শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো আধুনিকায়নে আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে দেশের ৮ হাজার ২৩২টি মাদ্রাসা 'ফ্রি ওয়াই-ফাই' চালু করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রশ্নোত্তরে লিখিত জবাবে এ কথা বলেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, চলতি অর্থবছরেই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুই লাখ শিশুর মাঝে বিনা মূল্যে স্কুলড্রেস বিতরণের কাজ চলছে। এ ছাড়াও বিভিন্ন স্কুলে পর্যায়ক্রমে 'ওয়ান টিচার ওয়ান ট্যাব' পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে।
তিনি বলেন, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহ আধুনিকায়নে আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে দেশের দুই হাজার ৩৩৬টি কারিগরি ও আট হাজার ২৩২টি মাদ্রাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে 'ফ্রি ওয়াই-ফাই' চালু করা হবে।
আরও পড়ুন: প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিনা মূল্যে ইউনিফর্ম দেবে সরকার: ববি হাজ্জাজ
তারেক রহমান বলেন, সারা দেশে শহর ও গ্রাম অঞ্চলে খেলার মাঠ ও অবকাঠামো উন্নয়নে কর্মকৌশল নির্ধারণে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে গঠিত কমিটি কাজ করছে। প্রতিটি ইউনিয়ন ও উপজেলায় যথাক্রমে ৮ বিঘা ও ১০ বিঘা করে উন্মুক্ত খেলার মাঠ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি বলেন, ব্যক্তি নয়, পরিবারই উন্নয়নের মূল একক। এই দর্শনে প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের পরিবারকে সুরক্ষা দিতে প্রাথমিক পর্যায়ে ১৩টি জেলা এবং ৩টি সিটি করপোরেশনে ৩৭ হাজার ৮১৪টি পরিবারের নারীপ্রধানকে 'ফ্যামিলি কার্ড' এর মাধ্যমে মাসিক আড়াই হাজার টাকা প্রদানের কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, কৃষির উন্নয়ন ও কৃষকদের ইউনিক পরিচয় নিশ্চিতকরণে ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ, সরকারি ভর্তুকি ও প্রণোদনা, স্বল্পমূল্যে সেচ সুবিধা, সহজ শর্তে কৃষি যন্ত্রপাতি প্রদানের লক্ষ্যে পয়লা বৈশাখে (১৪ এপ্রিল) কৃষক কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, 'প্রি-পাইলটিং পর্যায়ে দেশের ১০টি জেলার ১১টি উপজেলার ১১টি কৃষি ব্লকে এ কার্যক্রম চলছে। এছাড়া, নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সরকার শস্য, ফসল, পশুপালন ও মৎস্য খাতে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করেছে। এ লক্ষ্যে সরকার ইতিমধ্যে ১৫৬৭.৯৬ (এক হাজার পাঁচশত সাতষট্টি কোটি ছিয়ানব্বই লাখ) কোটি টাকা বাজেট বরাদ্দ করেছে এবং এর ফলে সারা দেশের প্রায় ১৩ লাখ ১৭ হাজার ৫০০ জন কৃষক উপকৃত হবে।
আরও পড়ুন: শিক্ষায় সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগ করবে সরকার: শিক্ষামন্ত্রী
তারেক রহমান বলেন, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় হতে ১৮০ দিনের অগ্রাধিকার কর্মসূচির আওতায় মসজিদ, মন্দির, বৌদ্ধ বিহার, প্যাগোডা ও চার্চে কর্মরত ব্যক্তিবর্গের জন্য সম্মানী ও উৎসব ভাতা প্রদানের লক্ষ্যে পাইলট স্কিমের মাধ্যমে ইতিমধ্যে নয় হাজার ১০২ জন উপকারভোগীর ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে সম্মানী ভাতা প্রেরণ করা হয়েছে। যার আওতা সম্প্রসারণের কাজ চলছে।
তিনি বলেন, ১৮০ দিনের কর্মসূচির আওতায় জনগণকে 'ই-হেলথ কার্ড' প্রদানের উদ্যাগ গ্রহণ করা হয়েছে। এ বিষয়ক একটি প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। উক্ত প্রকল্পের মাধ্যমে ১৮০ দিনের মধ্যে ৫টি জেলার (খুলনা, নোয়াখালী, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও নরসিংদী) জনসাধারণকে ই-হেলথ কার্ডের মাধ্যমে চিকিৎসাসেবা দেয়ার কার্যক্রম শুরু করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের ১৮০ দিনের কর্মসূচির আওতায় খাল খনন কিংবা পুনঃখনন কর্মসূচি গত ১৬ মার্চ শুরু হয়েছে। চলতি বছরের জুন পর্যন্ত পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ ও কৃষি মন্ত্রণালয় ১ হাজার ২০৪ কিলোমিটার খাল খনন কিংবা পুনঃখনন করবে। এছাড়া দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় চলতি বছরের জুন পর্যন্ত কাবিখা (কাজের বিনিময়ে খাদ্য), কাবিটা (কাজের বিনিময়ে টাকা), টিআর (টেস্ট রিলিফ) এর মাধ্যমে এক হাজার ৫০০ কি.মি. খাল পুনঃখনন করবে।
আরও পড়ুন: প্রাথমিক বৃত্তিতে অর্থ ও আসন বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে সরকার: ববি হাজ্জাজ
তিনি বলেন, আমাদের পরিকল্পনা হলো আগামী ৫ বছরে সর্বমোট ২০ হাজার কিলোমিটার খাল ও নদী খনন এবং পুনঃখনন করা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার ৫ লাখ সরকারি কর্মচারী নিয়োগের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এরমধ্যে শুধু জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং অধীনস্থ দপ্তর ও সংস্থাসমূহে শূন্য পদের বিপরীতে ২ হাজার ৮৭৯ জন লোক নিয়োগের কার্যক্রম চলছে।

