কৃষকদের আত্মনির্ভরশীল ও সচ্ছল করতেই কৃষক কার্ড: প্রধানমন্ত্রী

জিটি রিপোর্ট

প্রকাশ:

টাঙ্গাইলের শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে কৃষক কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
টাঙ্গাইলের শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে কৃষক কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান|ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, দেশের কৃষকদের আত্মনির্ভরশীল ও সচ্ছল করতেই সরকার কৃষক কার্ড চালু করেছে।

আজ মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দুপুরে টাঙ্গাইলে শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে কৃষক কার্ড কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করে প্রধানমন্ত্রী একথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান নির্বাচিত সরকারের লক্ষ্যই হচ্ছে, কৃষককে আত্মনির্ভরশীল ও সচ্ছল হিসেবে গড়ে তোলা। সেজন্যই এই কৃষক কার্ড আমরা দিয়েছি।’

দেশের ১১টি উপজেলায় পরীক্ষামূলকভাবে ১৫ জন প্রান্তিক কৃষকের হাতে ‘কৃষক কার্ড’ তুলে দেয়ার মাধ্যমে সারা দেশে প্রি-পাইলট প্রকল্পের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।

বেলা ১২টা ২২ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী ল্যাপটপের বাটন চাপার সঙ্গে সঙ্গে টাঙ্গাইলসহ দেশের ১১টি উপজেলার ২২ হাজার ৬৭ জন কৃষকের প্রত্যেকের কাছে মোবাইলের মাধ্যমে ব্যাংক অ্যাকাউন্টে আড়াই হাজার টাকা নগদ অর্থ চলে যায়।

আরও পড়ুন: শিক্ষায় সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগ করবে সরকার: শিক্ষামন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা নিশ্চয়ই অবগত হয়েছেন যে, কৃষক কার্ডের মাধ্যমে আমরা কৃষকের কাছে সরাসরি ১০টি সুবিধা পৌঁছে দিতে চেষ্টা করব ইনশআল্লাহ। ১০টি সুবিধার মাধ্যমে কৃষক তার অবস্থান অনেক ক্ষেত্রে পরিবর্তন করতে সক্ষম হবেন।’ 

বিএনপির চেয়ারম্যান দলের নির্বাচনি ইশতেহারের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘এই মঞ্চে যত মানুষ উপস্থিত আছেন হয়তো সবাই সরাসরিভাবে কৃষক বা কৃষির সঙ্গে সম্পৃক্ত নন। কিন্তু আমাদের পরিবারের কেউ না কেউ আছেন, যে মানুষটি কৃষির সঙ্গে সম্পৃক্ত। বাংলাদেশে আমরা যত মানুষ আছি তার মধ্যে চার কোটি পরিবার আছে তাদের পরিবারের কেউ না কেউ কৃষির সঙ্গে সম্পৃক্ত অর্থাৎ এই দেশের প্রধান পেশা হচ্ছে কৃষি।’

তারেক রহমান বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বাস করি, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিশ্বাস করে, বর্তমান নির্বাচিত সরকার বিশ্বাস করে যে, এই দেশের কৃষক যদি সচ্ছল থাকে, এই দেশের কৃষক যদি বেঁচে থাকে, এই দেশের কৃষক যদি ভালো থাকে তাহলে সমগ্র বাংলাদেশ ভালো থাকতে পারবে।’ 

প্রধানমন্ত্রী জানান, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে সরকার পর্যায়ক্রমে ২ কোটি ৭৫ লাখ কৃষকের হাতে কৃষক কার্ড পৌঁছে দেবে।

আরও পড়ুন: ‘অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলতে না পারলে সংসদে থাকব না’

ঢাকা থেকে থেকে সড়কপথে প্রধানমন্ত্রী সরাসরি টাঙ্গাইলে শহীদ মারুফ স্টেডিয়াম আসেন। বেলা ১২ টা ২২ মিনিটে তিনি কৃষক কার্ড কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। প্রধানমন্ত্রী ল্যাপটপে বাটন প্ল্যাসের সঙ্গে সঙ্গে টাঙ্গাইলসহ সারা দেশে ১১টি উপজেলার ২২ হাজার ৬৭ জন কৃষকের প্রত্যেকের মোবাইলের মাধ্যমে ব্যাংক একাউন্টে আড়াই হাজার টাকার নগদ অর্থ চলে যায়। টাঙ্গাইলে ১ হাজার চারশ ৫৩ জন কৃষক-কৃষাণী এই অর্থ পেয়েছেন।

ছবি: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়

ছবি: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়

প্রধানমন্ত্রী মঞ্চে ১৫ জন কৃষক-কৃষাণীর হাতে কৃষক কার্ড এবং গাছের চারা তুলে দেন। তিনি কৃষক-কৃষাণীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘এই যে গাছের চারা দিচ্ছি, তা বড় হলে ফল কিন্তু আমার জন্য পাঠাবেন।’

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলে কৃষক ও কৃষিক্ষেত্রে নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। 

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেছিলেন, যার মাধ্যমে আমরা দেখেছিলাম এক বছরের মধ্যে বাংলাদেশ কৃষিতে মোটামুটিভাবে শস্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছিল। আমরা দেখেছি দেশে ১৯৭৪ সালে দুর্ভিক্ষে অসংখ্য মানুষ না খেয়ে মারা গিয়েছিল। সেই বাংলাদেশে আমরা দেখেছি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় শুধু খাল খনন করার ফলে, কৃষক সেচসুবিধা পাওয়ার ফলে কৃষির উৎপাদন দ্বিগুণ হয়েছিল। সেই সময় এই বাংলাদেশ থেকে অল্প পরিমাণে হলেও বিদেশে খাদ্য রপ্তানি করতে সক্ষম হয়েছিল।’

আরও পড়ুন: বাঙ্কার-টানেল বানিয়েও রক্ষা হবে না: সারজিস

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি যতবার দেশ পরিচালনার সুযোগ পেয়েছে, বিএনপি সরকার কৃষক ভাইদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছে। আপনারা বিএনপির ওপরে বিগত নির্বাচনে আস্থা রেখেছেন ইনশাআল্লাহ এই সরকার আপনাদের সেই আস্থার পূর্ণ মর্যাদা দেবে।’ 

তিনি বলেন, ‘আমি বলতে চাই, এখন আমাদের দেশ গড়ার সময়। কৃষক ভাইদের পাশে আমরা যেমন দাঁড়াব, একই সঙ্গে দেশের কৃষাণী বোনসহ দেশের যে নারী সমাজ আছেন তাদের পাশে দাঁড়াব।’

দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘নারী সমাজকে যদি আমরা স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে না পারি তাহলে এই দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারব না। সেই কারণেই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, আমরা যদি সরকার গঠন করতে সক্ষম হই তাহলে বাংলাদেশের মা-বোনদের জন্য, নারীদের জন্য, পরিবারের নারী প্রধানের জন্য আমরা ফ্যামিলি কার্ড চালু করব। আল্লাহর রহমতে সেই কাজটি পাইলট প্রজেক্ট আকারে আমরা শুরু করতে সক্ষম হয়েছি। পর্যায়ক্রমিকভাবে আগামী পাঁচ বছরের ভেতরে আমরা পরিবারের সব নারী প্রধানের কাছে এই কার্ডের সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার জন্য চেষ্টা করব।’

আরও পড়ুন: কারিগরি শিক্ষা জাতীয় উন্নয়নের প্রধান চালিকাশক্তি: শিক্ষামন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান সরকার জনগণের সরকার। এই সরকার কৃষক বলুন, দেশের মা-বোনদের কথা বলুন, মসজিদের ইমাম-খতিব সাহেব সহ অন্যান্য ধর্মীয় গুরু যারা আছেন তাদের কথা বলুন, ছাত্রদের কথা বলুন, দল-শ্রেণী-পেশা নির্বিশেষে প্রত্যেকটি মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করবে।’

ছবি: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়

ছবি: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়

তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে দেশের উন্নয়ন ও মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন। সেজন্যই আমরা বলে থাকি, ‘করব কাজ, গড়ব দেশ সবার আগে বাংলাদেশ’।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশবাসীর উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আসুন আমরা এই দেশের প্রত্যেকটি নাগরিক আমরা রাজনীতি করি বা না করি, আমরা কৃষক হই বা না হই, আমরা ছাত্র হই না হই, আমরা ব্যবসায়ী হই বা না হই, যে মানুষই হয়ে থাকি না কেন, যে পেশার মানুষ হয়ে থাকি না কেন, প্রত্যেকের আমাদের একটি আকাঙ্ক্ষা আছে... নিজের দেশটিকে আমরা ভালো দেখতে চাই। নিজের দেশটিকে আমরা সুন্দর দেখতে চাই।’

তিনি বলেন, ‘আমরার দেখতে চাই দেশের মানুষ নিরাপদে বসবাস করছে। এই দেশের সন্তানেরা এদেশেই বড় হচ্ছে ,স্বাচ্ছন্দে বড় হচ্ছে, খেয়ে পড়ে, ব্যবসা-বাণিজ্য, চাকরি বাকরি করে নিরাপদ ও নিরাপত্তার সঙ্গে বড় হচ্ছে। আমাদের লক্ষ্য সেটাই। আমরা সেই লক্ষ্য অর্জন করতে চাই। কিন্তু সেই লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব একমাত্র যদি জনগণের সহযোগিতা থাকে। সেজন্যই আমরা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে চলতে চাই, জনগণকে পাশে রেখে চলতে চাই, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চাই, দেশ গঠন করতে চাই।’

আরও পড়ুন: আসিফ নজরুলের বিরুদ্ধে শতকোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগ, দুদকে আবেদন

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে এই কৃষক কার্ড উদ্বোধন করার মাধ্যমে আবারো আমি বাংলাদেশের সব শ্রেণী-পেশার মানুষকে দেশ গঠনে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছি।’

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যের শুরুতে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, ‘এই যে পয়লা বৈশাখ আজকের এই অনুষ্ঠানটি, পয়লা বৈশাখ কীভাবে আসল নিশ্চয়ই অনেকেরই আপনাদের ধারণা আছে। যদিও বর্তমানে এটি একটি সামাজিক অনুষ্ঠানে রূপ নিয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘পয়লা বৈশাখটি আসলে আমাদের এই বাংলাদেশের কৃষকদের সঙ্গে সম্পৃক্ত। কৃষিক্ষেত্রে হোক, ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে হোক, কৃষকরা তাদের হিসাবের খাতাটি নতুন করে পয়লা বৈশাখ থেকে শুরু করেন। সেখান থেকে পয়লা বৈশাখের অনুষ্ঠানটি এসেছে। যেহেতু পয়লা বৈশাখের মূল বিষয়টি আমাদের কৃষক ভাইদের সঙ্গে জড়িত, কৃষাণী বোনদের সঙ্গে জড়িত-সেজন্যই আমরা কৃষক কার্ড প্রদানের এই অনুষ্ঠানটির উদ্বোধন ঘোষণা করলাম।’

প্রধানমন্ত্রী জানান, কৃষকদের জন্য ইতিমধ্যে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে।

কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণ ও কৃষকদের ন্যায্য মূল্য পাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলসহ বাংলাদেশের যেসব অঞ্চল কৃষি নির্ভরশীল এলাকা সেসব অঞ্চলে কৃষক ভাইদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব, কৃষাণী বোনদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব, আমরা কৃষিতে সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করব। একই সঙ্গে আমাদের চেষ্টা থাকবে যে শুধু কৃষিপণ্য উৎপাদন করলেই চলবে না, সেসব অঞ্চলে কীভাবে কৃষি পণ্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত যেসব কলকারখানা আছে সেগুলোও যাতে প্রতিষ্ঠিত করা যায় তার ব্যবস্থা নিতে হবে।’

তিনি আরো বলেন, কৃষক যাতে তার পণ্যের মূল্য আরও বেশি পেতে পারে, যাতে করে আমাদের কৃষিজাত পণ্য বিদেশেও রপ্তানি করতে পারি সেজন্য আমরা পদক্ষেপ গ্রহণ করব।

আরও পড়ুন: শিক্ষা খাতে ৪৩টি ক্ষেত্র চিহ্নিত করে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে

তিনি বলেন, ‘আপনারা গতকাল খবরে দেখেছেন—গতকাল বাংলাদেশের যেসব ব্যবসায়ী এই কৃষিজাত পণ্যের ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত, যাদের কৃষিজাত পণ্যের কলকারখানা আছে, তাদের সঙ্গে প্রায় চার ঘণ্টা বৈঠক করেছি। তাদের সমস্যার কথা শুনেছি এবং অনেকগুলো সমাধানের চেষ্টা আমরা করেছি। যাতে তারা আরও বেশি বিনিয়োগ করতে পারে, আরও বেশি মানুষকে সম্পৃক্ত করতে পারে, আরও বেশি কৃষিপণ্য কৃষক ভাইদের কাছ থেকে কিনতে পারে এবং সেসব পণ্যকে তারা বিদেশে রপ্তানি করতে পারে।’

তিনি আরও বলেন, তাতে একদিকে যেমন কৃষক ভাইদের সুবিধা হবে, একইভাবে দেশের জন্য আমরা মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে সক্ষম হব।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কৃষক ভাইদের অনেক সমস্যা আছে। যেমন, টাঙ্গাইলের আনারস বিখ্যাত। এই আনারসের প্রচুর ফলন। কিন্তু এই আনারসকে আমরা প্রিজার্ভ করে রাখতে পারি না।

তিনি বলেন, আনারসটা সিজনের পরেও যাতে আমরা রাখতে পারি। কোল্ড স্টোরেজ বা সেরকম প্রক্রিয়াজাত করার কিছু নেই এরকম অনেক পণ্য আছে বাংলাদেশে, সেগুলোকে আমরা যদি প্রক্রিয়াজাত করে রাখতে পারি, কোল্ড স্টোরেজ করে রাখতে পারি—তাহলে কৃষক ভাইয়েরা লাভবান হবেন।

কৃষিমন্ত্রী আমিন উর রশিদের সভাপতিত্বে ও অতিরিক্ত সচিব সেলিম খানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও স্থানীয় সংসদ সদস্য সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) প্রতিনিধি জিয়াওকুন শি, কৃষি সচিব রফিকুল ই মোহামেদ বক্তব্য রাখেন।

মন্তব্য (0)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!