সুইডেনে মাস্টার্সে ফুল ফান্ডেড স্কলারশিপ দিচ্ছে এসআইজিপি, আবেদন যেভাবে

জ

জিটি ডেস্ক

প্রকাশ:

এসআইজিপি স্কলারশিপে সুইডেনে অধ্যায়নরত শিক্ষার্থীরা
এসআইজিপি স্কলারশিপে সুইডেনে অধ্যায়নরত শিক্ষার্থীরা |ছবি: সংগৃহীত

সুইডেনে মাস্টার্স করার সুযোগ দিচ্ছে সুইডিশ ইনস্টিটিউট স্কলারশিপ ফর গ্লোবাল প্রফেশনালস (এসআইজিপি)। এ বৃত্তির আওতায় নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের সম্পূর্ণ টিউশন ফি বহন করা হবে। পাশাপাশি প্রতি মাসে ১২ হাজার সুইডিশ ক্রোনা জীবনযাত্রার ভাতা, এককালীন ১৫ হাজার ক্রোনা ভ্রমণ অনুদান ও স্বাস্থ্যবিমার সুবিধা দেওয়া হবে। বিশ্বের ৩৪টি দেশের নাগরিকেরা এ বৃত্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন। তালিকায় বাংলাদেশও রয়েছে। তবে এ বৃত্তি মূলত কর্ম-অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এবং নেতৃত্বের দক্ষতা রয়েছে এমন পেশাজীবীদের জন্য। ২০২৭ সালের সেপ্টেম্বরে শুরু হতে যাওয়া শিক্ষাবর্ষের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদনের শেষ তারিখ ২০২৭ সালের ১৫ জানুয়ারি। বৃত্তির জন্য আবেদন করা যাবে ৯ থেকে ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।

সুযোগ-সুবিধা

*সম্পূর্ণ টিউশন ফি বহন করা হবে;

*প্রতি মাসে ১২ হাজার সুইডিশ ক্রোনা জীবনযাত্রার ভাতা দেওয়া হবে;

*এককালীন ১৫ হাজার সুইডিশ ক্রোনা ভ্রমণ অনুদান দেওয়া হবে। নির্দিষ্ট ইউরোপীয় দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য এ অনুদান ১০ হাজার ক্রোনা;

*সুইডেনে অবস্থানকালে অসুস্থতাজনিত চিকিৎসা-সুরক্ষা বা বিমার সুবিধা থাকবে;

*সুইডিশ ইনস্টিটিউটের গ্লোবাল প্রফেশনালস নেটওয়ার্কের সদস্য হওয়ার সুযোগ পাওয়া যাবে;

আরও পড়ুন: সুইডেনের এসআই ফুল-ফান্ডেড স্কলারশিপ, যেভাবে আবেদন করতে হবে বাংলাদেশিদের

*আন্তর্জাতিক পেশাজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে তোলা এবং পেশাগত দক্ষতা বাড়ানোর সুযোগ থাকবে;

*সুইডেনের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি মাধ্যমে মাস্টার্স করার সুযোগ মিলবে।

তবে বৃত্তির আওতায় পরিবারের সদস্যদের খরচ বহন করা হবে না। আবাসন, বই ও অন্যান্য শিক্ষা উপকরণের খরচও শিক্ষার্থীদের নিজস্ব অর্থায়নে চালাতে হবে।

আবেদনের যোগ্যতা

*প্রার্থীকে অবশ্যই বৃত্তির জন্য নির্ধারিত ৩৪টি দেশের কোনো একটির নাগরিক হতে হবে। বাংলাদেশ এ তালিকাভুক্ত;

*কমপক্ষে তিন হাজার ঘণ্টার কর্ম-অভিজ্ঞতা থাকতে হবে, যা পূর্ণকালীন চাকরির হিসাবে প্রায় ১৮ মাসের সমান;

*কর্মক্ষেত্রে নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। দল পরিচালনা, প্রকল্পের নেতৃত্ব দেওয়া কিংবা তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ;

*সামাজিক সংগঠন, এনজিও, কমিউনিটি কার্যক্রম বা পেশাজীবী সংগঠনে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে;

*সুইডেনে অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতা কাজে লাগিয়ে নিজ দেশের টেকসই উন্নয়নে অবদান রাখার সুস্পষ্ট পরিকল্পনা থাকতে হবে;

*কেন সুইডেনে পড়তে চান এবং নির্বাচিত মাস্টার্স প্রোগ্রাম কীভাবে ভবিষ্যৎ পেশাগত লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করবে, তা আবেদনে তুলে ধরতে হবে;

*সুইডেনে স্থায়ী বসবাসের অনুমতিপত্র রয়েছে কিংবা ইতোমধ্যে দেশটিতে পড়াশোনা করছেন, এমন আবেদনকারীরা বৃত্তির জন্য অযোগ্য হতে পারেন।

প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

*সুইডিশ ইনস্টিটিউটের নির্ধারিত ফরম্যাটে জীবনবৃত্তান্ত (সিভি);

*কর্ম-অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বের প্রমাণপত্র;

*নির্ধারিত ফরম্যাটে দুটি রেফারেন্স লেটার;

*বৈধ পাসপোর্ট অথবা জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি;

আরও পড়ুন: সুইজারল্যান্ডে ফুল ফান্ডেড স্কলারশিপ ২০২৭, আবেদন শেষ ১ ডিসেম্বর

*সুইডেনের বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদনের পর পাওয়া আট সংখ্যার পারসোনাল অ্যাপ্লিকেশন নম্বর।

* আইএলটিএস/টোফেল সার্টিফিকেট (যদি থাকে)

রেফারেন্স লেটার দুটি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির স্বাক্ষর এবং প্রতিষ্ঠানের অফিসিয়াল সিলসহ জমা দিতে হবে। প্রতিষ্ঠানের সিল না পাওয়া গেলে নোটারির সিল ব্যবহার করা যেতে পারে। চিঠি দুটি স্ক্যান করে একটি পিডিএফ ফাইলে যুক্ত করতে হবে। এ ছাড়া সিভি সর্বোচ্চ তিন পৃষ্ঠার মধ্যে রাখতে হবে। সিভি, কর্ম-অভিজ্ঞতার প্রমাণপত্র ও রেফারেন্স লেটারের ক্ষেত্রে সুইডিশ ইনস্টিটিউটের নির্ধারিত ফরম্যাট ব্যবহার বাধ্যতামূলক।

আবেদনপ্রক্রিয়া

আবেদন করতে হবে দুই ধাপে। প্রথমে University Admissions ওয়েবসাইটে গিয়ে সুইডেনের অনুমোদিত মাস্টার্স প্রোগ্রামে আবেদন করতে হবে। একজন আবেদনকারী সর্বোচ্চ চারটি প্রোগ্রামে আবেদন করতে পারবেন। তবে অন্তত একটি প্রোগ্রাম সুইডিশ ইনস্টিটিউটের বৃত্তির জন্য অনুমোদিত তালিকায় থাকতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদনের জন্য প্রায় ৯০০ সুইডিশ ক্রোনা ফি দিতে হবে। আবেদন শেষে পাওয়া আট সংখ্যার পারসোনাল অ্যাপ্লিকেশন নম্বরটি সংরক্ষণ করতে হবে।

এরপর ২০২৭ সালের ৯ থেকে ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সুইডিশ ইনস্টিটিউটের ওয়েবসাইটে বৃত্তির জন্য আবেদন করতে হবে। এ সময় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও পারসোনাল অ্যাপ্লিকেশন নম্বর জমা দিতে হবে। ভুল নম্বর দিলে আবেদন বাতিল হতে পারে। তাই আবেদন করার সময় সতর্ক থাকতে হবে।

২০২৭ সালের মার্চের শেষ দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ফল এবং আনুমানিক ২৩ এপ্রিল বৃত্তির ফল প্রকাশিত হতে পারে। নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা শুরু হবে ২০২৭ সালের সেপ্টেম্বরে।

আবেদনের সময়সীমা: বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদনের শেষ তারিখ ১৫ জানুয়ারি ২০২৭।

বৃত্তির আবেদনের শেষ তারিখ: ৯ থেকে ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৭ পর্যন্ত।

মন্তব্য (0)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!