আপনি গরিব থাকতে চাইলে কেউ ধনী করতে পারবে না: আবু আহমেদ

জিটি রিপোর্ট

প্রকাশ:

ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) চেয়ারম্যান এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক আবু আহমেদ
ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) চেয়ারম্যান এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক আবু আহমেদ|ছবি: জিটি ফটো

ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) চেয়ারম্যান এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেছেন, ‘আপনি গরিব থাকতে চাইলে কেউ আপনাকে ধনী করতে পারবে না। আমরা কেন গরিব রয়ে গেছি এবং কেন আরও গরিব থাকার পথ তৈরি করছি, তা গুরুত্বের সঙ্গে অনুধাবন করতে হবে। আইএমএফ কিছু ঋণ দিলেই দেশ ধনী হয়ে যাবে—এ ধারণা ভুল। পৃথিবীর কোনো দেশ আইএমএফের অর্থে ধনী হয়নি। সমৃদ্ধ হতে হলে নিজেদের সক্ষমতাই গড়ে তুলতে হবে।’

সোমবার (২২ জুন) রাজধানীর গ্রিন রোডে ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের মিলনায়তনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে আয়োজিত এক আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন। ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের সহযোগিতায় সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) সেমিনারটির আয়োজন করে। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিশ্ববিদ্যালয়টির বিজনেস স্কুলের ডিন অধ্যাপক এম এ বাকী খলিলী। সঞ্চালনায় ছিলেন সিজিএসের প্রেসিডেন্ট জিল্লুর রহমান।

আরও পড়ুন: আস্থা ফেরাতে পরিসংখ্যানগত তথ্য আরও সহজলভ্য করছে সরকার

পুঁজিবাজার প্রসঙ্গে আবু আহমেদ বলেন, দেশে শেয়ারবাজার এখনও শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়াতে পারেনি। তবে এর পেছনে নীতিগত সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের জন্য যে কর-সুবিধা ও প্রণোদনা একসময় ছিল, সেগুলো এখন আর নেই। আগে এক লাখ টাকা পর্যন্ত লভ্যাংশ আয়ে করমুক্ত সুবিধা থাকলেও তা প্রত্যাহার করা হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারীদের জন্যও বিশেষ কোনো সুবিধা নেই। তিনি বলেন, করের হার বাড়ালেই যে রাজস্ব বাড়বে, এমন কোনো প্রমাণ বিশ্বের কোথাও নেই। অতিরিক্ত কর আরোপের মাধ্যমে ব্যবসা-বাণিজ্যের বিকাশ সম্ভব নয়।

বন্ধ কারখানা পুনরায় চালুর জন্য গঠিত ২০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা তহবিলের সমালোচনা করে তিনি বলেন, সরকার মোট ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা তহবিল গঠন করেছে, যার মধ্যে ২০ হাজার কোটি টাকা রাখা হয়েছে বন্ধ কারখানা সচল করার জন্য। এই তহবিল থেকে সাড়ে ৭ শতাংশ সুদে ঋণ পাওয়া যাবে। এতে বাজারে ভারসাম্যহীনতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কারণ উদ্যোক্তারা কারখানা চালুর পরিবর্তে ওই অর্থ সরকারি বন্ডে বিনিয়োগ করতে পারেন, যেখানে সুদের হার ১২ শতাংশ। সে ক্ষেত্রে কারখানা চালুর প্রণোদনা কার্যকর নাও হতে পারে।

আরও পড়ুন: আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে সতর্ক প্রশাসন, ৬ জেলায় সেনা মোতায়েন

আবু আহমেদ বলেন, ভারতের বোম্বে স্টক এক্সচেঞ্জের শীর্ষ ১০ কোম্পানির মধ্যে হিন্দুস্থান লিভার রয়েছে। বাংলাদেশেও ইউনিলিভারের পণ্য প্রায় সবাই ব্যবহার করেন। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটির মালিকানায় সাধারণ বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণের সুযোগ নেই। একইভাবে নেসলের নুডলস ও কফি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হলেও প্রতিষ্ঠানটি কেন পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হচ্ছে না, সেই প্রশ্নও তুলতে হবে। তার মতে, এসব বিষয়ে প্রশ্ন না তুললে ভালো মানের শেয়ার বাজারে আসবে না।

আইসিবির চেয়ারম্যান আরও বলেন, দেশে বিনিয়োগের পর্যাপ্ত সুযোগ না থাকায় মানুষ সঞ্চয়পত্রে অর্থ বিনিয়োগ করছে। কিন্তু বিশ্বের কোথাও সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করে মানুষ ধনী হয়েছে—এমন উদাহরণ নেই।

সরকারকে সতর্ক করে তিনি বলেন, আগামী দিনে বৈদেশিক ঋণের সুদ পরিশোধের চাপ আরও বাড়বে। এক ঋণ শোধ করতে আরেক ঋণ নেওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। আর্জেন্টিনা, পাকিস্তান ও নাইজেরিয়ার মতো দেশগুলো এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, এত বড় সরকারি কাঠামোর প্রয়োজনীয়তা কতটা এবং সচিবালয়ের সবাই কার্যকরভাবে কাজ করছেন কি না, সেটিও বিবেচনার বিষয়।

আরও পড়ুন: ২ লাখ ৮৩ হাজার রোহিঙ্গাকে নাগরিক স্বীকৃতি দিল মিয়ানমার

সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন অর্থনীতিবিদ সেলিম জাহান, অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকার মামুন রশীদ, গবেষণা প্রতিষ্ঠান র‍্যাপিডের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুর রাজ্জাক, বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্সের (বিসিআই) চেয়ারম্যান আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী (পারভেজ), ট্রান্সকম গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সিমিন রহমান, ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান কে এম মোজিবুল হক এবং ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য মোহিউদ্দিন আহমেদ ভূঁইয়াসহ অন্যান্যরা।

মন্তব্য (0)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!