বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হারের পর ড্রেসিংরুম ও দলের পারফরম্যান্স ঘিরে ওঠা নানা ষড়যন্ত্র-তত্ত্ব ও গুঞ্জনের জবাবে এক ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেছে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ)। ফাইনালের এক মাস পূর্তিতে প্রকাশিত এই ভিডিওতে 'কিছু একটা ঘটেছিল' সংক্রান্ত সব অপপ্রচার উড়িয়ে দিয়ে দলীয় সংহতি ও ঘুরে দাঁড়ানোর জোরালো বার্তা দেওয়া হয়েছে।
এএফএর প্রকাশিত অফিশিয়াল ভিডিওটির নেপথ্য ধারাভাষ্যে ফাইনালের গুঞ্জন প্রসঙ্গে বলা হয়, ‘এক মাস আগে কিছু একটা ঘটেছিল। অনেকেই চায়নি সেটা ঘটুক, কিন্তু সেটাই ঘটল। আর্জেন্টিনা আরেকটি ফাইনালে খেলল। যদিও অনেকে এটা এড়িয়ে যেতে চান। আমরা প্রতিটি ম্যাচের মোড় ঘুরিয়েছি। ইংল্যান্ডকে সেমিফাইনালে বিদায় করে ইতিহাস গড়েছি।’
আরও পড়ুনঃ ইসলাম ধর্ম গ্রহণ নিয়ে গুঞ্জন, মুখ খুললেন ব্রাজিলের কিংবদন্তি রবার্তো কার্লোস
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো ‘আর্জেন্টিনাবিরোধী প্রচারণা’র কড়া জবাব দিয়ে এএফএ তাদের বিবৃতিতে স্পষ্ট জানায়, ‘সব ধরনের আর্জেন্টিনাবিরোধী প্রচারণা সত্ত্বেও আমরা ঠিকই ফাইনালে পৌঁছেছিলাম। তাই কেউ যখন বলবে, কিছু একটা ঘটেছিল, শুধু বলবেন, হ্যাঁ। আসলে যা ঘটেছিল তা হলো, একটি দল জেতার জন্য সবকিছু উজাড় করে দিয়েছিল। তারা শেষ পর্যন্ত লড়েছে, কখনো হাল ছাড়েনি। সবকিছু জেতার পরও এই দফায় তাদের হেরে যেতে হয়েছে।’
ভিডিওর শেষ অংশে রানার্সআপ পদক গ্রহণের পর অধিনায়ক লিওনেল মেসির কান্নার দৃশ্য তুলে ধরে নেপথ্য কণ্ঠে যোগ করা হয়, ‘আমাদের অধিনায়কের কান্না আমাদের আরেকবার শিখিয়ে দিয়েছে যে আপনি হারতে বা জিততে পারেন; কিন্তু যা-ই ঘটুক না কেন, কখনোই হাল ছাড়া যাবে না।’
অন্যদিকে, এক মাস পূর্তিতে পৃথক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বার্তায় এএফএ সভাপতি ক্লদিও তাপিয়া এসব ষড়যন্ত্র-তত্ত্বকে ‘নিকৃষ্ট প্রচারণা’ ও মেটলাইফ স্টেডিয়ামের ফাইনাল শেষে চালানো ‘জঘন্য অপচেষ্টা’ হিসেবে উল্লেখ করেন। অপপ্রচারকারীদের সমালোচনা করে তাপিয়া বলেন, ‘মজার ব্যাপার হলো, এক মাস পার হয়ে গেলেও কেউ ক্ষমা চায়নি। তাদের কেউ সামনে এসে বলেনি, “আমরা ভুল ছিলাম।” কারও মধ্যে সততা, মর্যাদা বা দায় নেওয়ার মতো সাহসটুকুও ছিল না।’
আরও পড়ুনঃ বয়সভিত্তিক ক্রিকেটারদের নিয়ে ‘গেম ডেভেলপমেন্ট ট্রফি’ আয়োজন করছে বিসিবি
খেলোয়াড়দের নিবেদনের ওপর জোর দিয়ে সংবাদমাধ্যম ও সমালোচকদের বিদ্ধ করে তিনি আরও লেখেন, ‘আমাদের খেলোয়াড়েরা যখন মাঠে নিজেদের উজাড় করে দিচ্ছিলেন, তখন বাইরের কিছু মানুষ ঠিক উল্টো কাজটাই করছিল। তারা ঘৃণা ছড়াচ্ছিল, বিভাজন তৈরি করছিল, কালিমা লেপন করছিল। কোটি মানুষের শ্রদ্ধা অর্জন করা একটি জাতীয় দলের ভাবমূর্তি ধ্বংস করার চেষ্টা করছিল তারা।’
মিথ্যা রটানো ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনার হুঙ্কার দিয়ে বিসিবি সভাপতির মতো শক্ত অবস্থান নিয়ে এএফএ প্রধান শেষ করেন, ‘চুপ করে থাকাটা সমাধান নয়। সময় বয়ে যাওয়ার অপেক্ষা করাও যথেষ্ট নয়। বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে এমন ভান করাও চলবে না যেন কিছুই বলা হয়নি।’ তিনি যোগ করেন, ‘জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের দেশদ্রোহী বলার পর আর পেছনে ফেরার উপায় থাকে না। যাঁরা নিজেদের সবকিছু উজাড় করে দিয়েছেন, তাঁদের কাউকে কোনো ব্যাখ্যা দিতে হবে না। ব্যাখ্যা দিতে হবে তাঁদের, যাঁরা মিথ্যা বলেছেন।’

