শিক্ষকদের জন্য আলাদা পে-স্কেল চালুর চিন্তাভাবনা চলছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। ভবিষ্যতে বিচার বিভাগের মতো শিক্ষকদের জন্যও আলাদা পে-স্কেল দেওয়ার বিষয়ে চিন্তাভাবনা রয়েছে। তিনি বলেন, ১১ বছর পর নতুন পে-স্কেল হতে যাচ্ছে। তবে নতুন বেতন কাঠামোতে মূল্যস্ফীতির সঙ্গে যথাযথ সমন্বয় হয়নি। এ বিষয়টি সরকারের আলোচনায় এসেছে।
রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে প্রথম স্টিয়ারিং কমিটির সভা শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পে-স্কেল ১১ বছর পর হতে যাচ্ছে। হঠাৎ করে এটি কিন্তু ইনফ্লেশনের সঙ্গে অ্যাডজাস্টমেন্ট হয়নি। এই উপলব্ধি প্রধানমন্ত্রীর ছিল এবং আমরা ক্যাবিনেট মিটিংয়েও তা দেখেছি।
আরও পড়ুন: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নিয়ে যা জানা যাচ্ছে
তিনি বলেন, সেই জায়গা থেকে আমরা আগামী দিনের চিন্তা করছি। যেভাবে বিচার বিভাগে আলাদা পে-স্কেল রয়েছে, তেমনিভাবে আমরাও একটি চিন্তাভাবনা করছি। কিন্তু সেটা এত অল্প সময়ের মধ্যে এত বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া একটি রাজনৈতিক সরকার পারছে না; এটা আপনারাও নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন। ইনশাআল্লাহ, আমরা সেদিকেই এগোব।
শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের বিভিন্ন ভোগান্তির কথা তুলে ধরে ড. মিলন বলেন, শিক্ষকরা ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। আর আমরা সেই ভোগান্তি থেকে উত্তরণের জন্যই কাজ করছি।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে শিক্ষকদের অবসর ভাতা ও কল্যাণ ট্রাস্টের বিষয়ে ইতোমধ্যে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ২০২৬ সালের ৮ আগস্ট পর্যন্ত ২০২১ সাল থেকে শিক্ষকদের বকেয়া নিজ কন্ট্রিবিউশনের অংশ তুলে দেওয়া হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়ার বাকি অংশও সমন্বয়ের মাধ্যমে পরিশোধের দিকে এগোনো হচ্ছে।
‘আমি আশা করছি, আগামী বাজেটগুলো পাওয়ার মধ্য দিয়ে শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের এই সমস্যার নিরসন হবে। এটি শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের একটি সমস্যা ছিল, আমরা সেটি এড্রেস করেছি,’ বলেন শিক্ষামন্ত্রী।
আরও পড়ুন: দাখিল অষ্টম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষার সূচি প্রকাশ, শিক্ষার্থীদের জন্য ৯ নির্দেশনা
এদিকে আগামী ৫ অক্টোবর বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে গুণী শিক্ষকদের সম্মাননা দেওয়ার উদ্যোগের কথাও জানিয়েছেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, শিক্ষক দিবসে শিক্ষকদের স্মরণ ও সম্মানিত করতে এই আয়োজন করা হচ্ছে। গুণী শিক্ষক বাছাইয়ে ব্যাপক পরিসরে স্টিয়ারিং কমিটি গঠন করা হয়েছে, যাতে পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা যায়।
তিনি বলেন, ‘আমরা স্বচ্ছতা চাই। যোগ্যদের সম্মান দিতে চাই। তাদের কাজের জন্য তাদেরকে পুরস্কৃত করতে চাই।’
শিক্ষামন্ত্রী জানান, এবার প্রাথমিক, মাধ্যমিক, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায় থেকে গুণী শিক্ষকদের নির্বাচন করে সম্মাননা দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক স্তরে দুটি, মাধ্যমিক স্তরে তিনটি, কলেজ স্তরে তিনটি এবং সাধারণ, চিকিৎসা, কৃষি ও অন্যান্য বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয় স্তরে একটি করে—মোট ১২টি সম্মাননা পদক দেওয়ার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত রয়েছে। তবে জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটি প্রয়োজন মনে করলে সম্মাননার সংখ্যা পরিবর্তন করতে পারবে।
তবে সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষকদের জন্য আরও বড় পরিসরে সম্মাননা দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান ড. মিলন। তিনি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য হলো ১০০ জন শিক্ষককে নির্বাচন করা এবং প্রত্যেক শিক্ষককে এক লাখ টাকা করে মোট এক কোটি টাকার অনুদানের ব্যবস্থা করা।’
আরও পড়ুন: ইবতেদায়ি পঞ্চম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষার সূচি প্রকাশ, শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ নির্দেশনা
তিনি বলেন, যারা ভালো কাজ করেছেন, তাদের কাজের স্বীকৃতি দেওয়া, পুরস্কৃত করা এবং উৎসাহিত করা সরকারের দায়িত্ব। বিগত সরকারের সময়ে মাত্র ১২ জন শিক্ষককে দুই লাখ টাকা করে মোট ২৪ লাখ টাকা দেওয়া হতো। আমরা শিক্ষকদের মর্যাদা, সহযোগিতা এবং তাদের কাজের স্বীকৃতি দিতে চাই। এটি আমাদের প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছা।
গুণী শিক্ষক নির্বাচনের বিষয়ে তিনি বলেন, আজ স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং ইউজিসি চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে নীতিমালা চূড়ান্ত করা হবে।
মন্ত্রী বলেন, শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো সমাধানের পাশাপাশি তাদের মর্যাদা ও কাজের স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়েও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।

