প্রাথমিক শিক্ষায় ১৩ প্রকল্পের পরিকল্পনা

জিটি রিপোর্ট

প্রকাশ:

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত বৈঠক
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত বৈঠক|ছবি: দ্য জেনারেশন টুডে

দেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার সার্বিক উন্নয়ন ও আধুনিকায়নে ১৩টি নতুন প্রকল্প গ্রহণের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের উদ্যোগে নেওয়া এসব প্রকল্প ইতোমধ্যে ‘সবুজ পাতায়’ অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

মঙ্গলবার (৫ মে ২০২৬) প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। বৈঠকে তিনি প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও নির্ধারিত সময়সীমা মেনে চলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশের শিক্ষায় বৈশ্বিক আগ্রহ বাড়ছে: শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী

পরিকল্পিত ১৩টি প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে—সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় উন্নয়ন, মডেল স্কুল ও সিটি কর্পোরেশনভিত্তিক অবকাঠামো উন্নয়ন, জরাজীর্ণ বিদ্যালয় পুনর্নির্মাণ, খেলাধুলার মাঠ উন্নয়ন, প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণিকক্ষ আকর্ষণীয়ভাবে সাজানো, মিড-ডে মিল কর্মসূচির দ্বিতীয় পর্যায়, নেক্সটজেন প্রাইমারি এডুকেশন প্রোগ্রাম, পার্বত্য অঞ্চলের বিদ্যালয়ে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন, ঢাকা মহানগরীর বিদ্যালয় উন্নয়ন, পিটিআই অবকাঠামো উন্নয়ন এবং ইউনিয়ন মডেল স্কুল উন্নয়ন প্রকল্প।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক শিক্ষা একটি শিশুর সামগ্রিক বিকাশের ভিত্তি। তাই দেশের প্রতিটি শিশুর জন্য নিরাপদ, আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে। এ লক্ষ্যেই অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি, প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়ন, খেলাধুলার সুযোগ সম্প্রসারণ এবং শিক্ষক প্রশিক্ষণ জোরদারে এসব প্রকল্প নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: কেন্দ্র সচিবদের প্রতি বোর্ডের বিশেষ নির্দেশনা

তিনি আরও বলেন, শহর, গ্রাম ও পার্বত্য অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিদ্যমান বৈষম্য কমিয়ে সমান সুযোগ নিশ্চিত করাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। এজন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক ও যুগোপযোগী শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বৈঠকে প্রাইমারি এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম (পিইডিপি)-৫ নিয়েও আলোচনা হয়। এ প্রকল্পের আওতায় শিক্ষক নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ, ডিজিটাল শিক্ষা সম্প্রসারণ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

এছাড়া প্রাথমিক শিক্ষায় মৌলিক সাক্ষরতা ও সংখ্যাজ্ঞান (এফএলএন) উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। ভাষা শিক্ষায় পাঠ অনুধাবন, শ্রবণ, বলা ও লেখার দক্ষতা বৃদ্ধিতে নতুন কার্যক্রম চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে। পাশাপাশি একটি সমন্বিত ডিজিটাল শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যেখানে লার্নিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (এলএমএস), স্মার্ট মূল্যায়ন ও শিক্ষার্থীদের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ এক প্ল্যাটফর্মে আনা হবে।

আরও পড়ুন: প্রতিটি উপজেলায় মাল্টিপারপাস পরীক্ষা হল নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করছে সরকার: শিক্ষামন্ত্রী

বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মোখলেছুর রহমান, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য (0)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!