ফুটবল বিশ্ব।
আরও পড়ুনঃ ফুটবল বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়া কেন এশিয়া মহাদেশের হয়ে খেলে
ম্যাচের আগে স্পেনের জন্য আরেকটি আলোচনার বিষয় ছিল লামিনে ইয়ামালের অনুপস্থিতি। হ্যামস্ট্রিং চোট থেকে পুরোপুরি সেরে না ওঠায় বার্সেলোনার এই তরুণ তারকা ম্যাচের শুরুর একাদশে জায়গা পাননি। ফলে আক্রমণভাগে ফেরান তোরেস ও মিকেল ওইয়ারসাবালের ওপরই ভরসা রাখেন কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে।
কাগজে-কলমে দুই দলের শক্তির ব্যবধান ছিল বিশাল। একদিকে বর্তমান ইউরো চ্যাম্পিয়ন স্পেন, অন্যদিকে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের মঞ্চে পা রাখা কেপ ভার্দে। কিন্তু প্রথমার্ধের ৪৫ মিনিটে সেই ব্যবধান মাঠে ফুটে ওঠেনি স্কোরবোর্ডে। স্পেনের দাপুটে ফুটবল, ১০টি শট, ৫টি অন-টার্গেট প্রচেষ্টা এবং ৭০ শতাংশ বল দখলও গোল এনে দিতে পারেনি।
ফলে প্রথমার্ধ শেষে নবাগত কেপ ভার্দের জন্য ০-০ সমতা নিঃসন্দেহে বড় সাফল্য। আর স্পেনের জন্য এটি হতাশার, কারণ আধিপত্য বিস্তার করেও গোল আদায় করতে পারেনি তারা। এখন দ্বিতীয়ার্ধে এই অচলাবস্থা ভাঙতে স্প্যানিশ কোচ বেঞ্চে থাকা বিকল্প অস্ত্রদের মাঠে নামান কি না, সেটিই দেখার অপেক্ষা।

