নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়িত হলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সবার বেতন দ্বিগুণ হয়ে যাবে—বিষয়টি এমন নয় বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সরকারের কর্মকাণ্ড তুলে ধরতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
তথ্য উপদেষ্টা বলেন, সরকারি চাকরিজীবীদের অনেকের দীর্ঘদিন নতুন স্কেল হয়নি। তবে নিয়মিত ইনক্রিমেন্টের কারণে অনেকের বর্তমান বেতন ইতোমধ্যে প্রস্তাবিত নতুন বেতন স্কেলের কাছাকাছি চলে গেছে। ফলে নতুন স্কেল কার্যকর হওয়ার পর সবার বেতন একই হারে বাড়বে না।
আরও পড়ুন: নবম পে-স্কেলের অনুমোদন মন্ত্রিসভায়
তিনি বলেন, ‘বেতন ১০০ শতাংশে উন্নীত হলে তা সরাসরি দ্বিগুণ হয়ে যাবে—বিষয়টি এমন নয়। অনেক জ্যেষ্ঠ কর্মচারীর বর্তমান বেতন নিয়মিত ইনক্রিমেন্টের মাধ্যমে ইতোমধ্যে প্রস্তাবিত নতুন বেতন স্কেলের কাছাকাছি চলে এসেছে।’
জাহেদ উর রহমান বলেন, নতুন বেতন কাঠামোর অন্যতম লক্ষ্য হলো বিদ্যমান বেতন বৈষম্য কমিয়ে সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে তুলনামূলক ভারসাম্য তৈরি করা।
নতুন পে-স্কেল ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের রোডম্যাপ জানানো হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রথম ১০টি গ্রেডে ধাপে ধাপে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বেতন বৃদ্ধি হবে। আর পরের ১০টি গ্রেডে সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পাবে। এতে গ্রেড-১ ও গ্রেড-২০-এর মধ্যে বিদ্যমান বেতন বৈষম্য বা অনুপাত কমে আসবে।
আরও পড়ুন: ঢাকার যানজট নিরসনে প্রধানমন্ত্রীর সাত নির্দেশনা
মূল্যস্ফীতি প্রসঙ্গে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে মূল্যস্ফীতি উচ্চপর্যায়ে রয়েছে। তবে মূল্যস্ফীতি সব সময় একই মাত্রায় থাকবে—এমনটি নয়। বাংলাদেশের মতো দেশে ৫ থেকে ৬ শতাংশ মূল্যস্ফীতি স্বাভাবিক ও সহনীয়। সাম্প্রতিক সময়ে মূল্যস্ফীতি দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছালেও বর্তমানে তা কিছুটা কমেছে বলে সরকারি তথ্য-উপাত্তে দেখা যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন বাড়ানো হলে বাজারে চাহিদা বৃদ্ধির কারণে মূল্যস্ফীতির ওপর কিছুটা চাপ তৈরির ঝুঁকি রয়েছে।
আরও পড়ুন: নেপাল-চীন সীমান্তে বন্যা-ভূমিধসে নিখোঁজ ২ হাজার ৪০০ জনের বেশি
এর আগে সোমবার (৩১ আগস্ট) মন্ত্রিসভার বৈঠকে নতুন বেতন কাঠামো অনুমোদন দেওয়া হয়। অনুমোদিত কাঠামো অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে আগামী বছরের মধ্যে মূল বেতন বৃদ্ধি মোট তিন ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। আর ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে নতুন কাঠামোর ভাতা একযোগে কার্যকর হবে।

