ইরানের বিদ্যুৎ অবকাঠামোয় যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বন্ধ করে দেওয়ার জন্য ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের প্রস্তুত থাকতে নির্দেশ দিয়েছে তেহরান। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত তিনটি সূত্রের বরাত দিয়ে বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
সূত্রগুলোর দাবি, এ বিষয়ে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে আলোচনা হয়েছে এবং সেই বার্তা ইতোমধ্যে হুথি নেতৃত্বের কাছেও পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। তবে কীভাবে এই বার্তা পৌঁছানো হয়েছে কিংবা মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিদ্যুৎ অবকাঠামোয় হামলার হুমকি দেওয়ার আগে না পরে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে তারা বিস্তারিত কিছু জানাননি।
এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং হুথিদের মুখপাত্র তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশিদের জন্যও আমিরাতে ৫ বছরের মাল্টিপল ট্যুরিস্ট ভিসা
হুথিদের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, বাব আল-মান্দেব প্রণালির কাছে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন মোতায়েন করে জাহাজে হামলার প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে তারা। ইয়েমেনের হোদেইদাহ এবং এডেন উপসাগরসংলগ্ন উঁচু এলাকাগুলোতে এসব অস্ত্র মোতায়েন করা হয়েছে। এখন শুধু হামলার নির্দেশের অপেক্ষায় রয়েছে হুথিরা।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি ইতোমধ্যেই কার্যত বন্ধ থাকায় বাব আল-মান্দেব প্রণালি বা লোহিত সাগরের জাহাজ চলাচলেও হামলা শুরু হলে মধ্যপ্রাচ্যের দুটি প্রধান তেল রপ্তানি পথ একযোগে অচল হয়ে পড়তে পারে। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
হুথিদের ঘনিষ্ঠ সূত্রের ভাষ্য, ইয়েমেনে অবস্থানরত ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) প্রতিনিধিরাই বাব আল-মান্দেব প্রণালি কখন বন্ধ করা হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।
এদিকে আঞ্চলিক উত্তেজনার নতুন ইঙ্গিত হিসেবে সোমবার সৌদি আরবের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে হুথিরা। তাদের দাবি, সৌদি বাহিনী হুথি নিয়ন্ত্রিত একটি বিমানবন্দরে হামলা চালিয়েছে। এ ঘটনার মধ্য দিয়ে চার বছর ধরে চলা যুদ্ধবিরতিও ভেঙে গেছে।
আরও পড়ুন: ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ
ঝুঁকি বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান ভেরিস্ক ম্যাপলক্রফটের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক প্রধান বিশ্লেষক টরবইর্ন সলভেদট বলেন, হুথি ও সৌদি আরবের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা এমন এক সময়ে সৃষ্টি হয়েছে, যখন পুরো অঞ্চল আগেই অস্থিতিশীল অবস্থার মধ্যে রয়েছে। তার মতে, এই সংঘাত যদি লোহিত সাগরের তেল রপ্তানি অবকাঠামো ও জাহাজ চলাচলে ছড়িয়ে পড়ে, তাহলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল রপ্তানির অন্যতম বিকল্প পথও হুমকির মুখে পড়বে।
রিয়াদের ঘনিষ্ঠ দুটি আঞ্চলিক সূত্র জানিয়েছে, ইরান ও হুথিদের এ ধরনের হুমকিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে সৌদি আরব। তাদের মতে, লোহিত সাগরকে কেন্দ্র করে হুথিরা এখন ইরানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ে কাজ করছে।

