৭৩-এ সাবিনা ইয়াসমিন, কণ্ঠের জাদুতে এখনো অমলিন

জিটি ডেস্ক

প্রকাশ:

কালজয়ী কণ্ঠের কিংবদন্তি, জন্মদিনে সাবিনা ইয়াসমিন
কালজয়ী কণ্ঠের কিংবদন্তি, জন্মদিনে সাবিনা ইয়াসমিন|ছবি: সংগৃহীত

কিছু কণ্ঠ শুধু গানকে ধারণ করে না, ধারণ করে একটি সময়কে। কয়েক প্রজন্ম ধরে তেমনই এক কণ্ঠের মায়ায় আচ্ছন্ন শ্রোতারা—তিনি সাবিনা ইয়াসমিন। পাঁচ দশকেরও বেশি সময়ের সংগীতযাত্রা পেরিয়ে আজ ৭৩ বছরে পা দিলেন বাংলা গানের এই কিংবদন্তি শিল্পী।

১৯৫৪ সালের ৪ সেপ্টেম্বর জন্ম নেওয়া সাবিনা ইয়াসমিন শৈশব থেকেই বেড়ে উঠেছেন সংগীতের আবহে। প্রথাগত তালিম ও দীর্ঘ সাধনার মধ্য দিয়ে ধীরে ধীরে তৈরি করেছেন নিজস্ব এক গায়কী। প্রেম, বিরহ, আনন্দ কিংবা দেশপ্রেম—সব ধরনের গানেই তাঁর কণ্ঠ পেয়েছে আলাদা আবেগ ও গভীরতা।

আরও পড়ুন: বাসযাত্রায় নতুন গল্প, আবারও জুটি ইরফান-সাদিয়া

চলচ্চিত্রে তাঁর গানের যাত্রা শুরু হয় ১৯৬৭ সালে ‘আগুন নিয়ে খেলা’ সিনেমার ‘মধুর জোছনা দীপালি’ গান দিয়ে। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তাঁর কণ্ঠে ধারণ হয়েছে ১০ হাজারেরও বেশি গান, যার মধ্যে প্রায় দেড় সহস্রাধিক চলচ্চিত্রের গান।

বাংলা চলচ্চিত্রের পাশাপাশি দেশাত্মবোধক গানেও সাবিনা ইয়াসমিনের অবদান অনন্য। মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা ও মাতৃভূমির প্রতি ভালোবাসা তাঁর কণ্ঠে পেয়েছে আবেগের অন্য মাত্রা। রেডিও-টেলিভিশনের স্বর্ণযুগ থেকে বর্তমান ডিজিটাল সময়—প্রযুক্তি বদলালেও তাঁর গানের আবেদন কমেনি।

আরও পড়ুন: ‘এক নায়িকা, তার আয়না ও সেই লিপস্টিক’—নতুন ছবিতে জয়া আহসান

সংগীতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৮৪ সালে একুশে পদক এবং ১৯৯৬ সালে স্বাধীনতা পুরস্কার লাভ করেন তিনি। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারেও রয়েছে তাঁর অনন্য সাফল্য ও রেকর্ড।

সাবিনা ইয়াসমিন তাই শুধু একজন সংগীতশিল্পীর নাম নয়; বাংলা গানের ইতিহাসের সঙ্গে মিশে থাকা এক দীর্ঘ অধ্যায়ের নাম। তাঁর কণ্ঠে যে আবেগ একসময় বুঁদ করেছিল একটি প্রজন্মকে, আজও সেই সুর নতুন প্রজন্মের শ্রোতার কাছেও সমানভাবে আপন।

মন্তব্য (0)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!