এসএসসিতে ফেল করা শিক্ষার্থীদের জন্য সুখবর, থাকবে কারিগরি প্রশিক্ষণ ও আর্থিক সহায়তা

জিটি রিপোর্ট

প্রকাশ:

২০২৮ সালে শিক্ষাক্রমে বড় পরিবর্তন
২০২৮ সালে শিক্ষাক্রমে বড় পরিবর্তন|ছবি: সংগৃহীত

এসএসসিতে অকৃতকার্য ও ঝরে পড়ার ঝুঁকিতে থাকা শিক্ষার্থীদের বোঝা হিসেবে না দেখে কারিগরি প্রশিক্ষণ, কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন।

চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় যারা অকৃতকার্য হয়েছে বা শিক্ষা কার্যক্রম থেকে ঝরে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে, তাদের জন্য বিশেষ নীতিমালা তৈরির কথা জানিয়েছেন তিনি।

রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মাহদী আমিন বলেন, এসব শিক্ষার্থীকে টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার (টিটিসি), স্বল্পমেয়াদি কারিগরি ও ভোকেশনাল কোর্সে যুক্ত করে কর্মসংস্থানের সুযোগ দেওয়া হবে। প্রয়োজনে তাদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে আর্থিক সহায়তাও দেওয়া হবে।

আরও পড়ুন: মাগুরার আলোচিত শিশু আছিয়া হত্যা: হাইকোর্টের রায় আজ

ফেল করা শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ পলিসি

মাহদী আমিন বলেন, সদ্য প্রকাশিত এসএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থী বা শিক্ষা স্রোতধারা থেকে ঝরে পড়ার ঝুঁকিতে থাকা তরুণদের রাষ্ট্র বোঝা হিসেবে দেখবে না। তাদের জন্য সরকার বিশেষ পলিসি তৈরি করছে।

তিনি বলেন, কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এসব তরুণকে কর্মমুখী করে তোলা হবে। একই সঙ্গে প্রয়োজন অনুযায়ী উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।

২০২৮ সালে শিক্ষাক্রমে বড় পরিবর্তন

শিক্ষা উপদেষ্টা জানান, ২০২৮ শিক্ষাবর্ষ থেকে দেশের শিক্ষাক্রমে ব্যাপক ও বিস্তৃত সংস্কার আনা হবে। এর মাধ্যমে মেধা, নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তবে এর আগেই ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যপুস্তকে প্রয়োজনীয় পরিমার্জন, সংযোজন ও বিয়োজন করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: প্রাথমিক বৃত্তির পরিমাণ নির্ধারণ, ট্যালেন্টপুলে মাসে ৩০০ টাকা

আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকেই চতুর্থ শিল্পবিপ্লব, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও খেলাধুলার মতো বিষয় শিক্ষার্থীদের পাঠ্যক্রমে যুক্ত করার কথা জানিয়েছেন তিনি।

যুক্ত হচ্ছে নতুন চার বই ও বিষয়

আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে চারটি নতুন বই ও বিষয় যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

চতুর্থ শ্রেণি থেকে খেলাধুলা ও শারীরিক শিক্ষাভিত্তিক ‘স্পোর্টস অ্যান্ড কালচার’ এবং ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ ও ‘টেকনিক্যাল এডুকেশন’ পাঠ্যক্রমে যুক্ত হচ্ছে।

এসব বিষয়ের মাধ্যমে রোবটিকস, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক শিক্ষার সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পরিচিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

এসএসসি ফল নিয়ে যা বললেন শিক্ষা উপদেষ্টা

এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল এবং মূল্যায়ন পদ্ধতি নিয়েও কথা বলেন মাহদী আমিন।

আরও পড়ুন: এসএসসি উত্তীর্ণদের শিক্ষাবৃত্তি দেবে ডাচ্‌-বাংলা ব্যাংক, মাসে ২৫০০ টাকা করে দেবে ২ বছর, আবেদন যেভাবে

তিনি বলেন, এবার কোনো গ্রেস নম্বর দেওয়া হয়নি। শিক্ষার্থীরা নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ মূল্যায়নের মাধ্যমে তাদের প্রকৃত ফলাফল পেয়েছে।

তার দাবি, আগের সময়ে পরিসংখ্যান ভালো দেখানোর জন্য কৃত্রিমভাবে জিপিএ-৫ বাড়ানোর প্রবণতা ছিল। বর্তমান সরকার সেই পথ বন্ধ করেছে।

চালু হচ্ছে ‘এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ’

বেকারত্ব কমাতে বিভাগ ও জেলা পর্যায়ে ‘এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ’ বা কর্মসংস্থান বিনিময় কেন্দ্র চালুর উদ্যোগের কথাও জানিয়েছেন শিক্ষা উপদেষ্টা।

এর মাধ্যমে কর্মক্ষম তরুণ-তরুণীরা নিজেদের দক্ষতার তথ্য দিয়ে নিবন্ধন করতে পারবেন। একই সঙ্গে চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে চাকরিপ্রার্থীদের সরাসরি যোগাযোগ ও নেটওয়ার্ক তৈরির সুযোগ হবে।

প্রথমে বিভাগীয় পর্যায়ে এবং পরে দেশের প্রতিটি জেলায় এ ব্যবস্থা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। এতে পিছিয়ে পড়া ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।

আরও পড়ুন: আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য সুইডেনের ১০ স্কলারশিপ

শিক্ষকদের জন্য ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’

শিক্ষকদের ডিজিটাল দক্ষতা বাড়াতেও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচির আওতায় পর্যায়ক্রমে প্রাথমিক থেকে সব পর্যায়ের শিক্ষকদের হাতে ডিজিটাল ট্যাবলেট দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

এর মাধ্যমে শিক্ষকদের আধুনিক প্রশিক্ষণ, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং ডিজিটাল শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

গবেষণা ও শিল্প-শিক্ষা সমন্বয়ে গুরুত্ব

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণার সংস্কৃতি বাড়ানো এবং বিশ্বমানের র‌্যাঙ্কিংয়ে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবস্থান উন্নত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয় শিল্পের সমস্যা সমাধানে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে যৌথ গবেষণার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান মাহদী আমিন। প্রবাসী বাংলাদেশি গবেষক ও শিক্ষকদের দেশে ফিরিয়ে এনে ‘ব্রেন ড্রেন’কে ‘ব্রেন সার্কুলেশনে’ রূপান্তরের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

এ ছাড়া গবেষণায় সরকারি বরাদ্দ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুন: বিশ্বসেরা ৩০ স্কলারশিপের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট

গ্রাম-শহরের শিক্ষায় বৈষম্য কমানোর উদ্যোগ

গ্রামীণ ও শহরের বিদ্যালয়ের মধ্যে বৈষম্য কমাতে দেশব্যাপী বিভিন্ন প্রতিযোগিতা আয়োজনের কথাও জানিয়েছেন শিক্ষা উপদেষ্টা। এর মধ্যে ‘প্রাইমারি স্কুল গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট’ এবং ‘ইনোভেশন ও স্টার্টআপ কম্পিটিশন’ উল্লেখযোগ্য। এসব আয়োজনের মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের প্রতিভা তুলে আনা এবং জাতীয় পর্যায়ে স্বীকৃতি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

মাহদী আমিন বলেন, কেবল সনদনির্ভর শিক্ষা নয়—দক্ষতা, কর্মসংস্থান, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন একটি প্রজন্ম তৈরির মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

মন্তব্য (0)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!