খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ রাশিদুল ইসলাম খান তথ্য ফাঁসের ঘটনায় অধীনস্থ এক ইন্সপেক্টরকে ‘গাছে ঝুলিয়ে পিটিয়ে মারার’ মন্তব্য করায় তাকে তাৎক্ষণিকভাবে বর্তমান কর্মস্থল থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। পুলিশ সদরদপ্তরের নির্দেশে তাকে খুলনা থেকে সরিয়ে ঢাকার পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে সংযুক্ত করা হয়েছে।
শনিবার (২০ জুন) পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের পার্সোনেল ম্যানেজমেন্ট-১ শাখা থেকে জারি করা এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।
আরও পড়ুন: বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন ভারতের নবনিযুক্ত হাইকমিশনার
আদেশে বলা হয়েছে, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (বিপিএম-সেবা, পিপিএম-বার) মোহাম্মদ রাশিদুল ইসলাম খানকে বর্তমান কর্মস্থলের দায়িত্বভার অর্পণ করে ২১ জুন পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে রিপোর্ট করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় গত ১৭ জুন খুলনার লবণচরা থানার মহিরবাড়ি খালপাড় এলাকায় স্থানীয় জনগণের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায়। সেখানে কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা অভিযোগ করেন, পুলিশের কাছে দেওয়া গোপন তথ্য বাহিনীর ভেতরের কিছু অসাধু সদস্য সন্ত্রাসীদের কাছে ফাঁস করে দেয়।
এ অভিযোগের জবাবে স্থানীয়দের আশ্বস্ত করতে গিয়ে রাশিদুল ইসলাম খান একটি বিতর্কিত মন্তব্য করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া প্রায় ২৫ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, “কোনো ইনফরমেশন ইন্সপেক্টরকে বলার পর যদি ফাঁস হয়, তবে মুসলমান হিসেবে কথা দিচ্ছি, ঐ ইন্সপেক্টরকে গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে মারবেন। আপনারা গোপন তথ্য দিবেন, আল্লাহ ছাড়া কেউ জানলে আমি কথা দিচ্ছি গাছের সঙ্গে ঝুলাইয়া পিটাব।”
আরও পড়ুন: শিবিরের বহিষ্কৃত নেতার দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর
ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। একজন ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তার মুখে এমন বক্তব্যকে অনেকেই আইনের শাসন ও বাহিনীর শৃঙ্খলার পরিপন্থী হিসেবে অভিহিত করেন।
এদিকে, ২০ জুন বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন (বিপিএ) এক বিবৃতিতে এ বক্তব্যের নিন্দা জানিয়ে এটিকে প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা ও পেশাগত মর্যাদার পরিপন্থী বলে উল্লেখ করে।
পুলিশ সদরদপ্তরের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বক্তব্যটি নিয়ে ব্যাপক জনসমালোচনা এবং বাহিনীর ভাবমূর্তি ও শৃঙ্খলা রক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে রাশিদুল ইসলাম খানকে খুলনা থেকে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

