বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতকে আরও শক্তিশালী ও স্থিতিশীল করতে ৪৫ কোটি মার্কিন ডলার ঋণ অনুমোদন করেছে বিশ্বব্যাংক। বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী, এ অর্থের পরিমাণ বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকা। বুধবার এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে সংস্থাটি।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিশ্বব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় ‘ফাইন্যান্সিয়াল সেক্টর সাপোর্ট প্রজেক্ট-২’-এর আওতায় এ অর্থায়ন অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সংস্থাটির মতে, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি পুনরুদ্ধার এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য একটি শক্তিশালী ব্যাংকিং ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য হলো ক্ষুদ্র আমানতকারীদের সুরক্ষায় আমানত বিমা ব্যবস্থা আরও কার্যকর করা এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের তদারকি সক্ষমতা ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো উন্নত করা। একই সঙ্গে ব্যাংক পুনর্গঠন এবং রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক সংস্কারের ভিত্তি তৈরিতেও এ প্রকল্প ভূমিকা রাখবে বলে জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক।
আরও পড়ুন: তিন মাসের মধ্যে চীনে বিডার প্রথম বিদেশি কার্যালয় চালু হবে: আশিক চৌধুরী
সংস্থাটি আরও জানায়, প্রকল্পের আওতায় আমানত সুরক্ষা তহবিলের মূলধন বৃদ্ধি করা হবে। পাশাপাশি আমানত সুরক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন, জরুরি তারল্য সহায়তা কাঠামো গঠন, ব্যাংক পুনর্গঠন কৌশল প্রণয়ন এবং রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক সংস্কারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নে সহায়তা দেওয়া হবে।
বিশ্বব্যাংকের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, দুর্বল করপোরেট সুশাসন, নিয়ন্ত্রক সংস্থার ওপর প্রভাব বিস্তার এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষকে ঋণ প্রদানের প্রবণতার কারণে দেশের ব্যাংক খাত দীর্ঘদিন ধরে নানা চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। ২০২৬ সালের মার্চ শেষে খেলাপি ঋণের হার দাঁড়ায় ৩২ দশমিক ৬ শতাংশ, যা দক্ষিণ এশিয়ার ব্যাংকগুলোর গড় হার ৭ দশমিক ৯ শতাংশের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। অন্যদিকে, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে ব্যাংকিং খাতের ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদের বিপরীতে মূলধনের অনুপাত ছিল ঋণাত্মক ২ দশমিক ৬ শতাংশ।
আরও পড়ুন: চীনের সঙ্গে বড় চুক্তি সই হতে যাচ্ছে সৌরবিদ্যুৎ নিয়ে: চিফ হুইপ
বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটান বিভাগের পরিচালক জ্যাঁ পেসমে বলেন, এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত হওয়ার লক্ষ্য অর্জনে বাংলাদেশের জন্য একটি স্থিতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক আর্থিক খাত অপরিহার্য। তবে দেশের আর্থিক খাতের মোট সম্পদের প্রায় ৯০ শতাংশ ধারণকারী ব্যাংকিং খাত বর্তমানে ক্রমবর্ধমান চাপের মধ্যে রয়েছে।
তিনি বলেন, এ প্রকল্প ক্ষুদ্র আমানতকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের আস্থা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় বিভিন্ন ব্যবস্থা, উপকরণ ও সুরক্ষা কাঠামো গড়ে তুলতে সহায়তা করবে। এর ফলে ব্যাংক খাতে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে খাতটি আরও কার্যকর অবদান রাখতে পারবে।
প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি অবকাঠামো আধুনিকায়ন করা হবে। এর মাধ্যমে সাইবার নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি মোকাবিলা সহজ হবে এবং তথ্য ও বিশ্লেষণ ব্যবস্থার বিদ্যমান ঘাটতি দূর করা সম্ভব হবে। ফলে ঝুঁকি পর্যবেক্ষণ, তথ্যনির্ভর তদারকি এবং আর্থিক খাতের সহনশীলতা বৃদ্ধিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সক্ষমতা আরও জোরদার হবে।
আরও পড়ুন: বৈষম্য দূর করে শিক্ষাকে আধুনিকীকরণ করা হচ্ছে: শিক্ষামন্ত্রী
বিশ্বব্যাংকের জ্যেষ্ঠ আর্থিক খাত বিশেষজ্ঞ ও প্রকল্পটির টাস্ক টিম লিডার তোশিয়াকি ওনো বলেন, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক এবং অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগীদের সমন্বিত উদ্যোগের অংশ হিসেবে এ প্রকল্প ব্যাংক খাতে সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলার প্রস্তুতি আরও শক্তিশালী করবে। একই সঙ্গে খাতের চাপ ব্যবস্থাপনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সক্ষমতা বৃদ্ধিতেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

