রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলায় আহত ও অসুস্থ একটি হনুমান চিকিৎসার আশায় নিজেই একটি ক্লিনিকে এসে আশ্রয় নেয়। ক্লিনিকের রোগীদের বিশ্রামের জন্য রাখা বেঞ্চে মাথা নিচু করে বসে থাকা হনুমানটির এমন দৃশ্য স্থানীয়দের দৃষ্টি কাড়ে।
পাংশা পৌর শহরের হামিদা মেডিকেল সেন্টারে দেখা যায়, কেউ মোবাইল ফোনে তার ভিডিও ধারণ করছেন, আবার কেউ তাকে কলা খেতে দিচ্ছেন। তবে হনুমানটি কখনো মাথা নিচু করে বসে থাকছে, কখনো আবার শুয়ে পড়ছে।
ক্লিনিকটির স্বত্বাধিকারী আরিফুল ইসলাম জানান, দুই দিন আগেও হনুমানটি সেখানে এসেছিল। তখন সে হাত দিয়ে নিজের কাঁধের দিকে ইঙ্গিত করছিল, যেখানে কয়েকটি সেলাই দেওয়া ছিল।
আরও পড়ুন: ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে মারধরের অভিযোগ, এসআইসহ ৩ জন ক্লোজড
তিনি বলেন, খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পাংশা উপজেলার হাবাসপুর এলাকায় এক তাল বিক্রেতা ধারালো অস্ত্র দিয়ে হনুমানটিকে আঘাত করেছিল। বৃহস্পতিবার সকালে ক্লিনিকে এসে কিছুক্ষণ অবস্থান করার পর চলে গেলেও দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আবার ফিরে আসে। তবে ক্লিনিকে প্রাণিচিকিৎসক না থাকায় তারা কোনো চিকিৎসা দিতে পারেননি।
পরে বিষয়টি প্রাণিসম্পদ ও বন বিভাগকে জানানো হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এসে দুপুর আড়াইটার দিকে হনুমানটির চিকিৎসা শুরু করেন।
বর্তমানে হনুমানটি পাংশা উপজেলা বন কর্মকর্তার কার্যালয়ে রয়েছে। বন কর্মকর্তা মো. আজিজুল হক জানান, কাঁধে সেলাই দেওয়া স্থানে সংক্রমণ দেখা দিয়েছে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তার চিকিৎসা চলছে।
আরও পড়ুন: জুলাই হত্যা মামলায় সাংবাদিক দম্পতি শাকিল-রুপার জামিন
তিনি বলেন, আগের দিনের তুলনায় হনুমানটির শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে। খাঁচায় রাখতে পারলে আরও উন্নত চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হতো। খাঁচার ব্যবস্থা করা হলেও তাকে নিরাপদে ধরার প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি তাদের কাছে নেই।
আজিজুল হক আরও জানান, বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে। কে বা কারা হনুমানটিকে আঘাত করেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে ঘটনাটি বেশ কয়েক দিন আগের এবং এ বিষয়ে থানাকে অবগত করা হয়েছে। পুলিশ অভিযুক্ত ব্যক্তিকে শনাক্তের চেষ্টা করছে।
তবে পাংশা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মইনুল ইসলাম বলেন, বন বিভাগের পক্ষ থেকে এ ধরনের কোনো অভিযোগের বিষয়ে তিনি অবগত নন।

