‘দেশ বদলাতে হলে আগে মানুষ বদলাতে হবে’—আফজাল হোসেন

জিটি ডেস্ক

প্রকাশ:

সমালোচনা আর সন্দেহের সংস্কৃতিতে ক্ষুব্ধ আফজাল হোসেন
সমালোচনা আর সন্দেহের সংস্কৃতিতে ক্ষুব্ধ আফজাল হোসেন|ছবি: সংগৃহীত

চারপাশে সন্দেহ, অসন্তুষ্টি, পরনিন্দা আর অন্যকে ছোট করে দেখার প্রবণতা—এসব নিয়েই গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশের বরেণ্য অভিনেতা ও পরিচালক আফজাল হোসেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, এমন মানসিকতা নিয়ে দেশ ও সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তন কীভাবে সম্ভব?

পোস্টের শুরুতেই আফজাল হোসেন লেখেন, আমাদের কী হবে? মনভর্তি সন্দেহ, অসন্তুষ্টি, স্বার্থপরতা আর অপরকে খাটো করে দেখার প্রবণতা নিয়ে নিজের বা দেশের ভালো চাইলে, কপালে কি সত্যিই ভালো কিছু জুটবে? তার ভাষায়, ভালো কোনো অর্জনে গর্বিত হওয়ার বদলে আমরা বরং নেতিবাচক খবর শুনতে ও ছড়িয়ে দিতে বেশি আগ্রহী।

আরও পড়ুন: নিউইয়র্ক বাংলা ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে আজীবন সম্মাননা পাচ্ছেন আহমেদ শরীফ

পরনিন্দা ও সমালোচনাই যেন সমাজে অনেকের কাছে বিনোদনের বিষয় হয়ে উঠেছে। সমাজে বিচারকসুলভ মানসিকতার সমালোচনা করে তিনি লেখেন, মনে হয়, মায়ের পেট থেকেই অনেকেই বিচারক হয়ে বেরিয়েছি। দেশের যেকোনো ঘটনা বা মানুষকে বিচার করতে আমরা সবসময় প্রস্তুত।

নিজের অভিজ্ঞতার উদাহরণ টেনে আফজাল হোসেন জানান, শিল্পকলা একাডেমিতে রুনা লায়লার একক সংগীতানুষ্ঠান উপস্থাপনার দায়িত্ব পাওয়ার পর অনেকেই তাকে প্রশ্ন করেছেন, কিংবদন্তি এই শিল্পী সত্যিই গান গাইবেন, নাকি শুধু ঠোঁট মেলাবেন। এমন প্রশ্নকে তিনি একজন শিল্পীর প্রতি অশ্রদ্ধার প্রকাশ বলেই মনে করেন।

আরও পড়ুন: প্রথম প্রেমের গল্পে শাকিব, তাকেই বিয়ে করতে চেয়েছিলেন

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের সাফল্য নিয়েও একই ধরনের মানসিকতার সমালোচনা করেন তিনি। ‘রেহানা মরিয়ম নূর’ কান চলচ্চিত্র উৎসবে নির্বাচিত হওয়ার পর অনেকে সিনেমাটি সেখানে পাঠাতে অর্থ বা প্রভাব ব্যবহার করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছিলেন—এ বিষয়টিও তুলে ধরেন আফজাল হোসেন।

পোস্টের শেষদিকে তিনি বলেন, দেশের পরিবর্তন কেবল রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক পরিবর্তনে সম্ভব নয়। মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি, মূল্যবোধ ও আচরণ বদলালেই প্রকৃত অর্থে দেশ বদলাবে।

মন্তব্য (0)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!