চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের হতাশ না হয়ে নতুন উদ্যমে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিতে সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর (ভিসি) অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ। রবিবার (১ নভেম্বর) ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেছেন, কোনোভাবেই শিক্ষার্থীদের নিরুৎসাহিত করা যাবে না। বরং তাদের সাহস ও আত্মবিশ্বাস জোগাতে হবে। যেসব কলেজের শিক্ষার্থীরা অকৃতকার্য হয়েছেন, সেসব প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ ও শিক্ষকদের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে বসে ব্যর্থতার কারণ চিহ্নিত করতে হবে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও অতিরিক্ত ক্লাসের মাধ্যমে তাদের পরবর্তী পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত করতে হবে।
আরও পড়ুন:ফুল ফান্ডেড স্কলারশিপ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ, দেখুন বিস্তারিত
ফলাফলে পাসের হার কমে যাওয়ার বিষয়ে ড. আমানুল্লাহ বলেন, এইচএসসির ফলাফলকে আমি কোনোভাবেই ফল বিপর্যয় মনে করছি না। বরং এটিকে স্বাভাবিক ফলাফল হিসেবে দেখছি। শিক্ষার্থীদের যেভাবে শেখানো, দিকনির্দেশনা দেওয়া এবং গুরুত্বপূর্ণ এই পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত করার প্রয়োজন ছিল, প্রাতিষ্ঠানিকভাবে হয়তো তা নিশ্চিত করা যায়নি বলে মনে হচ্ছে। এ জন্য শিক্ষার্থীদের দোষারোপ করতে চাই না। তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সীমাবদ্ধতা ও অক্ষমতা চিহ্নিত করে তা নিয়ে বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পরীক্ষার ফলাফলের উদাহরণ তুলে ধরে ভিসি বলেন, মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে পাস কোর্স ও প্রিলিমিনারি টু মাস্টার্স পরীক্ষায় পাসের হার অর্ধেকের নিচে নেমেছে। অনার্স পরীক্ষায়ও পাসের হার ৬০ শতাংশের নিচে রয়েছে। খাতা মূল্যায়নে গুরুত্ব দেওয়া, পুনর্মূল্যায়নের ব্যবস্থা এবং শিক্ষকদের জবাবদিহির আওতায় আনার কারণে ফলাফলে এ ধরনের পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। শিক্ষার মান বাড়ানোর উদ্যোগের অংশ হিসেবে পরীক্ষার মূল্যায়ন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষকদেরও পরীক্ষা প্রস্তুতি ও খাতা মূল্যায়নে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে।
এবারের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছেন ৪ লাখ ২২ হাজার ৯০৫ জন শিক্ষার্থী। তাদের পুরো এক বছর অপেক্ষা না করিয়ে দ্রুত অকৃতকার্য বিষয়গুলোতে পুনরায় পরীক্ষার সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। ফল প্রকাশের এক মাসের মধ্যে এ পরীক্ষা আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।
আরও পড়ুন: এইচএসসিতে মানবিক বিভাগে সবচেয়ে বেশি ফেল
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে প্রফেসর আমানুল্লাহ বলেন, আন্তর্জাতিকভাবে অনেক উন্নত দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হলে পুনরায় পরীক্ষা দিয়ে পরবর্তী ধাপে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। এ জন্য শিক্ষার্থীদের পুরো এক বছর অপেক্ষা করতে হয় না। বাংলাদেশে আগে এ ধরনের সুযোগ ছিল না। এবার শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন এ পদ্ধতি চালু করেছেন। এতে শিক্ষার্থীরা প্রকৃত অর্থেই উপকৃত হবে। এ উদ্যোগের জন্য শিক্ষামন্ত্রীকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাই।
ভিসি বলেন, বিশেষ পরীক্ষার সুযোগ এবং খাতা পুনর্মূল্যায়নের ফলে শিক্ষার্থীদের মূল্যবান একটি বছর নষ্ট হবে না। একই সঙ্গে আরও অনেক শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হওয়ার সুযোগ পাবেন। এসব প্রক্রিয়া শেষে পাসের হার প্রায় ১০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে।
অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য বিশেষ করে উচ্চমাধ্যমিক কলেজগুলোর অধ্যক্ষ ও শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি বলেন, যেসব কলেজে শিক্ষার্থীরা অকৃতকার্য হয়েছেন, সেসব প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ ও শিক্ষকদের উচিত শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের নিয়ে বসে সমস্যার কারণ চিহ্নিত করা এবং সমাধানের পথ বের করা। কোনোভাবেই শিক্ষার্থীদের নিরুৎসাহিত করা যাবে না। বরং তাদের সাহস ও আত্মবিশ্বাস জোগাতে হবে।
শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতির জন্য কলেজের নিয়মিত সময়ের বাইরে অতিরিক্ত ক্লাস নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, শনিবারসহ ছুটির দিনগুলোতেও প্রয়োজনে ক্লাসের ব্যবস্থা করতে হবে। বিশেষ করে যেসব বিষয়ে শিক্ষার্থীরা বেশি অকৃতকার্য হয়েছেন, সেসব বিষয়ের শিক্ষকদের বাড়তি সময় দিয়ে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত করতে হবে।
ড. আমানুল্লাহ আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের নিজের সন্তানের মতো বিবেচনা করে শিক্ষকদের এগিয়ে আসতে হবে। প্রয়োজনে বিনা সম্মানিতে অতিরিক্ত পাঠদানের মাধ্যমে তাদের সহযোগিতা করতে হবে। আগামী এক থেকে দুই মাস শিক্ষক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো আন্তরিকভাবে কাজ করলে অনেক শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হতে পারবেন। এ পরিস্থিতিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর হতাশ হওয়ার কিছু নেই। শিক্ষার মানোন্নয়ন ও সামগ্রিক পরিস্থিতির উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষার্থীসংখ্যাও আবার বাড়বে।
আরও পড়ুন: ঢাবির আইবিএতে এআই বিষয়ে কোর্স করার সুযোগ, আবেদন ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত
তিনি বলেন, সরকার ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন উদ্যোগ, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা, শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে শিক্ষার সংযোগ এবং পরীক্ষা মূল্যায়ন ব্যবস্থায় জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় পরিবর্তন আসছে। এ সংস্কার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সাময়িকভাবে পাসের হার কমলেও ভবিষ্যতে এসএসসি, এইচএসসি এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পরীক্ষায় পাসের হার বাড়বে।

