স্বাস্থ্য খাতের বিদ্যমান সীমাবদ্ধতা দূর করতে আধুনিক প্রযুক্তি ও কার্যকর পরিকল্পনার কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। তিনি জানিয়েছেন, অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন এবং কারিগরি সক্ষমতা বাড়ানোর মাধ্যমে নতুন জনবল বা বাড়তি ব্যয় ছাড়াই স্বাস্থ্যসেবার পরিধি ৪২ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা সম্ভব।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) ‘নগর স্বাস্থ্য ব্যবস্থা পুনর্বিবেচনা: গবেষণা থেকে নীতি নির্ধারণ’ শীর্ষক এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় গবেষণাভিত্তিক তথ্যের আলোকে জনমুখী ও প্রযুক্তিনির্ভর ‘স্মার্ট হেলথ সিস্টেম’ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। গবেষণাকে শুধু নথিতে সীমাবদ্ধ না রেখে সরাসরি জনগণের কল্যাণে কাজে লাগানোর আহ্বান জানান এবং তথ্যনির্ভর ও মানুষকেন্দ্রিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার প্রতি অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
আরও পড়ুন: হাম ও হামের উপসর্গে আরও ৯ শিশুর মৃত্যু
প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্য খাতে সম্পদের অভাবই প্রধান সমস্যা নয়, বরং বিদ্যমান সম্পদের সঠিক ব্যবহারই বড় চ্যালেঞ্জ। অনেক ক্ষেত্রেই বিদ্যমান সম্পদ পুরোপুরি কাজে লাগানো হচ্ছে না, ফলে সেগুলো আংশিকভাবে অব্যবহৃত থেকে যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা দক্ষতা এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়িয়ে অতিরিক্ত ব্যয় বা জনবল ছাড়াই প্রায় ৪২ শতাংশ সেবা বৃদ্ধি সম্ভব। এ ক্ষেত্রে ডিজিটাল ডেটা ও সূক্ষ্ম পরিকল্পনার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ঢাকার ওয়ার্ডভিত্তিক দারিদ্র্য ও স্বাস্থ্যঝুঁকির মতো স্থানীয় পর্যায়ের তথ্য পরিকল্পনাকে আরও কার্যকর করতে সহায়তা করবে।
চিকিৎসা ব্যবস্থাকে আরও জনবান্ধব করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, রাজনীতি যেহেতু জনগণের কল্যাণে, তাই স্বাস্থ্যসেবাও হতে হবে মানুষকেন্দ্রিক। শুধু রোগ নিরাময় নয়, রোগীর মানসিক স্বস্তি নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
আরও পড়ুন: শিক্ষায় সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগ করবে সরকার: শিক্ষামন্ত্রী
প্রতিমন্ত্রী একাডেমিয়া ও মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয় জোরদারের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের জ্ঞান যেন কাগজে সীমাবদ্ধ না থাকে; বরং তা সরাসরি নীতিনির্ধারণে ব্যবহৃত হতে হবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, আধুনিক প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে স্বাস্থ্য খাতের বিপুল তথ্য বিশ্লেষণ করা সম্ভব হচ্ছে, যা ভবিষ্যতের ‘স্মার্ট হেলথ সিস্টেম’ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

