বিশ্বকাপের ফাইনাল শেষে হাতাহাতির ঘটনায় আর্জেন্টিনার দুই ফুটবলার লিয়ান্দ্রো পারেদেস, নাহুয়েল মলিনা ও থিয়াগো আলমাদাকে মোট ১৮ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ফিফা। এর মধ্যে স্পেনের খেলোয়াড়দের গলা চেপে ধরা ও ধাক্কা দেওয়ার অভিযোগে পারেদেসকে সর্বোচ্চ ১০ ম্যাচ নিষিদ্ধ ও ৯০ হাজার ডলার জরিমানা করা হয়েছে। একই ঘটনায় মলিনা ৭ ম্যাচ এবং আলমাদা পেয়েছেন ১ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা। তবে ফিফার এই শাস্তিকে ‘স্পষ্টতই অতিরিক্ত’ দাবি করে আপিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ)।
আরও পড়ুনঃ বাবাকে হারানোর পর প্রথম গোল করলেন মেসি
এছাড়া একই ঘটনায় আর্জেন্টিনার সহকারী কোচ রবের্তো আয়ালাকে ৩ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা ও ৩০ হাজার ডলার জরিমানা করেছে ফিফা। এএফএর আইনি উপদেষ্টা আন্দ্রেস পাটোন উরিচের মতে, পারেদেসের এই শাস্তি তাঁর কাজের তুলনায় অতিরিক্ত।
ডি স্পোর্টস রেডিওকে উরিচ বলেছেন, ‘পারেদেসের নিষেধাজ্ঞার সঙ্গে যদি ২০১৪ সালে সুয়ারেজের ঘটনাটির তুলনা করেন, প্রতিপক্ষকে কামড় দেওয়ার পরও সে ৯ ম্যাচ নিষিদ্ধ হয়েছিল। অথচ পারেদেস পেয়েছে ১০ ম্যাচ। আমাদের মতে, আরও গুরুতর কিছু ঘটনার ক্ষেত্রেও একই বা কম শাস্তি হয়েছে।’
উরিচ আরও বলেন, এক ইউরোপীয় ফুটবলার নাৎসি প্রতীক প্রদর্শন করে ১০ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা পেয়েছিলেন। এ ধরনের পুরোনো নজিরগুলো পারেদেসের শাস্তির মাত্রাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
এ বিষয়ে উরিচের কথা, ‘আমরা ভিডিওগুলো ফ্রেম ধরে ধরে দেখেছি। আমাদের ধারণা ছিল, শাস্তি এর চেয়ে কম হওয়া উচিত ছিল। পারেদেস ও মলিনার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা স্পষ্টতই অতিরিক্ত।’
আরও পড়ুনঃ ফাইনালে কি সত্যিই কিছু ঘটেছিল, ১ মাস পর ভিডিও বার্তায় যা জানাল আর্জেন্টিনা
আলমাদার ১ ম্যাচের শাস্তির বিরুদ্ধে আপিলের সুযোগ নেই। তাই পারেদেস, মলিনা ও আয়ালার শাস্তি কমানোর দিকেই নজর দিচ্ছে এএফএ। সংস্থাটি এখন ফিফার সিদ্ধান্তের পূর্ণাঙ্গ কারণ জানতে চাইবে।
আপিল কমিশন শাস্তি বহাল রাখলে কোর্ট অব আরবিট্রেশন ফর স্পোর্টসে (সিএএস) যাওয়ার কথা ভাবছে আর্জেন্টিনা। এর আগে ২০১৮ বিশ্বকাপ বাছাইয়ে মেসির ৪ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা আপিলে পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হয়েছিল। সেই নজিরে এবারও শাস্তি কমানোর আশা করছে এএফএ।

