কারও কাছে স্বপ্নের নায়ক, কারও কাছে আদর্শ। মৃত্যুর ৩০ বছর পরও জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়েনি ঢাকাই চলচ্চিত্রের নায়ক সালমান শাহর। বরং নতুন প্রজন্মের মধ্যেও তাঁর অভিনয়, ফ্যাশন ও স্টাইল নিয়ে আগ্রহ রয়েছে।
আজ (৬ সেপ্টেম্বর) তাঁর ৩০তম মৃত্যুবার্ষিকী। সালমান শাহর জন্ম ১৯৭১ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর সিলেটের জকিগঞ্জে। বাবা কমর উদ্দিন চৌধুরী ও মা নীলা চৌধুরী। স্কুলজীবন থেকেই গানের প্রতি আগ্রহ ছিল তাঁর। ১৯৮৬ সালে ছায়ানট থেকে পল্লীগীতিতে কোর্স সম্পন্ন করেন তিনি। চলচ্চিত্রে আসার আগে নাটকে অভিনয় করেন সালমান শাহ।
আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে নতুন গল্প-চরিত্র নিয়ে ব্যস্ত শাকিব
মঈনুল আহসান সাবেরের লেখা ধারাবাহিক ‘পাথর সময়’-এ অভিনয়ের মাধ্যমে শুরু হয় তাঁর অভিনয়জীবন। পরে ১৯৯৩ সালে সোহানুর রহমান সোহান পরিচালিত ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক হয় তাঁর। একই সিনেমায় অভিষেক হয় মৌসুমীরও। ছবিটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পাওয়ার পর দ্রুতই নব্বইয়ের দশকের অন্যতম শীর্ষ নায়ক হয়ে ওঠেন সালমান।
এরপর একে একে মুক্তি পায় ‘তুমি আমার’, ‘অন্তরে অন্তরে’, ‘স্বপ্নের ঠিকানা’, ‘তোমাকে চাই’, ‘স্বপ্নের পৃথিবী’, ‘সত্যের মৃত্যু নেই’, ‘চাওয়া থেকে পাওয়া’ ও ‘আনন্দ অশ্রু’ সহ একাধিক চলচ্চিত্র। ২৭টি চলচ্চিত্রের মধ্যে ১৩টিতে সালমান শাহর নায়িকা ছিলেন শাবনূর। তাঁদের জুটি দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। পাশাপাশি মৌসুমী, শাবনাজ, লিমা, শিল্পী ও সোনিয়াসহ আরও কয়েকজন অভিনেত্রীর সঙ্গে অভিনয় করেছেন তিনি।
আরও পড়ুন: সালমান শাহ স্মরণে বিএফডিসিতে তিন দিনের চলচ্চিত্র প্রদর্শনী
অভিনয়ের পাশাপাশি পোশাক, চুলের স্টাইল ও ফ্যাশনেও সালমান শাহ তৈরি করেছিলেন নিজস্ব ধারা। তাঁর সিনেমার গান ও অভিনয়ের দৃশ্য এখনো টেলিভিশন ও বিভিন্ন ডিজিটাল মাধ্যমে দর্শকদের আগ্রহ তৈরি করে।
১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মাত্র ২৫ বছর বয়সে মারা যান সালমান শাহ। স্বল্প সময়ের ক্যারিয়ার হলেও বাংলা চলচ্চিত্রে তাঁর প্রভাব স্থায়ী হয়ে আছে। মৃত্যুর তিন দশক পরও নতুন প্রজন্মের কাছে তিনি নব্বইয়ের দশকের অন্যতম স্মরণীয় নায়ক।

