জাতিসংঘে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতির দাবি জানালেন এরদোয়ান

জ

জিটি ডেস্ক

প্রকাশ:

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ান
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ান|ছবি: সংগৃহীত

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের বার্ষিক অধিবেশনে অংশ নিয়ে আবারও ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে ব্যাপক স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ান। এ সময় বিশ্বজুড়ে শান্তি বজায় রাখার মূল দায়িত্ব পালনে জাতিসংঘ ব্যর্থ হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। একই সঙ্গে জাতিসংঘের প্রভাবশালী নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি সংস্কারের দাবি জানান।

নিরাপত্তা পরিষদকে আরও বিস্তৃত, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও প্রতিনিধিত্বশীল সংস্থায় রূপান্তরের জন্য বহু বছর ধরেই জোরালো দাবি জানিয়ে আসছেন এরদোয়ান।

জাতিসংঘে দেওয়া ভাষণে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট বলেন, ১৯০টিরও বেশি দেশের সার্বিক ইচ্ছাকে মাত্র পাঁচটি দেশের খেয়ালখুশির ওপর জিম্মি করে রাখার যে ব্যবস্থা, তা কোনোভাবেই ন্যায়সংগত হতে পারে না। এই ব্যবস্থা বিশ্বের মানুষের পূর্ণ আস্থা অর্জনেও পুরোপুরি ব্যর্থ।

আরও পড়ুন: তুরস্কে স্কুলের সামনে গুলিবর্ষণ, আহত ১১

এরদোয়ান বলেন, আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষার মূল লক্ষ্য নিয়ে ৮১ বছর আগে জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে সংস্থাটি সেই মিশন বা উদ্দেশ্য পূরণে চরমভাবে ব্যর্থ হচ্ছে। জাতিসংঘকে কার্যত অকার্যকর করে ফেলা হয়েছে।

গাজায় চলমান সংকট ও মানবিক বিপর্যয়ের কঠোর সমালোচনা করে এরদোয়ান বলেন, যাদের হৃদয়ে বিন্দুমাত্র মনুষ্যত্ব, সমবেদনা ও দয়া রয়েছে এবং যাদের সামান্যতম ন্যায়বিচার ও বিবেকের বোধ রয়েছে, তাদের পক্ষে সেখানে যা ঘটছে তার প্রতি চোখ বন্ধ রাখা কোনোভাবেই সম্ভব নয়।

ফিলিস্তিনি নেতাদের অংশগ্রহণে যুক্তরাষ্ট্রের বাধার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস পরপর দুই বছর ধরে সাধারণ পরিষদের এই হলে নিজের নির্ধারিত আসনে বসতে পারেননি। ফিলিস্তিনি ভাইবোনদের ওপর চালানো এই অসামঞ্জস্যপূর্ণ অবিচার পুরো বিশ্ববিবেককে গভীরভাবে আঘাত করে।

আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে লড়াই চায় না হুথিরা: ট্রাম্প

যেসব দেশ এখনো স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়নি, সেসব দেশকে অবিলম্বে নিজেদের অবস্থান পুনর্বিবেচনা করার আহ্বান জানান এরদোয়ান। একই সঙ্গে গাজা যুদ্ধ বন্ধে ইসরায়েলের ওপর সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগ করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। গাজার বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘আমাদের সময়ের সবচেয়ে অমানবিক ও লজ্জাজনক আটক শিবির’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন তুরস্কের এই প্রেসিডেন্ট।

ন্যাটো সদস্য দেশ তুরস্ক গাজায় হামলা ও আগ্রাসনের জন্য শুরু থেকেই ইসরায়েলের অন্যতম সমালোচক হিসেবে ভূমিকা রাখছে। আঙ্কারার অভিযোগ, গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযান স্পষ্টতই গণহত্যার শামিল। দেশটি বারবার ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কঠোর আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ দিয়ে আসছে। তবে গণহত্যার সব অভিযোগ শুরু থেকেই অস্বীকার করে আসছে ইসরায়েল। [সূত্র: রয়টার্স]

মন্তব্য (0)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!