বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন এবং আবহাওয়া অফিসের মতামতের ভিত্তিতেই চলমান এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। একই সঙ্গে পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের সৃজনশীল অংশের ৬ ও ৭ নম্বর প্রশ্নে ভুল থাকার বিষয়টি স্বীকার করে তিনি বলেন, ওই দুটি প্রশ্নে পরীক্ষার্থীদের পূর্ণ নম্বর দেওয়া হবে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী।
তিনি বলেন, এইচএসসি পরীক্ষা চলাকালে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছে। জেলার পুলিশ সুপার (এসপি), আট বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার, সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং আবহাওয়া অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
আরও পড়ুন: শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে সড়কে এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “আমরা ওয়েদার ম্যানের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা জানিয়েছিল, বৃষ্টি হবে না। বিকেল ৫টা পর্যন্ত পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে সবাই মত দেন যে আবহাওয়া অনুকূলে থাকবে। সেই কারণেই পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।”
তিনি আরও বলেন, সারা দেশে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার জন্য প্রায় ২ হাজার ৭০০টি কেন্দ্র রয়েছে এবং ৬৪ জেলায় একযোগে পরীক্ষা পরিচালিত হয়। অতীতে চট্টগ্রাম অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির সময় পর্যায়ক্রমে রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি এবং পরে পুরো চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের একটি কেন্দ্র পানিতে তলিয়ে যাওয়ার প্রসঙ্গ তুলে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সকালে বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গে মেয়র, জেলা প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ প্রশাসনকে কেন্দ্রটি স্থানান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে পরীক্ষার্থীদের নৌকায় করে ভবনের পঞ্চম তলায় নিয়ে পরীক্ষা গ্রহণের ব্যবস্থা করা হয়।
আরও পড়ুন: তরুণদের দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর এখন সময়ের দাবি: রাষ্ট্রপতি
পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের প্রশ্নপত্রে ভুলের বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “সৃজনশীল অংশের ৬ ও ৭ নম্বর প্রশ্নে ভুল হয়েছে। ওই দুটি প্রশ্নের জন্য পরীক্ষার্থীদের পূর্ণ নম্বর দেওয়া হবে।”
প্রশ্নপত্র প্রণয়নের বিষয়ে তিনি বলেন, “আমি দায়িত্ব পেয়েছি মাত্র চার মাস। সংশ্লিষ্ট প্রশ্নের মডারেটর আগের সময়ের। একটি প্রশ্নপত্র মডারেশনের প্রক্রিয়া দুই বছর আগে থেকেই শুরু করতে হয়।”
তিনি আরও দাবি করেন, কুমিল্লার একটি কেন্দ্র ছাড়া দেশের অন্য কোথাও বড় ধরনের দুর্যোগের তথ্য জেলা প্রশাসকদের কাছ থেকে পাওয়া যায়নি।

